গ্রীষ্মকালে গাড়ি চালানোর সময় বেশিরভাগ মানুষ ইঞ্জিনের কর্মক্ষমতা, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কার্যকারিতা বা জ্বালানি ব্যবহারের দিকে বেশি মনোযোগ দেন। কিন্তু একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অনেক সময়ই উপেক্ষিত থেকে যায়—টায়ারের সঠিক বায়ুচাপ। অথচ এই একটি বিষয়ই সরাসরি সম্পর্কিত আপনার নিরাপত্তা, গাড়ির নিয়ন্ত্রণ এবং টায়ারের স্থায়িত্বের সঙ্গে।

প্রচণ্ড গরমে শুধু বাতাসই নয়, রাস্তার পৃষ্ঠও অত্যন্ত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এর ফলে টায়ারের ভেতরের বাতাস প্রসারিত হয় এবং চাপ স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে যেতে পারে। যদি সকালে টায়ারে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি বাতাস দেওয়া থাকে, তবে দিনের তাপে তা আরও বৃদ্ধি পায়। এতে টায়ার শক্ত হয়ে যায়, রাস্তার সঙ্গে এর গ্রিপ কমে যায় এবং হঠাৎ ব্রেক করলে গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
অন্যদিকে, টায়ারে বাতাস কম থাকলেও ঝুঁকি কম নয়। কম চাপের কারণে টায়ারের বড় অংশ রাস্তার সঙ্গে ঘষা খায়, ফলে ঘর্ষণ বৃদ্ধি পায়। এতে টায়ার দ্রুত গরম হয়ে ক্ষয়প্রাপ্ত হতে শুরু করে এবং দীর্ঘ দূরত্বের যাত্রা বা মহাসড়কে চলার সময় টায়ার ফেটে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
সঠিক বায়ুচাপ না থাকলে গাড়ির জ্বালানি ব্যবহারের ওপরও প্রভাব পড়ে। কম বাতাসের কারণে ইঞ্জিনকে বেশি শক্তি খরচ করতে হয়, ফলে জ্বালানি বেশি লাগে। তাই প্রতিটি গাড়ির জন্য নির্ধারিত টায়ার চাপ মেনে চলা জরুরি, যা সাধারণত গাড়ির দরজার পাশে থাকা স্টিকার বা ব্যবহার নির্দেশিকায় উল্লেখ থাকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, টায়ারের চাপ সবসময় ঠান্ডা অবস্থায় মাপা উচিত—অর্থাৎ সকালে বা গাড়ি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর। কারণ চলন্ত অবস্থায় টায়ার গরম হয়ে যায় এবং তখন সঠিক পরিমাপ পাওয়া যায় না। সাধারণভাবে গরমকালে ২৮ থেকে ৩৪ পিএসআই-এর মধ্যে চাপ রাখা নিরাপদ ধরা হলেও, সর্বোত্তম হলো গাড়ি নির্মাতার নির্দেশনা অনুসরণ করা।
আরও পড়ুন: বাইরের শব্দ কমিয়ে দেয় এমন নতুন হেডফোন বাজারে
শুধু বায়ুচাপ ঠিক রাখলেই হবে না, টায়ারের সামগ্রিক অবস্থার দিকেও নজর দেওয়া জরুরি। টায়ারের খাঁজ বা ট্রেড বেশি ক্ষয় হয়ে গেলে রাস্তার সঙ্গে এর আঁকড়ে ধরার ক্ষমতা কমে যায়, বিশেষ করে ভেজা রাস্তায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, দীর্ঘ সময় রোদে গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকলে টায়ারের রাবার আগে থেকেই উত্তপ্ত হয়ে থাকে। এই অবস্থায় ভুল চাপ দিলে টায়ারের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে, যা হঠাৎ ফেটে যাওয়ার মতো বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।
আরও পড়ুন
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


