ছাত্র-জনতার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় লুট হওয়া মোট ২ হাজার ৩৩০টি অস্ত্র এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম। এর মধ্যে ১ হাজার ৩৩০টি পুলিশ বাহিনীর এবং বাকি এক হাজারের বেশি ব্যক্তিমালিকানাধীন অস্ত্র।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকালে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের মিডিয়া সেন্টারে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন।
আইজিপি বলেন, পুলিশের অস্ত্র ছাড়াও লাইসেন্সকৃত ব্যক্তিগত অস্ত্র, যেগুলো আইন অনুযায়ী জমা রাখা ছিল, সেগুলোর মধ্য থেকেও অনেক অস্ত্র লুট হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “যেকোনো অস্ত্রই সম্ভাব্য হুমকি।” ব্যক্তিগত লুট হওয়া অস্ত্রের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা জানতে আরও সময় লাগবে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি অবৈধভাবে দেশের ভেতরে অস্ত্র প্রবেশের বিষয়টিও উল্লেখ করে বলেন, এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা হুমকি আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে বাহারুল আলম বলেন, তারা হুমকির বিষয়টিকে বড় করে দেখছেন না। সরকারের লক্ষ্য হলো ইতিহাসে দৃষ্টান্ত স্থাপন করা—একটি সর্বকালের সেরা নিরাপদ নির্বাচন আয়োজন করা। তিনি দাবি করেন, যারা অতীতে হুমকি দিত, তারাও এখন অনেকটাই নিরুৎসাহিত। তবু সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় রেখে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সংস্কার প্রসঙ্গে আইজিপি জানান, ২০০৬-০৭ সাল থেকেই পুলিশ বাহিনী কাজের স্বাধীনতা চেয়ে আসছে। বিশেষ করে মামলা তদন্ত ও দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে যেন সরকার বা রাজনৈতিক দলের প্রভাব না থাকে—এ দাবি তাদের দীর্ঘদিনের। তবে বর্তমান পুলিশ সংস্কার কমিশনের সুপারিশেও সেই কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত হয়নি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এ ছাড়া পদোন্নতি ও পদায়নে রাজনৈতিক প্রভাবের বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব সিদ্ধান্ত যদি একটি স্বাধীন পুলিশ কমিশনের মাধ্যমে নেওয়া হতো, তাহলে বাহিনীর জন্য তা ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারত। তবে এখনো সে ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তন বাস্তবায়িত হয়নি।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


