পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমরাই সর্বোত্তম উম্মত, মানবজাতির কল্যাণের জন্য তোমাদের নির্বাচন করা হয়েছে। তোমরা সৎকাজের আদেশ দেবে, অসৎকাজ থেকে মানুষকে বিরত রাখবে এবং আল্লাহর প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস রাখবে’ (সুরা আলে ইমরান: ১১০)।

এই আয়াতে উম্মতে মুহাম্মাদির মর্যাদা ও দায়িত্ব উভয়ই স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। মুসলমানদের শ্রেষ্ঠত্ব কোনো মানবিক সিদ্ধান্ত বা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অর্জিত হয়নি; বরং আল্লাহ নিজেই তাদের এই মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছেন। তবে এই সম্মান ধরে রাখার জন্য তিনটি মৌলিক দায়িত্ব পালন করতে হবে—সৎকাজের আদেশ, অসৎকাজ থেকে নিষেধ এবং আল্লাহর প্রতি অবিচল বিশ্বাস।
ইসলামে ভালো কাজের প্রচার ও মন্দ কাজের প্রতিরোধ শুধু ব্যক্তিগত দায়িত্ব নয়, এটি একটি সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্বও। প্রত্যেক মুসলমানকে নিজের অবস্থান থেকে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে কথা বলতে হবে। একই সঙ্গে সমাজে এমন একটি সংগঠিত শক্তি থাকতে হবে, যা মানুষকে কল্যাণের পথে আহ্বান করবে এবং অন্যায় থেকে বিরত রাখবে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে এমন একটি দল থাকা উচিত, যারা কল্যাণের দিকে আহ্বান করবে, সৎকাজের নির্দেশ দেবে এবং অসৎকাজে বাধা দেবে’ (সুরা আলে ইমরান: ১০৪)।
মুফাসসিরদের মতে, এটি কোনো সাধারণ পরামর্শ নয়; বরং ফরজ নির্দেশ। শুধু উম্মতে মুহাম্মাদির জন্য নয়, পূর্ববর্তী জাতিগুলোর ওপরও একই দায়িত্ব ছিল। কিন্তু তারা এ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছিল। কোরআনে উল্লেখ রয়েছে, বনি ইসরাইলের অনেকেই অভিশপ্ত হয়েছিল, কারণ তারা একে অপরকে অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাখেনি (সুরা মায়েদাহ: ৭৮-৭৯)।
অন্যায় দেখে নীরব থাকা সমাজের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। যখন মানুষ জুলুম, দুর্নীতি ও অনৈতিকতা দেখে চুপ থাকে, তখন সমাজ ধীরে ধীরে নৈতিক অবক্ষয়ের দিকে এগিয়ে যায়। বাহ্যিকভাবে ধর্মীয় অনুশীলন থাকলেও ভেতরে ভেতরে সমাজ দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই অন্যায় দেখলে সামর্থ্য অনুযায়ী প্রতিবাদ করা এবং অন্তত অন্তরে তা ঘৃণা করা একজন মুমিনের দায়িত্ব।
এই দায়িত্ব পালনে আলেমসমাজের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সাধারণ মানুষ তাদের অনুসরণ করে। কোরআনে আল্লাহ সেই ধর্মীয় নেতাদের সমালোচনা করেছেন, যারা অন্যায় ও হারাম কাজ থেকে মানুষকে বিরত রাখেন না (সুরা মায়েদাহ: ৬২-৬৩)।
প্রকৃতপক্ষে, জ্ঞানীদের নীরবতাই অনেক সময় সমাজ ধ্বংসের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়। যখন অন্যায়ের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলে না, তখন তরুণরা বিপথে যায়, দুর্নীতি সমাজে স্বাভাবিক হয়ে ওঠে এবং দায়িত্বহীনতা সংস্কৃতিতে পরিণত হয়। ফলে সমাজ বাইরে থেকে শক্তিশালী মনে হলেও ভেতরে ভেতরে দুর্বল হয়ে পড়ে। আর কোনো সংকট বা দুর্যোগ এলে সেই দুর্বলতার প্রকৃত চিত্র প্রকাশ পায়।
তাই ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ—সব পর্যায়ে সৎকাজের প্রসার এবং অসৎকাজের প্রতিরোধে সক্রিয় ভূমিকা পালন করা প্রত্যেক মুসলমানের কর্তব্য। এভাবেই উম্মতে মুহাম্মাদি তার মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব অটুট রাখতে সক্ষম হবে।
— মাওলানা সেলিম হোসাইন আজাদী
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



