হামের টিকা দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণে মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল। তিনি বলেন, টিকাদান কর্মসূচি ইতোমধ্যে ৮১ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করেছে এবং আগামী দুই থেকে চার দিনের মধ্যেই শতভাগ লক্ষ্যমাত্রা পূরণ সম্ভব হবে। রবিবার (৩ মে) জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনে জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সেশন শেষে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, জেলা প্রশাসকরা স্বাস্থ্যখাতের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেছেন এবং সেগুলো সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। অনেক অসমাপ্ত ভবন অপরিকল্পিতভাবে নির্মাণ করা হয়েছে, যা বর্তমানে অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে—এসব চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার ও লেবার রুমে যে সমস্যা হয়, তা নিরসনে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গু মৌসুম আসন্ন—“নকিং অ্যাট দ্য ডোর”—এটি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। অ্যাম্বুলেন্স সংকট দূর করা, ভেজাল ওষুধ বিক্রি বন্ধ করা এবং জরুরি স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মন্ত্রী জানান, স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এ সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বাড়ানো, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা তৈরি, মায়েদের বুকের দুধ খাওয়ানো বাড়ানো, অ্যান্টিভেনমের পর্যাপ্ত মজুত রাখা এবং জলাতঙ্ক রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, “হামের টিকাদান কর্মসূচিতে আমরা ইতোমধ্যে ৮১ শতাংশ কভারেজ অর্জন করেছি। প্রতিটি টিকাদান কেন্দ্রের কার্যক্রমে জেলা প্রশাসকদের নজর রাখতে বলা হয়েছে। আশা করছি, খুব দ্রুতই শতভাগ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে। টিকার কোনো ঘাটতি নেই।”
অবৈধ ও অপরিকল্পিত ক্লিনিকগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, মোবাইল টিম গঠন করে এসব ক্লিনিক পরিদর্শন করা হবে এবং ডিসপেনসারিগুলোতে ভেজাল ওষুধ বিক্রি হচ্ছে কি না, তা কঠোরভাবে নজরদারি করা হবে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হামের সংক্রমণ ও মৃত্যুহার অনেকটাই কমে এসেছে। তবে স্বাস্থ্যখাতে বিদ্যমান সমস্যাগুলোর মধ্যে রয়েছে অ্যাম্বুলেন্সের অভাব, রাতে জরুরি সেবা পাওয়া না যাওয়া, ওষুধের ঘাটতি এবং চিকিৎসকদের উপস্থিতির সমস্যা—এসব সমাধানে কাজ চলছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, অপচিকিৎসা, দালালি ও রোগী হয়রানি বন্ধে নজরদারি বাড়ানো হবে। পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার এবং হাসপাতালগুলোতে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
এছাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিরাপত্তা জোরদার করতে আনসার মোতায়েনের কার্যক্রম চলছে। প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে বলে জানান তিনি।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


