ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন জানিয়েছেন, দায়িত্ব পালনের পুরো সময়জুড়ে স্বচ্ছতা ও সততার সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি। গত প্রায় দুই বছরে হজের বিমান ভাড়া ধাপে ধাপে ৪০ হাজার টাকা কমানো ধর্ম মন্ত্রণালয়ের একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন বলে মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি জানান, গত বছর যেমন সরকারি ব্যয়ে কাউকে হজে পাঠানো হয়নি, চলতি বছরও তেমন কোনো উদ্যোগ নেই। এ বছর হজযাত্রীরা মোট তিন কোটির বেশি টাকা ফেরত পাবেন।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন ধর্ম উপদেষ্টা। তিনি দাবি করেন, হজের সার্বিক প্রস্তুতি এখন পর্যন্ত সন্তোষজনক এবং মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে ৯৫ শতাংশ সফলতা অর্জিত হয়েছে।
ড. খালিদ হোসেন বলেন, গত দেড় বছর তিনি জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা ও সততার ভিত্তিতে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেছেন। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং এর অধীন দপ্তর ও সংস্থাগুলোকে আরও সক্রিয় ও কার্যকর করতে সর্বাত্মক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যেন পেশাদারিত্ব ও সততার সঙ্গে কাজ করতে পারেন, সে জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরির পাশাপাশি উৎসাহ ও প্রেরণা দেওয়া হয়েছে।
জুলাই বিপ্লবের পর হজ ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যৌক্তিক ব্যয়ে হজ পালনের যে জনআকাঙ্ক্ষা ছিল, সেটিকে গুরুত্ব দিয়েই কাজ করা হয়েছে। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে ২০২৫ সালের হজে বিমান ভাড়া প্রায় ২৭ হাজার টাকা কমানো হয়। চলতি বছর তা আরও কমে প্রায় ১৩ হাজার টাকা হয়েছে। ফলে গত দুই বছরে মোট ৪০ হাজার টাকা বিমান ভাড়া হ্রাস সম্ভব হয়েছে, যা একটি বড় সাফল্য।
তিনি আরও জানান, ২০২৪ সালে হজের বিমান ভাড়া ছিল ১ লাখ ৯৪ হাজার ৮০০ টাকা, যা ২০২৬ সালের হজে এসে কমে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫৪ হাজার টাকা। ভবিষ্যতে এই ভাড়া আরও কমানোর চেষ্টা অব্যাহত ছিল বলেও জানান তিনি।
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন, গত বছর সরকারি মাধ্যমে হজ পালনকারীদের খরচ পরিশোধ শেষে উদ্বৃত্ত ৮ কোটি ২৮ লাখ টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ২০১৭ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত হজ এজেন্সিগুলোর অব্যয়িত প্রায় ৩৮ কোটি টাকা, যা সৌদি হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয়ের আইবিএন হিসেবে আটকে ছিল, তা অব্যাহত যোগাযোগের মাধ্যমে ফেরত এনে সংশ্লিষ্ট এজেন্সিগুলোকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
তবে ওয়াকফ প্রশাসন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জটিলতা ও জনবল সংকটের কারণে প্রত্যাশিত সাফল্য অর্জন সম্ভব হয়নি। সারা দেশে বিপুল পরিমাণ ওয়াকফ সম্পদ থাকা সত্ত্বেও এ খাতে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি বলে স্বীকার করেন তিনি।
আরও কিছু সময় দায়িত্বে থাকতে পারলে ওয়াকফ প্রশাসনকে শৃঙ্খলা ও জবাবদিহির আওতায় আনা সম্ভব হতো বলেও মন্তব্য করেন ধর্ম উপদেষ্টা।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


