
ইরান দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো শান্তিচুক্তি লেবাননেও যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার ওপর নির্ভর করবে। ইসরায়েল মার্চ মাসে লেবাননে অভিযান শুরু করেছিল, কারণ ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ যোদ্ধারা তেহরানের সমর্থনে সীমান্ত পেরিয়ে রকেট ও ড্রোন হামলা চালিয়েছিল।
তবে গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র লেবাননের জন্য যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব ঘোষণার পর প্রথমবারের মতো রোববার ইসরায়েল বৈরুত অঞ্চলে হামলা চালায়।
ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী জানায়, তারা নাজারেথের কাছে অবস্থিত রামাত ডেভিড বিমানঘাঁটিতে হামলা করেছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, তারা ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করেছে এবং তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেগুলো প্রতিহত করেছে।
নিউ জার্সির বেডমিনস্টারে নিজের গলফ ক্লাবে সপ্তাহান্ত কাটানো ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে প্রায় আধা ঘণ্টার একটি ফোনালাপ হয় বলে এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা জানান। তবে তিনি বিস্তারিত কিছু বলেননি। হোয়াইট হাউস ও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্যের অনুরোধের জবাব দেয়নি।
এর আগে ট্রাম্প অ্যাক্সিওসকে বলেন, তিনি নেতানিয়াহুকে প্রতিশোধমূলক হামলা না চালানোর জন্য চাপ দেবেন।
ট্রাম্প বলেন, “ইসরায়েল তাদের হামলা করেছে এবং ইরানও তাদের হামলা করেছে। আমাদের আরেকটি হামলার দরকার নেই। আমরা ইরানের সঙ্গে একটি চূড়ান্ত চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছি। এটি একটি ভালো চুক্তি হবে। আমি চাই না বর্তমানে যা ঘটছে তার কারণে সেটি ভেস্তে যাক।”
রয়টার্সকে এক ইসরায়েলি সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানায়, ইসরায়েল অবশ্যই পাল্টা জবাব দেবে।
স্থানীয় সময় মধ্যরাতের কিছু পর ইসরায়েলি সেনাবাহিনী একটি সংক্ষিপ্ত বিবৃতি প্রকাশ করে। এতে সেনাপ্রধান ইয়াল জামিরের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, এখন পর্যন্ত তাদের ইরানে হামলার নির্দেশ দেওয়া হয়নি, তবে নির্দেশ পেলে তারা “দৃঢ় সংকল্পের সঙ্গে” তা করবে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে আলোচনা শুরু হওয়ার পরও ইসরায়েল লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে হামলা অব্যাহত রেখেছে। ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলেছেন, এই সংঘাতকে ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি থেকে আলাদাভাবে বিবেচনা করা উচিত। অন্যদিকে তেহরান বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো শান্তিচুক্তির মধ্যে লেবাননের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে এবং সেখানে ইসরায়েলি হামলা আলোচনাকে বিপদের মুখে ফেলছে।
ইরানের প্রধান শান্তি আলোচক ও পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেন, লেবানন-সংক্রান্ত চুক্তি লঙ্ঘনসহ শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ডের কারণে মার্কিন ঘাঁটি ও ইসরায়েলি সম্পদ বৈধ লক্ষ্যবস্তু।
রোববারের আগে এপ্রিল মাসে বৃহত্তর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইরান সরাসরি ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়নি, যদিও হিজবুল্লাহ হামলা চালিয়ে গেছে।
ট্রাম্প বারবার দাবি করেছেন, ওয়াশিংটন ও তেহরান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে একটি চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে।
সূত্র: রয়টার্স
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



