সমাজবিজ্ঞানে সম্প্রতি পিএইচডি সম্পন্নকারী অথবা পিএইচডি গবেষণারত শিক্ষার্থীদের জন্য দারুণ এক সুযোগ নিয়ে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়। ‘দ্য হার্ভার্ড একাডেমি ফর ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড এরিয়া স্টাডিজ’-এর অধীনে ‘একাডেমি স্কলারস প্রোগ্রাম’-এর জন্য আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে। এই প্রোগ্রামের মাধ্যমে তরুণ ও মেধাবী গবেষকদের আর্থিক ও গবেষণাধর্মী সহায়তা প্রদান করা হবে।

যুক্তরাষ্ট্র বা কানাডার বাইরের কোনো দেশ বা অঞ্চল সম্পর্কে যাদের বিশেষ পারদর্শিতা বা জ্ঞান রয়েছে এবং যারা সমাজবিজ্ঞানে চমৎকার কাজ করছেন, এই প্রোগ্রামের মাধ্যমে তাদের ক্যারিয়ারের শুরুতে সহায়তা করা হয়। নির্বাচিত স্কলাররা ম্যাসাচুসেটসের কেমব্রিজে অবস্থিত হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই বছরের জন্য ‘ইন-রেসিডেন্স’ পোস্ট-ডক্টরাল ফেলোশিপের সুযোগ পাবেন। এখানে তারা হার্ভার্ড একাডেমির সিনিয়র স্কলারদের মেন্টরশিপ পাবেন এবং বিভিন্ন সেমিনার ও ডিনারে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
সুযোগ-সুবিধা ও শর্তাবলি
আর্থিক অনুদান: প্রতি বছর ৫ থেকে ৬ জন গবেষককে এই স্কলারশিপ দেওয়া হয়। দুই বছর মেয়াদি এই ফেলোশিপে প্রতি বছর ৮০ হাজার মার্কিন ডলার স্টাইপেন্ড (বৃত্তি) দেওয়া হবে। এর পাশাপাশি গবেষণার জন্য বছরে আরও ৬ হাজার ডলার অর্থসহায়তা মিলবে।
সময়কাল: ফেলোশিপের প্রথম বছরটি অবশ্যই অফার পাওয়ার পরপরই (শরৎকালে) শুরু করতে হবে। এটি পেছানো বা স্থগিত করার কোনো সুযোগ নেই।
ছুটি: প্রথম ও দ্বিতীয় বছরের মাঝামাঝি সময়ে স্কলাররা চাইলে সর্বোচ্চ ১২ মাসের ছুটি নিতে পারবেন, তবে তা কেবল কোনো ‘টেনিওর-ট্র্যাক’ বা স্থায়ী শিক্ষকতার পদ গ্রহণ বা চালিয়ে যাওয়ার জন্য হতে হবে।
ফেলোশিপ চলাকালে স্কলাররা বাইরের কোনো অর্থায়ন বা পুরস্কার গ্রহণ করতে পারবেন না। তবে তাদের হার্ভার্ডের কোনো ক্লাসে পড়ানোর জন্য আমন্ত্রণ জানানো হতে পারে।
আবেদনের যোগ্যতা
১ আগস্ট ২০২৭ তারিখের আগের দুই বছরের মধ্যে যারা পিএইচডি বা সমমানের ডিগ্রি অর্জন করেছেন অথবা যারা সমাজবিজ্ঞানে অ্যাডভান্সড ডক্টরাল ক্যান্ডিডেট, তারা আবেদন করতে পারবেন। যারা গবেষণাপত্র (Dissertation) জমার দ্বারপ্রান্তে আছেন, তাদের ১ আগস্ট ২০২৭ তারিখে যোগদানের জন্য অবশ্যই ৩০ জুন ২০২৭-এর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অফিস থেকে ডিগ্রি প্রাপ্তির সনদ জমা দিতে হবে। এছাড়া যারা ইতিমধ্যে অন্য কোনো পোস্ট-ডক্টরাল ফেলোশিপ সম্পন্ন করেছেন বা বর্তমানে করছেন, তারা আবেদনের যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন না।
কীভাবে আবেদন করবেন
আবেদনের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি অনলাইনে সম্পন্ন করতে হবে। দ্য হার্ভার্ড একাডেমির ওয়েবসাইটের হোমপেজে গিয়ে ‘APPLY ONLINE’ বাটনে ক্লিক করে আবেদন করা যাবে। আবেদনপত্রের সঙ্গে যা যা জমা দিতে হবে (সব ডকুমেন্ট .pdf ফরম্যাটে হতে হবে):
জীবনবৃত্তান্ত (CV): প্রকাশিত গবেষণা বা প্রকাশনার তালিকাসহ।
গবেষণা প্রস্তাব: সর্বোচ্চ ২০০০ শব্দের মধ্যে। (ফুটনোট বা রেফারেন্স যুক্ত করা যাবে, যা ২০০০ শব্দের হিসেবে ধরা হবে না)।
লেখার নমুনা (Writing Sample): পিএইচডি গবেষণাপত্রের কোনো অধ্যায় বা পিয়ার-রিভিউড জার্নাল আর্টিকেল। এটি অবশ্যই ইংরেজিতে হতে হবে এবং কোনোভাবেই ৫০ পৃষ্ঠার বেশি হওয়া যাবে না।
ট্রান্সক্রিপ্ট: পিএইচডি প্রোগ্রামের প্রাতিষ্ঠানিক ট্রান্সক্রিপ্ট। বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে মাস্টার্স ও পিএইচডি—উভয় পর্যায়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দেওয়া সম্ভাব্য সর্বোচ্চ অফিশিয়াল ডকুমেন্ট জমা দিতে হবে।
রিকমেন্ডেশন লেটার: ৩টি সুপারিশপত্র বা রিকমেন্ডেশন লেটার। আবেদনকারী অনলাইনে আবেদন সাবমিট করার পর রিকমেন্ডারদের কাছে একটি লিংক যাবে, যেখান থেকে তাঁরা সরাসরি এবং গোপনীয়ভাবে এটি আপলোড করবেন।
আবেদনের শেষ সময়: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ১১:৫৯ মিনিট (ইডিটি)।
রিকমেন্ডেশন লেটার জমার শেষ সময়: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
ফলাফল ঘোষণা: ডিসেম্বর ২০২৬।
নির্ধারিত সময়ের পর কোনো আবেদন গ্রহণ করা হবে না। অসম্পূর্ণ আবেদনপত্র বাছাই প্রক্রিয়ায় বাতিল বলে গণ্য হতে পারে। আবেদন সংক্রান্ত যেকোনো প্রশ্নের জন্য যোগাযোগ করা যাবে এই ই-মেইলে: [email protected]।
সূত্র: হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



