রাশিয়ার সঙ্গে সংঘাত বন্ধে ভ্লাদিমির পুতিকে খোলা চিঠি পাঠিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। খোলা চিঠিতে অভদ্রতার উপাদান থাকায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের থেকে জেলেনস্কিকে ভদ্রতা শেখার আহ্বান জানিয়েছেন পুতিন। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) জেলেনস্কির ওই খোলা চিঠির জবাব শুক্রবার (৫ জুন) দিয়েছেন পুতিন।

পরামর্শ

Advertisement

অ্যাস্ট্রা-এর বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা ইউক্রেনিফর্ম জানিয়েছে, ক্রেমলিনপ্রধান (পুতিন) দাবি করেন, জেলেনস্কির উচিত মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে ভদ্রতা ও শিষ্টাচার শেখা।

অ্যাস্ট্রার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই চিঠিরাশিয়া ও ইউক্রেনের চলমান যুদ্ধ বন্ধে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কাছে একটি খোলা চিঠি পাঠিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। সেই চিঠির জবাবে পুতিন বলেছেন, চিঠিতে শিষ্টাচারবহির্ভূত কিছু বিষয় ছিল। একই সঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, জেলেনস্কির উচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছ থেকে ভদ্রতা ও শিষ্টাচার শেখা।

শুক্রবার সেন্ট পিটার্সবার্গে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে পুতিন এ মন্তব্য করেন। তিনি জানান, জেলেনস্কির পাঠানো চিঠিতে তার বয়স নিয়ে মন্তব্য করা হয়েছে। এর জবাবে পুতিন বলেন, বয়স কোনো নেতার যোগ্যতা নির্ধারণ করে না। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা ও কার্যকারিতা। তার মতে, বিশ্বের অনেক রাজনৈতিক নেতা তার সমবয়সী কিংবা তার চেয়েও বেশি বয়সে সফলভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন।

এর আগে জেলেনস্কি খোলা চিঠিতে পুতিনকে সরাসরি বৈঠকের আহ্বান জানান। চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের অবসান এবং একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর লক্ষ্যে তিনি মুখোমুখি আলোচনার প্রস্তাব দেন।

তবে পুতিন জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে জেলেনস্কির সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে সাক্ষাতের প্রয়োজন দেখছেন না তিনি। তার ভাষায়, প্রথমে বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজে বের করতে হবে। সম্ভাব্য সমঝোতার ভিত্তি তৈরি হলে পরে বৈঠক হতে পারে।

পুতিন আরও দাবি করেন, ইউক্রেনের প্রধান লক্ষ্য হলো রুশ বাহিনীর অগ্রযাত্রা থামানো, আর রাশিয়া একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহী। তাই আলোচনার আগে প্রয়োজন বাস্তবসম্মত সমাধানের খসড়া প্রস্তুত করা।

এদিকে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, জেলেনস্কির সঙ্গে সংলাপের দরজা এখনো বন্ধ হয়নি। তিনি বলেন, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের প্রতি রাশিয়ার আমন্ত্রণ প্রত্যাহার করা হয়নি এবং আলোচনার সম্ভাবনা এখনও বহাল রয়েছে।

পেসকভ আরও বলেন, পুতিন তার বক্তব্যে এমন কিছু বলেননি যা আমন্ত্রণ বাতিলের ইঙ্গিত দেয়। তাই তার বক্তব্যকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা না করার আহ্বান জানান তিনি।

সম্প্রতি জেলেনস্কির সরাসরি বৈঠকের প্রস্তাবের পর মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে সম্ভাব্য আলোচনার বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দুই পক্ষের অবস্থানে পার্থক্য থাকলেও কূটনৈতিক যোগাযোগের পথ এখনো পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি।

উল্লেখ্য, ৩ থেকে ৬ জুন পর্যন্ত সেন্ট পিটার্সবার্গ আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরাম অনুষ্ঠিত হয়। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল ‘বাস্তবিক সংলাপ: স্থিতিশীল ভবিষ্যতের পথ’। ফোরামে বৈশ্বিক অর্থনীতি, নতুন উন্নয়ন মডেল, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ, সৃজনশীল শিল্প, যুব অর্থনীতি এবং ওষুধ নিরাপত্তাসহ নানা বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। অতিথি দেশ হিসেবে অংশ নেয় সৌদি আরব।তে পুতিনের বয়স নিয়ে মন্তব্য করা হয়েছে। নিজের বয়স নিয়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির মন্তব্যেরও জবাব দেন রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন।

পুতিন বলেন, তার বর্তমান বয়সেও বিশ্বের অনেক রাজনৈতিক নেতা সফলভাবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং কেউ কেউ তার চেয়েও বেশি বয়সী। এ প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, মূল বিষয় হলো একজনের সক্ষমতা এবং কাজ করার ক্ষমতা।

জানা গেছে, খোলা চিঠি পাঠিয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন-কে সরাসরি সাক্ষাতের আহ্বান জানান ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। চিঠিতে চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের অবসানে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে জেলেনস্কি বৈঠকের প্রস্তাব দেন।

বার্তা সংস্থা ইউক্রেনিফর্ম- এর তথ্য মতে, খোলা চিঠির জবাবে পুতিন জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে সাক্ষাৎ করার কোনো প্রয়োজন দেখছেন না তিনি।

সেন্ট পিটার্সবার্গে পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে ভারতীয় সাংবাদিক গীতা মোহন-এর এক প্রশ্নের জবাবে পুতিন বলেন, আমি বৈঠকের কোনো অর্থ দেখি না। প্রথমে সমাধানের পথ খুঁজে বের করতে হবে।

পুতিনের দাবি, ইউক্রেনের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে রুশ বাহিনীর অগ্রযাত্রা থামানো, আর রাশিয়া চায় একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে। বিশেষজ্ঞদের কাজ করতে দিন, কিছু সমাধান তৈরি করতে দিন। তারপর আমরা সাক্ষাৎ করতে পারি।

রুশ প্রেসিডেন্ট আরও জানান, ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ আগের দিন এবং শুক্রবার (৫ জুন) সকালে জেলেনস্কির পাঠানো খোলা চিঠিটি তাকে দেখিয়েছেন। পুতিনের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই চিঠিতে অভদ্রতার উপাদান ছিল।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বক্তব্যের শুরুতে পুতিন জেলেনস্কির নাম উল্লেখ না করে তাকে চিঠির লেখক এবং এই ভদ্রলোক বলে সম্বোধন করেন। পরে অবশ্য তিনি জেলেনস্কির নাম উচ্চারণ করেন।

শুক্রবার (৫ জুন) সেন্ট পিটার্সবার্গ ইন্টারন্যাশনাল ইকোনমিক ফোরাম-এ সাংবাদিকরা জানতে চান, ফোরামের পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে পুতিনের বক্তব্যের পর জেলেনস্কিকে পাঠানো রুশ আমন্ত্রণ প্রত্যাহার করা হয়েছে কি না। জবাবে পেসকভ বলেন, কোনোভাবেই নয়। আমন্ত্রণ এখনও বহাল রয়েছে।

পেসকভ আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট এমন কিছু বলেননি। তার মুখে কথা বসানোর চেষ্টা করবেন না।

সম্প্রতি জেলেনস্কি সরাসরি বৈঠকের প্রস্তাব দেওয়ার পর মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে সম্ভাব্য আলোচনার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এ প্রেক্ষাপটে পেসকভের মন্তব্যকে রাশিয়ার পক্ষ থেকে সংলাপের দরজা খোলা রাখার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এদিকে, ৩ থেকে ৬ জুন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ২৯তম সেন্ট পিটার্সবার্গ ইন্টারন্যাশনাল ইকোনমিক ফোরাম-এর এবারের প্রতিপাদ্য ছিল বাস্তবিক সংলাপ: স্থিতিশীল ভবিষ্যতের পথ।

রাশিয়ার অন্যতম বৃহৎ আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক এই ফোরামে অতিথি দেশ হিসেবে অংশ নিয়েছে সৌদি আরব। বৈশ্বিক অর্থনীতির চলমান রূপান্তরের প্রেক্ষাপটে নতুন উন্নয়ন মডেল গঠনের বিষয়টি এবারের আলোচনার কেন্দ্রে ছিল।

ফোরামের কর্মসূচিতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা ফোরাম, সৃজনশীল শিল্প ফোরাম, আন্তর্জাতিক যুব অর্থনৈতিক ফোরাম এবং ওষুধ নিরাপত্তা বিষয়ক ফোরাম অন্তর্ভুক্ত ছিল। পাশাপাশি পিটার্সবার্গ সিজনস সাংস্কৃতিক উৎসব ও ঐতিহ্যবাহী ক্রীড়া আয়োজনও অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই বছরের ফোরামের প্রধান অংশীদার ছিল ভিইবি ডট আরএফ, আর আয়োজক ছিল রি কংগ্রেস ফাউন্ডেশন।

সূত্র: তাস/ইউক্রেনিফর্ম

Zoom Bangla News
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com
Follow

Follow Zoom Bangla News On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from Zoom Bangla News in your Google news feed.

Follow Zoom Bangla News On Google

Mynul Islam Nadim is a journalist at Zoom Bangla News, contributing to news writing and editorial support. He is involved in refining content to ensure accuracy, clarity, and consistency for digital platforms. His work reflects a commitment to responsible journalism and audience-focused reporting.