মানুষ স্বভাবগতভাবেই দুর্বল। তাই ভুল-ত্রুটি বা গুনাহ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত থাকা কারও পক্ষেই সম্ভব নয়। মানুষের ভেতরে কামনা-বাসনা, রাগ, হিংসা ও নানা প্রবৃত্তি কাজ করে। এসব কারণেই মানুষ কখনো না কখনো ভুলের পথে পা বাড়ায়।

ইসলাম মানুষের এই স্বাভাবিক দুর্বলতাকে অস্বীকার করেনি; বরং ভুলের পর সংশোধনের সুন্দর পথ দেখিয়েছে। মুহাম্মদ বলেছেন, ‘আদম সন্তানের প্রত্যেকেই ভুলকারী। মানুষ স্বভাবগতভাবেই দুর্বল। তাই ভুল-ত্রুটি বা গুনাহ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত থাকা কারও পক্ষেই সম্ভব নয়। মানুষের ভেতরে কামনা-বাসনা, রাগ, হিংসা ও নানা প্রবৃত্তি কাজ আর ভুলকারীদের মধ্যে সর্বোত্তম হলো তারা, যারা বেশি তাওবা করে।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২৪৯৯)।
এই হাদিসের মাধ্যমে বোঝা যায়, ভুল হওয়া মানবীয় স্বভাব; তবে ভুলের পর অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর দিকে ফিরে আসাই একজন প্রকৃত মুমিনের পরিচয়।
গুনাহ মানুষের অন্তরকে কালিমালিপ্ত করে দেয়। প্রতিটি পাপ হৃদয়ের ওপর একটি কালো দাগ ফেলে। যদি মানুষ তাওবা না করে, তাহলে সেই দাগ ধীরে ধীরে হৃদয়কে কঠিন ও অন্ধকারাচ্ছন্ন করে তোলে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তারা যা করে, তা-ই তাদের অন্তরের ওপর মরিচা ধরিয়ে দেয়।’ (সুরা মুতাফফিফিন : ১৪)।
অর্থাৎ গুনাহ মানুষের অন্তরের পবিত্রতা নষ্ট করে দেয়। তবে এর প্রতিকারও রয়েছে। তাওবা, নেক আমল ও আল্লাহর স্মরণ মানুষের হৃদয়কে আবার আলোকিত করতে পারে। তাই কোনো গুনাহ হয়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গে ভালো কাজ করা উচিত। কারণ সৎকর্ম পাপের প্রভাব মুছে দেয়।
আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই সৎকর্ম অসৎকর্মকে দূর করে দেয়।’ (সুরা হুদ : ১১৪)।
মুহাম্মদ আরও বলেন, ‘তুমি যেখানেই থাক, আল্লাহকে ভয় করো। কোনো মন্দ কাজ করে ফেললে তার পরে একটি ভালো কাজ করো, তা সেই মন্দ কাজকে মুছে দেবে। আর মানুষের সঙ্গে উত্তম আচরণ করো।’ (তিরমিজি, হাদিস : ১৯৮৭)।
এই হাদিসে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা রয়েছে—
-সব অবস্থায় আল্লাহভীতি অবলম্বন করা
-গুনাহের পর নেক আমল করা
-মানুষের সঙ্গে উত্তম আচরণ বজায় রাখা
গুনাহের পর ভালো কাজ করার অন্যতম উপকার হলো আত্মশুদ্ধি। মানুষ যখন নিজের ভুল বুঝতে পারে এবং নেক আমলের মাধ্যমে তা সংশোধনের চেষ্টা করে, তখন তার হৃদয় ধীরে ধীরে পরিশুদ্ধ হয়। গুনাহ যে অন্ধকার সৃষ্টি করে, সৎকর্ম তা দূর করে হৃদয়ে নূরের সঞ্চার ঘটায়। এতে মানুষ আবার আল্লাহর দিকে ফিরে আসার শক্তি লাভ করে এবং তার চরিত্র আরও সুন্দর হয়ে ওঠে।
গুনাহের পর যেসব আমল দ্রুত করা উচিত—
১. আন্তরিক তাওবা করা
আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা সবাই আল্লাহর কাছে তাওবা করো, যাতে সফল হতে পারো।’ (সুরা নুর : ৩১)।
২. দুই রাকাত নফল সালাত আদায় করা
মুহাম্মদ বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো গুনাহ করার পর ভালোভাবে অজু করে দুই রাকাত নামাজ পড়ে এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা চায়, আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেন।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ১৫২১)।
৩. দান-সদকা করা
দান-সদকা গুনাহ দূর করার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘সদকা গুনাহকে এমনভাবে নিভিয়ে দেয়, যেমন পানি আগুন নিভিয়ে দেয়।’ (নাসায়ি, হাদিস : ৪২০৮)।
৪. বেশি বেশি ইস্তিগফার করা
আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল।’ (সুরা নুহ : ১০)।
৫. মানুষের সঙ্গে সুন্দর আচরণ করা
উত্তম চরিত্রও গুনাহ মোচনের একটি বড় মাধ্যম। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘মানুষের সঙ্গে উত্তম আচরণ করো।’ (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ২১৩৯২)।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



