সাইফুল ইসলাম : মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও মানিকগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আফরোজা খানম রিতা বলেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শই বাংলাদেশের রাজনীতিতে পথনির্দেশক। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান আমাদের শিখিয়েছেন দেশকে কীভাবে ভালোবাসতে হয়, দেশের মানুষকে কীভাবে ভালোবাসতে হয় এবং মানুষকে মূল লক্ষ্য করে কীভাবে সামনে এগিয়ে যেতে হয়। প্রতিটি ক্ষেত্রে ধৈর্যশীল ও সহনশীল হতে হবে। কোন নেতাকর্মীর কথা বা আচরণে জনগণ যদি কষ্ট পায় এবং সেই রিপোর্ট যদি আমার কাছে আসে তাহলে তারেক রহমানের মাধ্যমে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হবে।

সোমবার বিকেলে স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী ও জিয়া স্মৃতি পাঠাগারের ১৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মানিকগঞ্জ সাংস্কৃতিক বিপ্লবী সংঘ (সাবিস) মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আফরোজা খানম রিতা বলেন, “শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান একজন ক্ষণজন্মা পুরুষ। তিনি আমাদের শিখিয়েছেন কীভাবে সৎ থাকতে হয়, কীভাবে আদর্শ নিয়ে কাজ করতে হয় এবং কীভাবে দুর্নীতিমুক্ত জীবনযাপন করতে হয়। একজন ক্ষণজন্মা পুরুষের যেসব গুণ থাকা প্রয়োজন, তার সবগুলো গুণই তাঁর মধ্যে বিদ্যমান ছিল। সে কারণেই এত বছর পরও তাঁর নাম বলতে আমরা গর্ববোধ করি, নিজেদের তাঁর সৈনিক বলতে গর্ববোধ করি।”
তিনি আরও বলেন, “গণতন্ত্রের জন্য আমরা কঠিন সময় পার করেছি। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যে ত্যাগ ও কষ্ট সহ্য করেছেন, তার প্রতিদান দেওয়ার সময় এসেছে। এখন সময় এসেছে জিয়াউর রহমানের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তোলার। জিয়াউর রহমানের বাংলাদেশ, বেগম খালেদা জিয়ার বাংলাদেশ এবং তারেক রহমানের বাংলাদেশ গড়তে হলে সব ভেদাভেদ ভুলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করতে হবে। আমাদের চেয়ারম্যান তারেক রহমান যে ধৈর্য ও সহনশীলতার সঙ্গে দেশের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন, তাঁর কথা ও আচরণেই সেটার প্রতিফলন দেখা যায়।”
আলোচনা সভায় বক্তারা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রনায়কসুলভ ভূমিকা তুলে ধরেন। বক্তারা বলেন, রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি গ্রামভিত্তিক উন্নয়ন কর্মসূচি জোরদার করেন এবং স্বনির্ভর বাংলাদেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তাঁর উদ্যোগেই দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া শুরু হয়। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ইরাক-ইরান যুদ্ধ নিরসনে তাঁর কূটনৈতিক তৎপরতাও আলোচনায় উঠে আসে।
জিয়া স্মৃতি পাঠাগারের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফার সঞ্চালনায় এবং সভাপতি ডা. মো. জিয়াউর রহমানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এডভোকেট নূরতাজ আলম বাহার, এডভোকেট জহির আলম খান লোদী, গোলাম আবেদীন কায়সার, জেলা কৃষক দলের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া সাঈদ, সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম বাদল, কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আলী আশরাফ, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) মানিকগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি ডা. মো. বদরুল আলম, মুন্নু মেডিকেল কলেজের পরিচালক ডা. আব্দুল করিম প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপি, অঙ্গ ও বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভা শেষে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


