মেহেরুন্নেছা রিমা : আমাদের হাত ও কব্জি শরীরের শুধু একটি অঙ্গ নয়; দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি ছোট-বড় কাজের নির্ভরযোগ্য সহচর। সকালে ঘুম থেকে উঠে দাঁত ব্রাশ করা থেকে শুরু করে রান্না করা, কম্পিউটারে কাজ, লেখালিখি, খেলাধুলা কিংবা যে-কোনো সৃজনশীল কাজে হাতের ভূমিকা অপরিসীম। কিন্তু যখন হাতে বা কব্জিতে ব্যথা শুরু হয়, তখন তা শুধু শারীরিক সমস্যায় সীমাবদ্ধ থাকে না; ধীরে ধীরে আমাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রার মানকে উল্লেখযোগ্যভাবে ব্যাহত করে।

ব্যথার কারণ : হাতে বা কব্জিতে ব্যথা হওয়ার কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো হাত বা কব্জির অতিরিক্ত ব্যবহার। আরও কারণগুলো হলো-
আঘাতজনিত ব্যথার লক্ষণ : হাতে বা কব্জিতে আঘাত লাগলে সাধারণত তীব্র ব্যথা, ফোলা ও লালচে ভাব দেখা যায়। হাত নাড়াচাড়ায় সমস্যা হতে পারে এবং গুরুতর ক্ষেত্রে হাড়ের গঠনে বিকৃতিও লক্ষ্য করা যায়।
কারপাল টানেল সিন্ড্রোমের কারণ ও লক্ষণ : দীর্ঘ সময় একটানা কম্পিউটার বা ল্যাপটপে কাজ করা, মাউস ব্যবহারে কব্জির ওপর অতিরিক্ত চাপ, সেলাই, বুনন বা ছবি আঁকার মতো সূক্ষ্ম কাজ, কম্পনযুক্ত যন্ত্রপাতি ব্যবহারের কারণে কারপাল টানেল সিন্ড্রোম হতে পারে। রিউম্যাটয়েড আর্থ্রাইটিস, থাইরয়েড সমস্যা, ডায়াবেটিস, গর্ভাবস্থায় হরমোনজনিত পরিবর্তন, অতিরিক্ত ওজন বা শরীরে তরল জমে যাওয়াও ঝুঁকি বাড়ায়।
অস্টিওআর্থ্রাইটিসের লক্ষণ : হাতে বা কব্জিতে অস্টিওআর্থ্রাইটিস হলে আঙুলের জয়েন্টে ব্যথা, শক্তভাব, নড়াচড়ায় কষ্ট ও ফোলা দেখা যায়। অনেক সময় জয়েন্টে হালকা গাঁট তৈরি হয়, যাকে হেবার্ডেন বা বুশার্ডস নোড বলা হয়। নড়াচড়ার সময় খটখট আওয়াজও হতে পারে।
রিউম্যাটয়েড আর্থ্রাইটিসের লক্ষণ : রিউম্যাটয়েড আর্থ্রাইটিসে সকালে দীর্ঘ সময় ধরে জয়েন্ট শক্ত থাকে, যা ৩০ মিনিট থেকে কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। সাধারণত দুই হাতেই একসঙ্গে ব্যথা ও ফোলা দেখা যায়, জয়েন্ট উষ্ণ ও লালচে হয়ে ওঠে এবং সময়ের সঙ্গে জয়েন্ট বিকৃতি, সাধারণ দুর্বলতা ও ওজন হ্রাস ঘটতে পারে।
কব্জি ব্যথার চিকিৎসা : চিকিৎসার প্রথম ধাপ হলো বিশ্রাম। ব্যথা বাড়ায় এমন কাজ অন্তত ৫-৭ দিন এড়িয়ে চলা উচিত। ভারী কিছু তোলা, মোচড়ানো বা জোরে ধরার কাজ বন্ধ রাখা জরুরি। ব্যথার প্রথম ৪৮-৭২ ঘণ্টা বরফ থেরাপি উপকারী। প্রতিবার ১৫-২০ মিনিট করে দিনে দুই থেকে তিনবার বরফ কাপড়ে মুড়ে ব্যবহার করা যায়। কারপাল টানেল সিন্ড্রোম, টেন্ডিনাইটিস বা স্প্রেইনের ক্ষেত্রে কব্জি সাপোর্ট বাস্পিলন্ট ব্যবহার বেশ কার্যকর। প্রয়োজনে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী প্যারাসিটামল বা এনএসএআইডিএস জাতীয় ব্যথানাশক ওষুধ ব্যবহার করা যেতে পারে।
কব্জি ব্যথায় ফিজিওথেরাপি : ব্যথা কিছুটা কমলে বা তিন থেকে চার দিন পর ধীরে ধীরে ফিজিওথেরাপি শুরু করা যায়। এর মধ্যে রয়েছে রিস্ট ফ্লেক্সন ও এক্সটেনশন স্ট্রেচ, কব্জি ঘোরানো ব্যায়াম, গ্রিপ স্ট্রেন্থেনিং ও কারপাল টানেল সিন্ড্রোমে টেন্ডন গ্লাইডিং এক্সারসাইজ, যা নিয়মিত করলে কার্যকর ফল পাওয়া যায়।
কব্জি ব্যথায় যা এড়িয়ে চলবেন : একই ভঙ্গিতে দীর্ঘ সময় মোবাইল ব্যবহার, হাত ঝুলিয়ে টাইপিং, অতিরিক্ত ভার তোলা, হঠাৎ জোরে কব্জি মোচড়ানো বা বাঁকানো এবং ব্যথার মধ্যেই ভারী ব্যায়াম করা থেকে বিরত থাকা উচিত।
লেখক : ফিজিওথেরাপিস্ট
চেম্বার : আলোক মাদার অ্যান্ড চাইল্ড কেয়ার, মিরপুর-৬, ঢাকা
হটলাইন : ১০৬৭২, ০৯৬১০১০০৯৯৯
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


