এআই এখন সংগীত জগতেও বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। আগে গান তৈরি করতে স্টুডিও, বাদ্যযন্ত্র এবং পেশাদার সংগীতশিল্পীর প্রয়োজন হতো। কিন্তু এখন মাত্র কয়েক মিনিটেই মোবাইল বা কম্পিউটারের মাধ্যমে সম্পূর্ণ গান তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে। বিশেষ করে এআই মিউজিক অ্যাপ ব্যবহার করে যে কেউ সহজেই গান বানাতে পারছে।

এআই দিয়ে গান তৈরির মূল বিষয় হলো, ব্যবহারকারী শুধু একটি ধারণা বা বিষয় ইনপুট দেন। এরপর এআই সেই তথ্য বিশ্লেষণ করে লিরিক, সুর এবং অনেক ক্ষেত্রে কৃত্রিম কণ্ঠসহ সম্পূর্ণ গান তৈরি করে দেয়। যেমন, কেউ যদি ‘একটি রোমান্টিক বিচ্ছেদের গান’ লেখে, তাহলে এআই সেই আবেগ অনুযায়ী গান তৈরি করে দেয়।
বর্তমানে জনপ্রিয় কিছু এআই মিউজিক টুলের মধ্যে রয়েছে শুনো এআই (Suno AI)। এসব অ্যাপ ব্যবহার করে খুব সহজেই বিভিন্ন ধরনের গান তৈরি করা যায়। এআই দিয়ে গান বানানোর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এর জন্য সংগীত সম্পর্কে গভীর জ্ঞান থাকা প্রয়োজন হয় না। অল্প সময়েই প্রফেশনাল মানের গান তৈরি করা সম্ভব হয়, যা কনটেন্ট তৈরি বা ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য খুবই উপযোগী।
তবে এর কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। অনেক সময় মানুষের মতো আবেগ পুরোপুরি প্রকাশ পায় না এবং কিছু ফিচার শুধুমাত্র ফ্রি সংস্করণে সীমিত থাকে।
এআই অ্যাপ দিয়ে গান তৈরির প্রক্রিয়া সাধারণত কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হয়। প্রথমে ব্যবহারকারী একটি অ্যাপ খুলে। এরপর তিনি কোন ধরনের গান চান—পপ, র্যাপ, রোমান্টিক, লোফাই বা অন্য কোনো ধরন—তা নির্বাচন করেন। তারপর চাইলে নিজের লেখা লিরিক ইনপুট দেওয়া যায়, অথবা শুধু একটি থিম দিলেই এআই নিজে থেকেই লিরিক তৈরি করে।
এরপর এআই সেই ইনপুট অনুযায়ী সুর তৈরি করে, ব্যাকগ্রাউন্ড বিট যোগ করে এবং অনেক ক্ষেত্রে কৃত্রিম কণ্ঠ ব্যবহার করে গান পরিবেশন করে। কিছু অ্যাপে আবার কণ্ঠের ধরন, বাদ্যযন্ত্র ও বিট পরিবর্তনের সুযোগও থাকে, ফলে ব্যবহারকারী নিজের মতো করে গান কাস্টমাইজ করতে পারেন।
সবশেষে তৈরি গানটি প্রিভিউ করে পছন্দ হলে এমপি৩ বা ভিডিও আকারে ডাউনলোড করা যায়। পরে এই গান ইউটিউব, ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ব্যবহার করা সম্ভব।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


