বর্তমান সময়ে স্মার্টফোন ছাড়া দৈনন্দিন জীবন কল্পনাই করা যায় না। অফিসের কাজ থেকে শুরু করে বিনোদন, যোগাযোগ কিংবা পড়াশোনা—সব ক্ষেত্রেই এই ছোট ডিভাইসটির ওপর আমাদের নির্ভরতা বেড়েই চলেছে। কিন্তু সামান্য অসচেতন ব্যবহারের কারণে স্মার্টফোনের ব্যাটারি ও কর্মক্ষমতা দ্রুত নষ্ট হয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে চার্জ দেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম মেনে চললে ফোন দীর্ঘদিন ভালো রাখা সম্ভব।

চলুন জেনে নেওয়া যাক, কীভাবে চার্জ দিলে স্মার্টফোন দীর্ঘস্থায়ী হবে—
সবসময় ১০০ শতাংশ চার্জ দেওয়া এড়িয়ে চলুন
অনেকে মনে করেন ফোন পুরো চার্জ না হলে ব্যবহার ঠিকমতো হবে না। বাস্তবে নিয়মিত ১০০ শতাংশ চার্জ দিলে ব্যাটারির ওপর বাড়তি চাপ পড়ে, যা এর আয়ু কমিয়ে দেয়। তাই চেষ্টা করুন ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ চার্জেই প্লাগ খুলে ফেলতে।
চার্জ একেবারে শেষ হওয়ার আগেই চার্জে দিন
ব্যাটারি পুরোপুরি শেষ করে ফোন ব্যবহার করা মোটেও ভালো অভ্যাস নয়। এতে ব্যাটারি দ্রুত দুর্বল হয়ে যায়। ফোনে ২০–২৫ শতাংশ চার্জ থাকতেই চার্জে বসানো সবচেয়ে নিরাপদ।
চার্জ দেওয়ার সময় সমতল জায়গা বেছে নিন
বিছানা, বালিশ বা নরম জায়গায় ফোন রেখে চার্জ দেওয়া ঠিক নয়। এতে ফোনের তাপ বের হতে না পেরে অতিরিক্ত গরম হয়ে যেতে পারে। সবসময় শক্ত ও সমতল জায়গায় ফোন রেখে চার্জ দিন।
নির্ভরযোগ্য ও আসল চার্জার ব্যবহার করুন
ফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের দেওয়া চার্জার ব্যবহার করাই সবচেয়ে ভালো। নকল বা নিম্নমানের চার্জার ব্যাটারি এবং ফোনের ভেতরের সার্কিটের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে।
চার্জার লাগাতে গিয়ে জোর প্রয়োগ করবেন না
চার্জিং কেবল সংযোগ দেওয়ার সময় জোরে চাপ দিলে পোর্ট ঢিলা হয়ে যেতে পারে বা নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে। হালকা হাতে চার্জার লাগান।
চার্জিং পোর্ট পরিষ্কার রাখুন
চার্জিং পোর্টে ধুলো বা ময়লা জমলে চার্জ ঠিকভাবে প্রবেশ করে না। এতে ভেতরের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সময় সময় নরম ব্রাশ বা শুকনো কাপড় দিয়ে পোর্ট পরিষ্কার করুন।
চার্জের সময় ফোন ব্যবহার না করাই উত্তম
চার্জ দিতে দিতে গেম খেলা, ভিডিও দেখা বা দীর্ঘ সময় কথা বললে ফোন অতিরিক্ত গরম হয়। এতে ব্যাটারির ক্ষয় দ্রুত ঘটে। সম্ভব হলে চার্জের সময় ফোন ব্যবহার এড়িয়ে চলুন।
চার্জিং প্লাগ নিরাপদ কি না যাচাই করুন
যে সুইচ বা প্লাগ পয়েন্টে ফোন চার্জ দেওয়া হচ্ছে, সেটি ঠিক আছে কি না নিশ্চিত হওয়া জরুরি। ঢিলা বা নষ্ট প্লাগ থেকে শর্ট সার্কিট হয়ে ফোন বড় ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


