জুমবাংলা ডেস্ক : বগুড়ায় জেলা প্রশাসনের অভিযানের পর জেলার বাজারে চালের সরবরাহ আগের থেকে বেড়ে গেছে। চালের বাজারে দাম কমেছে কেজিতে ৪ থেকে ৫ টাকা করে। দাম কমে এলেও সাধারণ ক্রেতাদের মাঝে এখনো স্বস্তি দেখা যায়নি। প্রশাসনের অভিযানের পর চালের বাজারে সরবরাহ বেড়ে যাওয়ার কারণে ক্রেতারা বলছেন ব্যবসায়িরা কারসাজি করে চাল মজুদ করে রাখার কারনেই চালের মূল্য বৃদ্ধির প্রভাব পরে।

Advertisement

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বগুড়ার উপ সহকারী কর্মকর্তা ফরিদ উদ্দিন জানান, চলতি বছরে জেলায় ১ লাখ ৮৭ হাজার ৪১৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। সেখানে শেষ পর্যন্ত মোট আবাদ হয়েছে ১ লাখ ৮৭ হাজার ৭৫৫ হেক্টর জমিতে। এর বিপরীতে চাল আকারে উৎপাদন হবে ৮ লাখ ৭ হাজার ৬২৩ মেট্রিকটন চাল। গত বছর চাষ হয়েছিল ১ লাখ ৮৮ হাজার ৫১০ হেক্টর। আর চাল আকারে উৎপাদন হয়েছিল ৮ লাখ ১০ হাজার ৫৯০ মেট্রিক টন। এবছর ঘূর্নিঝড় অসনির কারণে টানা বৃষ্টিতে ক্ষেতের জমির ধানের ক্ষতি হয়। এই ক্ষতি নিয়েই বোরো ধান কাটা মারায় শেষ করে বগুড়ার চাষিরা। বগুড়ার হাটে বাজারে ২ জুন পর্যন্ত ধানের মন ১০০০ থেকে ১১৩০ টাকা বিক্রি হয়েছে। ধানের মৌসুমে চালের দাম হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়ার কারনে ক্রেতাদের মাঝে অস্বস্থি দেখা দেয়। চালের দাম বেড়ে কেজিতে ৮ থেকে ১০ টাকা করে বিক্রি শুরু হয়। চালের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে জেলা প্রশাসন থেকে মজুদ বিরোধী ও অবৈধভাবে ধান চাল কেনার বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান পরিচালনা করে।

বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে জেলায় অবৈধ চাল মজুদ, অনুমোদন ব্যতীত চাল মজুদ, বিধি অমান্য করে চাল এর মূল্য বৃদ্ধির সঙ্গে জড়িত থাকায় মোট ১৪ মামলায় ১১ লাখ ৫২ হাজার টাকা অর্থদন্ড প্রদান করা হয়। অভিযানে ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তর, খাদ্য বিভাগ, পুলিশ সদস্যরা অংশ গ্রহণ করে। অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান।

এদিকে বগুড়ার বাজারে এক সপ্তাহ আগে চিনি আতপ চাল বিক্রি হয়েছে ১১৫ টাকা কেজি। সেই চাল এক সপ্তাহের ব্যবধানে দাম কমে বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১১০ টাকা কেজি। এছাড়া কালোজিরা আগে ১০০ থেকে ১০৫ টাকা কেজি বিক্রি হতো। এখন বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ টাকা কেজি। কাটারিভোগ ৭৫ থেকে ৮০ টাকা আর এখন বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৭৫ টাকা, নাজিরশাইল আগে বিক্রি হতো ৮৫ থেকে ৯০ টাকা আর এখন বিক্রি হচ্ছে ৭৮ থেকে ৮০ টাকা, মিনিকেট আগে বিক্রি হয়েছে ৬৭ থেকে ৭০ টাকা এখন বিক্রি হচ্ছে ৬৬ টাকা কেজি, রনজিত আগে বিক্রি হতো ৫৫ থেকে ৬০ টাকা এখন বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৫২ টাকা, বিআর-২৮ চাল বিক্রি হতো ৬০ থেকে ৬৫ টাকা এখন বিক্রি হচ্ছে ৫৬ থেকে ৫৮ টাকা কেজিতে।

বগুড়া শহরের ফতেহ আলী চাল বাজারের শিপু চাল ঘরের মালিক অখিল চন্দ্র জানান, বাজারে সরবরাহ বাড়তে শুরু করেছে। চাল সরবরাহ বৃদ্ধির কারণে বাজারে চালের দাম কমে আসতে শুরু করেছে। চালের সরবরাহ যত বাড়বে চালের দাম ততটায় কমে আসবে।

বগুড়া শহরের ফতেহ আলী বাজারে চাল ক্রেতা আজাহার উদ্দিন জানান, কয়েকদিন আগেও যে দামে চাল কেনা হয়েছিল এখন গড়ে ৫ টাকা কমে পাওয়া যাচ্ছে। তবে এখন ধানের মৌসুম চালের দাম আরো কমাতে হবে।

বগুড়া জেলা প্রশাসক মো. জিয়াউল হক জানান, অবৈধ মজুদদারীর বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় খাদ্য দ্রব্যের দাম কোনভাবেই বাড়ানো যাবে না। তাই অবৈধভাবে মজুদকারিদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। চালের বাজার স্থিতিশীল রাখতে নিয়মিত মনিটরিং করা হবে। যেখানে অবৈধ ভাবে মজুদ করে রাখার সংবাদ পাওয়া যাবে সেখানেই অভিযান পরিচালনা করা হবে। জেলার প্রতিটি বাজারে চালের মূল্য টানাতে বলা হয়েছে।

সারাদেশে বৃষ্টির পূর্বাভাস

Zoom Bangla News
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com
Follow

Follow Zoom Bangla News On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from Zoom Bangla News in your Google news feed.

Follow Zoom Bangla News On Google

Saiful Islam is a journalist at Zoom Bangla News with seven years of experience in news writing and editorial work. He contributes to producing accurate, well-structured, and reader-focused content across digital platforms. His work reflects a strong commitment to editorial standards and responsible journalism.