আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও বেড়েছে স্বর্ণের দাম। মার্কিন ডলারের দুর্বলতার প্রভাবে এই মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে বলে জানিয়েছে বাজার বিশ্লেষকরা।

আজ সোমবার (৩০ মার্চ) বাংলাদেশ সময় সকাল ৯টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত স্পট গোল্ডের দাম ০.৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪,৫০৫.৮৬ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে এপ্রিল ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণ ফিউচারও ০.৩ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪,৫৩৫.৮০ ডলারে।
বিশ্লেষকদের মতে, ডলারের মান কিছুটা কমে যাওয়ায় ডলারভিত্তিক পণ্য অন্যান্য মুদ্রার বিনিয়োগকারীদের জন্য তুলনামূলক সস্তা হয়ে উঠছে। ফলে স্বর্ণের চাহিদা বাড়ছে এবং দামে ঊর্ধ্বগতি দেখা যাচ্ছে।
অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক এবিসি রিফাইনারির ইনস্টিটিউশনাল মার্কেটস প্রধান নিকোলাস ফ্রাপেল বলেন, গত সপ্তাহের দামের ওঠানামা বাজারে ‘ওভার সোল্ড’ পরিস্থিতির প্রতিক্রিয়া নির্দেশ করে। সাম্প্রতিক পতনের পর স্বর্ণের বাজারে ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি হলেও তা নিশ্চিত হতে চলতি সপ্তাহের গতিপ্রকৃতি পর্যবেক্ষণ জরুরি।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে জ্বালানি বাজারেও। ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের হামলার পর ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৫ ডলারের ওপরে উঠেছে। মার্চ মাসে তেলের দাম প্রায় ৬০ শতাংশ বেড়েছে, যা সাম্প্রতিক সময়ে নজিরবিহীন।
জ্বালানি তেলের এই ঊর্ধ্বগতি বিশ্বব্যাপী মুদ্রাস্ফীতির চাপ বাড়াচ্ছে। ফলে চলতি বছরে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদহার কমাবে—এমন প্রত্যাশা কমে এসেছে। আগে যেখানে অন্তত দুইবার সুদহার কমার সম্ভাবনা ছিল, এখন তা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মুদ্রাস্ফীতি বাড়লে সাধারণত স্বর্ণকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে উচ্চ সুদহার স্বর্ণের মতো সুদবিহীন সম্পদের আকর্ষণ কমিয়ে দেয়, যা দামের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
চলতি মাসে স্বর্ণের দাম ইতোমধ্যে ১৪ শতাংশের বেশি কমেছে, যা ২০০৮ সালের অক্টোবরের পর সবচেয়ে বড় মাসিক পতন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একই সময়ে বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার কারণে মার্কিন ডলারের মান ২ শতাংশের বেশি বেড়েছে, যা স্বর্ণের বাজারে অতিরিক্ত চাপ তৈরি করেছে।
অন্য মূল্যবান ধাতুগুলোর মধ্যেও ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। স্পট রূপার দাম ০.৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৬৮.৬৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে। প্লাটিনাম ২.৫ শতাংশ বেড়ে ১,৯০৯.৪৫ ডলার এবং প্যালাডিয়াম ৩.২ শতাংশ বেড়ে ১,৪২০.৬৩ ডলারে পৌঁছেছে।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
সব মিলিয়ে, স্বর্ণের বাজারে স্বল্পমেয়াদে পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত থাকলেও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে অনিশ্চয়তা এখনো রয়ে গেছে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


