মহান আল্লাহ তাঁর অসীম দয়া ও অনুগ্রহে রমজান মাসকে বানিয়েছেন রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস। এ মাসের অন্যতম অমূল্য রত্ন হলো রোজাদারের দোয়া। রোজা মানুষকে সংযম, ধৈর্য ও তাকওয়ার শিক্ষা দেয়। ক্ষুধা-তৃষ্ণা সহ্য করতে করতে মানুষের অন্তর নরম হয়ে যায়, বিনম্র হয়ে যায়—আর ভাঙা হৃদয়ের দোয়া আল্লাহর দরবারে বিশেষ মর্যাদাপ্রাপ্ত।

রোজা ও দোয়ার গভীর সম্পর্ক
রোজা ও দোয়ার মধ্যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে। কারণ দোয়া হলো আল্লাহর অনুগ্রহ প্রাপ্তির অন্যতম প্রধান মাধ্যম।
আবু দাউদ-এ বর্ণিত (হাদিস: ১৪৭৯), রাসুল (সা.) বলেছেন:
“দোয়া নিজেই একটি ইবাদত।”
আর ইবনে মাজাহ-এ (হাদিস: ৩৮২৯) এসেছে:
“মহান আল্লাহর কাছে দোয়ার চেয়ে অধিক সম্মানিত কোনো জিনিস নেই।”
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন—
“যখন আমার বান্দারা আমার সম্পর্কে তোমার কাছে জিজ্ঞেস করে, আমি তো তাদের নিকটেই। আহ্বানকারী যখন আমাকে আহ্বান করে, আমি তার আহ্বানে সাড়া দিই…”
— সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত ১৮৬
এই আয়াতটি রোজার আয়াতগুলোর মাঝখানে এসেছে, যা স্পষ্ট ইঙ্গিত করে—রোজা ও দোয়ার মধ্যে নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। রোজা মানুষকে আল্লাহর নৈকট্যে পৌঁছে দেয়, আর নৈকট্যই দোয়া কবুলের অন্যতম কারণ।
রোজাদারের দোয়া: অব্যর্থ প্রতিশ্রুতি
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
“তিন ব্যক্তির দোয়া প্রত্যাখ্যাত হয় না—
১) ন্যায়পরায়ণ শাসক,
২) রোজাদার যতক্ষণ না ইফতার করে,
৩) মজলুমের দোয়া।”
— ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১৭৫২
কিয়ামতের দিন আল্লাহ সেই দোয়াকে মেঘমালার ওপরে তুলে নেবেন এবং তার জন্য আসমানের দরজা খুলে দেবেন।
এছাড়াও মুসনাদে আহমদ (হাদিস: ১৮৭৯৪)-এ এসেছে—
রমজানের প্রতিটি রাতে আল্লাহ অসংখ্য বান্দাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দান করেন এবং ঘোষণা করা হয়:
“হে কল্যাণের প্রত্যাশী, অগ্রসর হও; হে অকল্যাণের প্রার্থী, থেমে যাও।”
এটি রমজানের এক অনন্য সুযোগ—যেখানে দোয়া, তওবা ও ইবাদতের মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর বিশেষ রহমত লাভ করতে পারে।
রমজানের সবচেয়ে ফজিলতপূর্ণ রাত হলো লাইলাতুল কদর।
রাসুল (সা.) বলেছেন—
“রমজানে এমন একটি রাত রয়েছে, যা এক হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। যে ব্যক্তি এ রাতের কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হলো, সে প্রকৃতপক্ষে সব কল্যাণ থেকেই বঞ্চিত।”
— ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১৬৪৪
কিন্তু এ রাতের নির্দিষ্ট তারিখ গোপন রাখা হয়েছে, যাতে মুমিনরা রমজানের প্রতিটি রাতেই ইবাদত ও দোয়ায় মনোযোগী হয়।
লাইলাতুল কদরের বিশেষ দোয়া
আয়েশা (রা.) বলেন, তিনি জিজ্ঞেস করেছিলেন—
“ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি যদি কদরের রাত পেয়ে যাই, তবে কী দোয়া পড়ব?”
তিনি (সা.) বলেন—
“আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন, তুহিব্বুল আফওয়া, ফা’ফু আন্নি।”
অর্থ: “হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাশীল, ক্ষমা করতে ভালোবাসেন; অতএব আমাকে ক্ষমা করুন।”
— ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৩৮৫০
রমজান শুধু ক্ষুধা-তৃষ্ণা সহ্য করার নাম নয়; এটি আত্মশুদ্ধি, তাকওয়া ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের মাস। রোজা আমাদের অন্তরকে কোমল করে তোলে, আর সে সময় করা দোয়া হয় অত্যন্ত মূল্যবান।
তাই প্রতিটি রোজাদারের উচিত—
-ইফতারের আগে বেশি বেশি দোয়া করা
-রমজানের প্রতিটি রাত গুরুত্ব দিয়ে ইবাদত করা
-লাইলাতুল কদরের বিশেষ দোয়া নিয়মিত পড়া
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে রমজানের প্রকৃত ফজিলত অর্জনের তাওফিক দান করুন। আমিন।
মাইমুনা আক্তার
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


