মোঃ সোহাগ হাওলাদার : সাভারের আশুলিয়ায় নিজের সাবেক স্বামীর বিচার চাইতে থানায় অভিযোগ দিয়ে উল্টো পুলিশের প্রতারণার শিকার হলেন এক অসহায় ডিভোর্সি নারী।

সাবেক স্বামীর নিকট পাওনা টাকা ও মালামাল উদ্ধার করে দেওয়ার নামে উদ্ধারকৃত টাকার সিংহভাগ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে পুলিশের এক সহকারী উপ-পরিদর্শকের (এএসআই) বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ওই পুলিশ কর্মকর্তা নাম নাজমুল হাসান।
পুলিশের নিকট থেকে নিজের টাকা উদ্ধারে উপায়ন্তর না পেয়ে সাংবাদিকদের সহায়তা চেয়ে এমন অভিযোগ করেন মোছা. রজিনা খাতুন নামের এক ভুক্তভোগী নারী।
এ সময় ভুক্তভোগী নারী মোছা. রজিনা খাতুন জানান, বর্তমানে তিনি আশুলিয়ার বাইপাইল বসুন্ধরা এলাকায় ভাড়া থাকেন। চার বছর আগে টাঙ্গাইল সদর থানার ফতেহপুর গ্রামের মো. রবিন মিয়ার (২৮) সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই রবিন নেশাগ্রস্ত হয়ে তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন। একপর্যায়ে গত ১ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে জোরপূর্বক তালাক দিয়ে রজিনার জমানো টাকায় কেনা মোটরসাইকেল ও আসবাবপত্র আটকে রেখে তাকে বাসা থেকে বের করে দেন রবিন।
উপায়ন্তর না দেখে নিজের কষ্টার্জিত টাকায় কেনা মোটরসাইকেল ও মালামাল ফিরে পেতে আশুলিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন রজিনা। আর সেই অভিযোগের তদন্তের দায়িত্ব পান আশুলিয়া থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) নাজমুল হাসান।
সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) নাজমুল হাসানের প্রতি আক্ষেপ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী রজিনা খাতুন জানান, অভিযোগ দায়েরের পর তিনি অর্থাভাবে পুলিশকে কোনো খরচ দিতে পারেননি। তবে এএসআই নাজমুল তাকে প্রস্তাব দেন যে, তাকে কোন টাকা-পয়সা দেতে হবে না, কিন্তু টাকা উদ্ধার হলে অর্ধেক (৫০/৫০) তাকে দিতে হবে। নিরুপায় হয়ে তিনি এই অন্যায্য শর্তেই রাজি হন।
কিন্তু ঘটনার মোড় নেয় মীমাংসার দিন। রজিনা অভিযোগ, টাকা উদ্ধারের কথা বলে এএসআই নাজমুল মিমাংসার আগের দিনই তাকে থানায় ডেকে সুকৌশলে অনেকটা জোরপূর্বকভাবে একটি মিমাংসা পত্রে স্বাক্ষর নিয়ে নেন। পরের দিন যৌথভাবে বসে মিমাংসার কথা থাকলেও সেদিন ফোন করে তাকে থানায় আসতে বারণ করেন এএসআই নাজমুল এবং এর একদিন পরে তাকে ডেকে নিয়ে হাতে মাত্র ১০ হাজার টাকা ধরিয়ে দেন থানা পুলিশের এই কর্মকর্তা। অথচ তিনি খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, তার সাবেক স্বামীর নিকট থেকে ৪০ হাজার টাকা আদায় করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী নারী বলেন, আমার সাবেক স্বামীর নিকট থেকে ৪০ হাজার টাকা আদায়ের তথ্য জানার পর আমি থানা পুলিশের ওই কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করি। তখন এএসআই নাজমুল আমাকে জানান, যা আদায় হয়েছে তাই আমাকে দিয়ে দিয়েছে।
বিচার চাইতে এসে উল্টো পুলিশের প্রতারণার ফাঁদে পড়া- এ যেন মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা। একজন অসহায় নারীর শেষ সম্বলটুকু নিয়েও পুলিশের এমন বাণিজ্য যেন ‘রক্ষক হয়ে ভক্ষক’ এর নগ্ন রূপ ছাড়া আর কিছুই নয়।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে আশুলিয়া থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) নাজমুল হাসানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “এইটা কোন ঘটনা না, ঠিক আছে। ঘটনা হইলো যে, একটা অভিযোগ আছিল, ওইটা মিটায় দিছি। ৫০ হাজার টাকার, ঠিক আছে। ৫০ হাজার টাকা বুইঝা পাইয়া কাগজ স্বাক্ষর-ঠাক্কর করে তারপর সবকিছু উনি বুঝে নিছে।”
এ বিষয়ে আশুলিয়ার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রুবেল হাওলাদার বলেন, “ভুক্তভোগীকে আমার নিকট পাঠিয়ে দেন। যদি ঘটনা সত্য হয়, তার বিরুদ্ধে সব ধরনের বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


