মধুমাস জ্যৈষ্ঠ আসার আগেই রাজধানীর ফুটপাত ও ফলের দোকানগুলোতে শোভা পাচ্ছে ‘পাকা’ আম। রাসায়নিক দিয়ে কৃত্রিমভাবে পাকানো এসব আম ক্রমাগত খাওয়ার ফলে কিডনি ও লিভারের কার্যক্ষমতা নষ্ট হওয়া ছাড়াও ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে মত বিশেষজ্ঞদের। বিশেষ করে শিশুদের জন্য এটি অত্যন্ত ক্ষতিকর বলে জানিয়েছেন তারা।

আকর্ষণীয় রঙে ক্রেতাদের নজর কাড়লেও, বাস্তবে এর স্বাদ ও ঘ্রাণ নিয়ে দেখা দিয়েছে চরম অসন্তোষ। বিশেষ করে সাতক্ষীরাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা এসব আম অসাধু ব্যবসায়ীরা ক্যালসিয়াম কার্বাইডসহ বিভিন্ন ক্ষতিকারক কেমিক্যাল ব্যবহার করে পাকিয়ে বাজারে ছাড়ছেন।
প্রতি বছর গবেষক ও বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটির মাধ্যমে জানানো হয় কোন জেলায় কোন জাতের আম কবে নাগাদ ‘হারভেস্ট’ করা যাবে। সেই অনুযায়ী সাধারণত মে মাসের শুরুর দিকে বাজারে আগাম জাতের গুটি বা আঁটি আম আসে।
এ বছরও রোববার (২ মে) খামারবাড়িতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের এই সংক্রান্ত সভা হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু তার আগেই বাজার ছেয়ে গেছে গোবিন্দভোগ ও গোপালভোগের মতো উন্নত জাতের আমের নামে বিক্রি হওয়া কৃত্রিমভাবে পাকানো এসব ফলে।
রাজধানীর কারওয়ান বাজার, বাদামতলীসহ বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে সরেজমিনে দেখা গেছে, এসব আমের বোঁটার অংশ শুকানো, শরীর টকটকে হলুদ। কিন্তু কাটার পর দেখা যাচ্ছে আমের আঁটি এখনো নরম এবং ভেতরে টক বা পানসে ভাব। আমের চিরাচরিত সেই সুবাসও নেই।
কারওয়ান বাজার থেকে আম কিনে ফিরছিলেন সদরুল আবেদীন। তিনি বলেন, বাজারে বছরের প্রথম আম দেখলাম তাই কিনলাম। আম নিজে পেকেছে না জোর করে পাকানো হয়েছে এত কিছু চিন্তা করিনি। বাচ্চা দেখলে খুশি হবে তাই কিনেছি।
কদমতলী মোড়ে রফিকুল ইসলাম নামের একজন বলেন, খুব আগ্রহ নিয়ে ২০০ টাকা দিয়ে এক কেজি আম কিনলাম। কেনার পর দোকানেই একটি কেটেছি। কিন্তু আমের স্বাদ কিংবা ঘ্রাণ তার কিছুই এতে নেই।
সাতক্ষীরায় কেমিকেল দিয়ে পাকানো আম ধ্বংস করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (ফল বিভাগ) ড. মো. মশিউর রহমান বলেন, প্রাকৃতিকভাবে আম পাকার জন্য নির্দিষ্ট সময় ও তাপমাত্রার প্রয়োজন।
কিন্তু ব্যবসায়ীরা বিশেষ করে সাতক্ষীরা অঞ্চল থেকে আম পেড়ে তাতে ‘ইথ্রেল’ বা ‘কার্বাইড’ স্প্রে করে তড়িঘড়ি করে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্নস্থানে পাঠাচ্ছেন। এতে আমের ওপরের অংশ দ্রুত হলুদ হলেও ভেতরে প্রকৃত মিষ্টতা আসে না।
রাসায়নিক দিয়ে পাকানো এসব আম খাওয়ার ফলে শরীরে নানা সমস্যা তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি।
কার্বাইডযুক্ত আম খেলে বমি, ডায়রিয়া এবং পেটে ব্যথা হতে পারে। এসব রাসায়নিকের সংস্পর্শে ত্বকে অ্যালার্জি এবং দীর্ঘমেয়াদে স্নায়বিক দুর্বলতা দেখা দিতে পারে। ক্রমাগত এসব ফল গ্রহণে কিডনি ও লিভারের কার্যক্ষমতা নষ্ট হওয়া ছাড়াও ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে। বিশেষ করে শিশুদের জন্য এটি ক্ষতিকর।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে রাসায়নিক (কেমিক্যাল) মিশিয়ে পাকানো আম ধ্বংস করা হলেও বাজারে সেসব আমের অভাব নেই।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের ঢাকা ডিভিশনের উপ-পরিচালক নয়ন কুমার সাহা বলেন, নির্দিষ্ট সময়ের আগে আম পাড়া বন্ধে জেলা প্রশাসনগুলো কাজ করছে। বাজারজাতের ব্যাপারে আমরা অভ্যন্তরীণভাবে আলোচনা করেছি। আগামীকালের সভার পর আমরা মাঠে নামার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেব।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
তবে প্রতারণা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে বাঁচতে ক্রেতাদেরও এ ব্যাপারে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেন এই কর্মকর্তা।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


