স্বল্পমেয়াদি উচ্চ ফলনশীল চিকন আউশ ধানের জাত উদ্ভাবন করেছে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গাকৃবি) কৃষিতত্ত্ব বিভাগ। জাতটির নাম দেওয়া হয়েছে জিএইউ ধান-৪। এর মধ্য দিয়ে ধানের চারটি জাতসহ গাকৃবি উদ্ভাবিত মোট জাতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৫টিতে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গবেষণায় নেতৃত্ব দেন কৃষিতত্ত্ব বিভাগের কৃষিতত্ত্ববিদ প্রফেসর ড. এম ময়নুল হক ও প্রফেসর ড. মো. মসিউল ইসলাম।
প্রচলিত আউশ ধানের জাত পারিজার সঙ্গে উচ্চ ফলনশীল চিকন জাত বিইউ ধান ২-এর শঙ্করায়ণের মধ্যমে ১০ বছরের গবেষণায় জাতটি উদ্ভাবন করা সম্ভব হয়েছে।
২০২৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি জাতীয় বীজ বোর্ডের ১১৫তম সভায় জিএইউ ধান ৪ নামের এ জাতটির আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেওয়া হয়।
পুষ্টিগুণেও জিএইউ ধান ৪ বিশেষভাবে সমৃদ্ধ। এর চালে অ্যামাইলেজ এনজাইমের পরিমাণ প্রায় ২৪.৫৮ শতাংশ, যা শর্করা জাতীয় খাদ্য সহজে ভেঙে শক্তি সরবরাহ ও হজম প্রক্রিয়ায় সহায়তা করবে।
একই সঙ্গে এতে পাওয়া যাবে প্রোটিনের পরিমাণ প্রায় ৮.৩৮ শতাংশ, যা মানবদেহের গঠন, বৃদ্ধি এবং কোষ মেরামতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে এটি শুধু উৎপাদনশীলই নয়, পুষ্টিমানেও সমৃদ্ধ একটি ধানের জাত।
জিএইউ ধান ৪-এর দানা লম্বা ও চিকন এবং এটি তুলনামূলক কম সময়ে পরিপক্ব হয়। সাধারণত বীজ বপনের তিন মাস থেকে তিন মাস ১০ দিনের মধ্যেই ফসল সংগ্রহ করা সম্ভব।
পুষ্ট ১০০০ ধানের ওজন প্রায় ২০ গ্রাম এবং অনুকূল পরিবেশে সহজেই হেক্টর প্রতি ৫ থেকে ৫.৫ টন পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়।
এ জাতের ধান চাষে প্রতি হেক্টরে ২৫-৩০ কেজি বীজ প্রয়োজন হয়, যা কৃষকদের জন্য অর্থনৈতিকভাবেও সুবিধাজনক। উন্নত এ জাতটি বিভিন্ন রোগবালাই প্রতিরোধক হওয়ার কারণে সাধারণ জাতের তুলনায় এটি গড়ে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ বেশি ফলন দিতে সক্ষম, যা বাংলাদেশের মতো কৃষিনির্ভর অর্থনীতিতে ব্যাপক অবদান রাখতে সক্ষম।
এ ছাড়া জলবায়ু সহনশীল হওয়ায় এটি দেশের বৈচিত্র্যময় পরিবেশে চাষের জন্য উপযোগী ও লাভজনক একটি জাত। এ ক্ষেত্রে বেলে দো-আঁশ বা এঁটেল দো-আঁশ মাটি এ জাতের চাষের জন্য ভালো।
জিএইউ ধান ৪-এর জন্য বীজতলায় বীজ ফেলার উপযুক্ত সময় এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহ। এ ক্ষেত্রে কাদা জমিতে ২০ থেকে ২২ দিনে এর চারা রোপণ করতে হয় এবং সারি থেকে সারির দূরত্ব ২০ সেন্টিমিটার এবং গুছি থেকে গুছির দূরত্ব ১৫ সেন্টিমিটার বজায় রাখা উত্তম।
নতুন জাত সম্পর্কে প্রফেসর ড. মো. মসিউল ইসলাম বলেন, জিএইউ ধান ৪ উদ্ভাবনের মূল লক্ষ্য ছিল স্বল্প সময়ে বেশি ফলন, একই সঙ্গে চিকন আউশ ধানের জাত তৈরি।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
এ ব্যাপারে ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. জি কে এম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ধানের নতুন এ জাতটি কৃষকের আয় বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের খাদ্য নিরাপত্তা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


