এখন ঘরে বসেই কোলেস্টেরলের মাত্রা মাপা সম্ভব। অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের কারণে রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল বাড়লে হৃদরোগের ঝুঁকি তৈরি হয়।

বর্তমানে বাজারে কিংবা অনলাইন মাধ্যমে নানা ধরনের কোলেস্টেরল হোম টেস্ট কিট পাওয়া যায়, আপনি চাইলে তা দিয়ে ঘরে বসেই মেপে নিতে পারেন। এতে ঝামেলামুক্ত, নিশ্চিন্ত জীবন।
রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়েছে শুনলেই বেশির ভাগ মানুষের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ে যায়! কোলেস্টেরল বাড়লেই হৃদরোগেরও ঝুঁকি বেড়ে যায়। যার উচ্চ কোলেস্টেরল রয়েছে বা পরিবারে কোলেস্টেরলের ইতিহাস আছে, তার চিন্তা আরও বেশি।
কোলেস্টেরল মাঝেমধ্যেই ঊর্ধ্বসীমা পেরিয়ে যায়। কখন বাড়ছে, তা বোঝার জন্য রক্তপরীক্ষা করতে হয়। কোলেস্টেরল বাড়ছে কিনা, তা বুঝতে হয়। এবার সেই ঝামেলা পোহাতে হবে না। কারণ ঘরে বসে সুগার মাপার মতো যন্ত্র এখন অনলাইনে পাওয়া যায়। অনলাইনে তা সহজলভ্য।
কোলেস্টেরলের পাল্লা কতটা ভারি, তা দ্রুতই মেপে নিতে পারেন ঘরে বসে। অনলাইনে অর্ডার করলেই এখন হাতের মুঠোয় পেয়ে যাবেন। এর দাম ব্র্যান্ডের ধরনের ওপর নির্ভর করে। সাধারণত কোলেস্টেরল মিটার বা মাল্টি মনিটরিং সিস্টেমের দাম শুরু হয় সাড়ে তিন হাজার টাকা থেকে। ভালো ব্র্যান্ডের কিনলে দাম পড়বে আট হাজার থেকে ২৮ হাজার টাকা পর্যন্ত।
ঘরে বসে কীভাবে মাপবেন কোলেস্টেরল?
বাড়িতে কোলেস্টেরল মাপার জন্য ‘মাল্টি-মনিটরিং সিস্টেম’ বা ‘কোলেস্টেরল মিটার’ ব্যবহার করা যেতে পারে। এটি দেখতে অনেকটা ডায়াবেটিস মাপার গ্লুকোমিটারের যন্ত্রের মতো। এ যন্ত্রগুলো এখন উন্নত সংস্করণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগও হচ্ছে। এতে এমন এআই চিপ বসানো থাকে, যা রক্তের নমুনা দেখেই বলে দিতে পারে কোলেস্টেরলের মাত্রা কতটা, কী পরিমাণে বেড়েছে ট্রাইগ্লিসারাইড।
শুধু তাই নয়, রক্তে ভালো কোলেস্টেরল (এইচডিএল) কতটা কমেছে আর খারাপ (এলডিএল) কতটা বেড়েছে, তার অনুপাতও ঝটপট বলে দিতে পারে।
এমন অনেক কোলেস্টেরল মিটার বেরিয়েছে, যাতে ব্লুটুথ লাগানো থাকে। সেটি আবার ফোনের অ্যাপের সঙ্গে যোগ করা যায়। এর লাভ হলো কোন সময়ে কোলেস্টেরল কী পরিমাণে বাড়ছে বা কমছে, তার রেকর্ড রাখা যায়। এই রেকর্ড দেখে বোঝা যাবে— হৃদরোগের আশঙ্কা আছে কিনা।
সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে পরীক্ষা করলে সবচেয়ে ভালো রিডিং পাওয়া যাবে। সাধারণত ৯-১২ ঘণ্টা খালি পেটে থাকা ভালো। তাহলে মাপ ঠিকমতো আসবে। যন্ত্রটিতে এআই চিপ বসানো থাকে, আর থাকে কয়েকটি স্ট্রিপের সেট।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
সেই স্ট্রিপ মেশিনে ঢোকালেই যন্ত্রটি প্রস্তুত হয়ে যায়। এরপর ঠিক গ্লুকোমিটারের মতো আঙুলের ডগায় ফুটিয়ে রক্ত সেই স্ট্রিপে ফেলতে হবে। সাধারণত ১৫ থেকে ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে মেশিনের স্ক্রিনে কোলেস্টেরল কত, সেই রিডিং ফুটে উঠবে। তবে পরীক্ষাটি করার আগে আঙুল ভালো করে পরিষ্কার করে নিতে হবে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


