জ্বলন্ত একটি মোমবাতির সামনে যদি বক্র কাচের গ্লাস ধরা হয়, তবে গ্লাসের বক্রতার কারণে মোমবাতির আলো বেঁকে যায়। ফলে শিখাটি বড় একটি বলয় বা বৃত্তের মতো প্রতিভাত হয়। এই সাধারণ দৃশ্য থেকেই মহাকাশের এক বিস্ময়কর বৈজ্ঞানিক ধারণা বোঝা যায়—যাকে বলা হয় মহাকর্ষীয় লেন্সিং।

মহাকাশে কোনো গ্যালাক্সি বা বিশাল ভরসম্পন্ন বস্তু থাকলে সাধারণ আপেক্ষিকতা তত্ত্ব অনুযায়ী তার চারপাশের স্থান ও সময় বেঁকে যায়। সেই বক্র পথে আলো চলার সময় আলোকরশ্মিও বেঁকে যায়। ফলে দূরের কোনো গ্যালাক্সির আলো সামনে থাকা ভারী গ্যালাক্সির চারপাশে ধনুকাকৃতি বা নিখুঁত বৃত্তের মতো দেখা যায়। এই বৃত্তকে বলা হয় আইনস্টাইন রিং। এটি কোনো বিভ্রম নয়—বরং মহাবিশ্ব নিজেই আলোর গতিপথকে পরিবর্তন করে।
সম্প্রতি ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা-এর ইউক্লিড টেলিস্কোপ মহাবিশ্বের বিপুল পরিমাণ ছবি ও তথ্য প্রকাশ করেছে। এসব ছবির মধ্যে লুকিয়ে থাকা মহাকর্ষীয় লেন্স শনাক্ত করতে এবার বিজ্ঞানীরা সাধারণ মানুষের সহায়তা চাইছেন। এ উদ্দেশ্যে জুনাইভার্স প্ল্যাটফর্মে ‘স্পেস ওয়ার্পস’ নামে একটি নাগরিক বিজ্ঞান প্রকল্প চালু হয়েছে।
এই প্রকল্পে অংশ নিতে কোনো দূরবীক্ষণ যন্ত্র বা বিশেষ বৈজ্ঞানিক ডিগ্রির প্রয়োজন নেই। কেবল মনোযোগ দিয়ে ছবির ভেতরে অস্বাভাবিকভাবে বেঁকে যাওয়া আলোর রেখা বা বৃত্তাকার গঠন শনাক্ত করলেই হবে। এভাবে সাধারণ মানুষের সহায়তায় বিজ্ঞানীরা হাজার হাজার মহাকর্ষীয় লেন্স খুঁজে পেতে পারেন।
মহাকর্ষীয় লেন্স গ্যালাক্সির ভর নির্ণয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, বিশেষত ডার্ক ম্যাটার—যা সরাসরি দেখা যায় না। এ গবেষণার মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা জানতে চান, মহাবিশ্ব কীভাবে গড়ে উঠেছে এবং ডার্ক এনার্জি কীভাবে মহাবিশ্বের সম্প্রসারণকে ত্বরান্বিত করছে।
এই মহাজাগতিক অনুসন্ধানে আপনিও ঘরে বসে অংশ নিতে পারেন। প্রয়োজন শুধু কৌতূহল ও তীক্ষ্ণ দৃষ্টি—তাহলেই আপনি হয়ে উঠতে পারেন মহাবিশ্ব গবেষণার এক ক্ষুদ্র কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


