মানুষের কর্মদক্ষতা অর্জনের জন্য প্রয়োজন যোগ্য সহকর্মী ও সহযাত্রী। পবিত্র কোরআনে বর্ণিত আছে, হজরত মুসা (আ.) আল্লাহর কাছে নিজের পরিবারের মধ্য থেকে একজন সহযোগী চেয়েছিলেন—তার ভাই হারুন (আ.)—যাতে তিনি শক্তি পান এবং কাজে অংশীদারিত্ব গড়ে ওঠে (সুরা ত্বহা, আয়াত ২৯–৩৪)। আবার সুরা কাসাসে বলা হয়েছে, উত্তম কর্মী সেই, যে শক্তিশালী ও বিশ্বস্ত।

ইসলামে কর্মবিমুখতা বা ভোগবাদ নয়, বরং পরিশ্রমকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মানুষকে আল্লাহ সম্মানিত করেছেন এবং তাকে দায়িত্বশীল করে সৃষ্টি করেছেন (সুরা বনি ইসরাঈল, আয়াত ৭০)। তাই জীবনের পথে এগোতে হলে সহকর্মীর প্রয়োজন এবং তাদের যোগ্যতার মূল্যায়ন অপরিহার্য।
মানুষের স্বভাব ভিন্ন ভিন্ন। কেউ নিজের ও অন্যের উপকার করে—এরা বিরল। কেউ অন্যের উপকারের আড়ালে নিজের স্বার্থ খোঁজে। কেউ শুধু নিজের স্বার্থ দেখে, আবার কেউ নিজের বা অন্যের কোনো উপকারই করে না। এই বৈচিত্র্যের মধ্যেই একজন উত্তম সহকর্মী নির্বাচন ও সম্পর্ক গড়ে তোলার গুরুত্ব বোঝা যায়।
ইসলাম শ্রম ও শ্রমিকের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করেছে। প্রিয় নবী (সা.) বলেছেন, শ্রমিকদের সাধ্যাতীত কাজ চাপিয়ে দেওয়া যাবে না এবং তাদের প্রাপ্য পারিশ্রমিক দ্রুত পরিশোধ করতে হবে। শ্রমিক ও মালিকের সম্পর্ককে তিনি ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ করেছেন।
বাস্তবে দেখা যায়, অনেক ক্ষেত্রেই শ্রমজীবী মানুষ ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত। নির্মাণশ্রমিক, কৃষিশ্রমিক, চা-শ্রমিকসহ নানা পেশার মানুষ কষ্টের জীবনযাপন করে। অনেক নারী তাদের শ্রমের যথাযথ মূল্যায়ন পায় না। আবার কেউ জীবিকার তাগিদে দেশ ছেড়ে বিদেশে পাড়ি জমায়, কেউ চরম দারিদ্র্যে পড়ে অনাকাঙ্ক্ষিত পথে চলে যায়।
অন্যদিকে বুদ্ধিবৃত্তিক শ্রমও অনেক সময় অবমূল্যায়িত হয়। অথচ একটি সুস্থ সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে শারীরিক ও মানসিক—উভয় ধরনের শ্রমই সমান গুরুত্বপূর্ণ।
সফল কর্মপরিবেশ গড়ে ওঠে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহযোগিতা, সহানুভূতি ও ধৈর্যের মাধ্যমে। কোরআনে বলা হয়েছে, সৎকাজে একে অপরকে সহযোগিতা করতে হবে এবং অন্যায় কাজে নয় (সুরা মায়েদা, আয়াত ২)।
সহকর্মীর খোঁজ নেওয়া, হাসিমুখে কথা বলা—এসবও ইবাদতের অংশ। হাদিসে এসেছে, একজন মুসলমান সেই, যার হাত ও মুখ থেকে অন্যরা নিরাপদ থাকে; এমনকি ভাইয়ের দিকে হাসিমুখে তাকানোও সদকা।
সর্বোপরি, পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সহযোগিতাই কর্মক্ষেত্রে সফলতা এনে দেয়। আল্লাহর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, সঠিক সহযোগিতা ও ঐক্য থাকলে বিজয় অনিবার্য (সুরা কাসাস, আয়াত ৩৫)।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


