হলিউডের খ্যাতিমান অভিনেতা জন ট্রাভোল্টা ৭৯তম কান চলচ্চিত্র উৎসবে সম্মানসূচক স্বর্ণ পাম অর্জন করে বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছেন। নিজের পরিচালিত প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের বিশ্বপ্রিমিয়ারের ঠিক আগে তাকে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।

শুক্রবার (১৫ মে) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় ফ্রান্সের দক্ষিণাঞ্চলের পালে দে ফেস্টিভ্যাল ভবনের দ্যুবুসি থিয়েটারে কান উৎসবের পরিচালক থিয়েরি ফ্রেমোঁ তার হাতে স্বর্ণ পাম তুলে দেন।
এ সময় মেয়ে এলা ব্লু ট্রাভোল্টাকে সঙ্গে নিয়ে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জন ট্রাভোল্টা। দুইবার অস্কারের মনোনয়ন পাওয়া এই অভিনেতা আবেগভরে বলেন, এটি তার কাছে অস্কারের চেয়েও বড় অর্জন।
‘কান প্রিমিয়ার’ বিভাগে প্রদর্শিত হয় তার পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘প্রপেলার ওয়ান-ওয়ে নাইট কোচ’। ছবিটি একটি কিশোরের উড়োজাহাজের প্রতি গভীর ভালোবাসা এবং বিমানযাত্রার স্বর্ণযুগকে ঘিরে লস অ্যাঞ্জেলেসগামী এক ফ্লাইটের গল্প তুলে ধরে। প্রায় তিন দশক আগে নিজের লেখা একটি গ্রন্থ অবলম্বনে তিনি এই চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, জন ট্রাভোল্টা নিজেই উড়োজাহাজ চালিয়ে মেয়ে এলা ব্লু ট্রাভোল্টাকে নিয়ে কান শহরে পৌঁছান। ছবিতে এলা ব্লু একজন ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টের চরিত্রে অভিনয় করেছেন এবং জন ট্রাভোল্টা ফ্লাইটের ক্যাপ্টেনের ভূমিকায় দেখা দেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি একজন অভিজ্ঞ পাইলট। কৈশোর থেকেই উড়োজাহাজের প্রতি তার গভীর আগ্রহ ছিল; মাত্র ১৫ বছর বয়সে তিনি প্রথম উড়োজাহাজ চালানো শুরু করেন এবং পরবর্তীতে একাধিক বিমানের লাইসেন্স অর্জন করেন।
‘প্রপেলার ওয়ান-ওয়ে নাইট কোচ’ নির্মাণে তিনি প্রযোজনা, পরিচালনা, চিত্রনাট্য রচনা ও অর্থায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব নিজেই পালন করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এটি তার জীবনের অত্যন্ত ব্যক্তিগত একটি প্রকল্প, যা তার শিল্পীজীবনের শুরুর প্রতিচ্ছবি তুলে ধরার চেষ্টা।
৭০-এর কোঠায় থাকা এই তারকা ১৯৭০-এর দশকের শেষ দিকে ‘স্যাটারডে নাইট ফিভার’ ও ‘গ্রিজ’-এর মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী পরিচিতি পান। পরবর্তী সময়ে ‘পাল্প ফিকশন’সহ একাধিক সফল চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তিনি আবারও নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করেন।
কান উৎসবে সম্মাননা গ্রহণ শেষে তিনি বলেন, তার জীবন চলচ্চিত্র, নাচ, গান এবং আকাশযাত্রার শিল্পের মধ্যেই গভীরভাবে জড়িয়ে আছে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



