দীর্ঘদিন ধরে বিজ্ঞানীদের ধারণা ছিল যে আমাদের ছায়াপথ আকাশগঙ্গার কেন্দ্রস্থলে একটি বিশাল ব্ল্যাকহোল রয়েছে। তবে নতুন একটি গবেষণা এই প্রচলিত ধারণাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। গবেষণায় বলা হচ্ছে, সেখানে ব্ল্যাকহোলের পরিবর্তে অত্যন্ত ঘন ডার্ক ম্যাটারের একটি কেন্দ্রীয় অংশ (কোর) থাকতে পারে।

গবেষকদের মতে, এই ঘন ডার্ক ম্যাটারই গ্যালাক্সির কেন্দ্রের নক্ষত্রগুলোর অস্বাভাবিক দ্রুত গতিতে ঘোরার কারণ হতে পারে। শুধু কেন্দ্র নয়, পুরো আকাশগঙ্গার ঘূর্ণনগতিও এই ডার্ক ম্যাটার কাঠামোর মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা সম্ভব।
গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে মান্থলি নোটিসেস অব দ্য রয়্যাল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটি নামের বিজ্ঞান সাময়িকীতে। এতে বলা হয়েছে, খুব ছোট কিন্তু অত্যন্ত ঘন একটি ডার্ক ম্যাটার কোর গ্যালাক্সির ভেতরের নক্ষত্রগুলোর গতি এবং সামগ্রিক ঘূর্ণন—দুটোই ব্যাখ্যা করতে সক্ষম।
এতদিন বিজ্ঞানীরা মনে করতেন আকাশগঙ্গার কেন্দ্রে থাকা ‘স্যাজিটেরিয়াস এ*’ একটি সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাকহোল, যার ভর সূর্যের তুলনায় প্রায় ৪০ লাখ গুণ বেশি। এর চারপাশে ঘোরা ‘এস-স্টার’ নামের নক্ষত্রগুলোর দ্রুত গতিই এই ধারণার ভিত্তি তৈরি করেছিল।
কিন্তু নতুন গবেষণায় ভিন্ন ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। গবেষকরা বলছেন, ফার্মিওনিক ডার্ক ম্যাটারের একটি মডেল ব্যবহার করে ব্ল্যাকহোল ছাড়াই এই নক্ষত্রগুলোর গতি ব্যাখ্যা করা সম্ভব।
গবেষণার সহ-লেখক ড. কার্লোস আরগুয়েলেস জানিয়েছেন, এই মডেলটি একসঙ্গে গ্যালাক্সির বড় পরিসরের ঘূর্ণন এবং কেন্দ্রের নক্ষত্রগুলোর গতিবিধি ব্যাখ্যা করতে সক্ষম—যা আগে সম্ভব বলে ভাবা হতো না।
তাঁর মতে, ডার্ক ম্যাটার শুধু হ্যালো আকারে নয়, বরং গ্যালাক্সির কেন্দ্রে ঘন কোর হিসেবেও থাকতে পারে, যা পুরো কাঠামোর ওপর প্রভাব ফেলে।
গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, এই ঘন ডার্ক ম্যাটার কোর আলোকে এমনভাবে বাঁকাতে পারে যে মাঝখানে অন্ধকার অঞ্চল এবং চারপাশে উজ্জ্বল বলয়ের মতো দৃশ্য তৈরি হয়, যা আগের কিছু পর্যবেক্ষণের সঙ্গে মিলে যায়।
গবেষকদের ধারণা যদি ভবিষ্যতে প্রমাণিত হয়, তাহলে আকাশগঙ্গার গঠন ও বিবর্তন নিয়ে প্রচলিত অনেক ধারণাই বদলে যেতে পারে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


