আসুন, আমরা মহান আল্লাহ তাআলার অশেষ প্রশংসা ও শুকরিয়া আদায় করি। তিনি আমাদের জন্য দান করেছেন এক মহিমান্বিত, বরকতময় ও কল্যাণময় মাস—রামাদান। এটি আমাদের জন্য এক বিশাল নেয়ামত ও অনন্য সুযোগ। তাই এ মাসকে যথাযথভাবে কাজে লাগানো আমাদের দায়িত্ব।

রামাদানের প্রকৃত দাবি হলো—ইখলাস ও দৃঢ় ঈমানের সঙ্গে সিয়াম পালন করা, রাতের ইবাদত তথা তারাবি ও কিয়ামুল লাইল আদায় করা, শেষ দশকে লাইলাতুল কদর অন্বেষণ করা এবং সামর্থ্য অনুযায়ী ইতেকাফে বসা। পাশাপাশি সাদকাহ প্রদান, কোরআন তিলাওয়াত বৃদ্ধি এবং উত্তম আচরণের মাধ্যমে নিজের আমলকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করা।
রামাদান এমন এক মাস, যে মাসে পবিত্র কোরআন নাজিল হয়েছে। এটি আত্মশুদ্ধি, রহমত, মাগফিরাত ও জাহান্নাম থেকে মুক্তির মাস (সূরা বাকারা: ১৮৩-১৮৫)। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি ঈমান ও সওয়াবের আশায় রামাদানের রোজা রাখবে, তার পূর্বের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।” (সহিহ বুখারি ও মুসলিম)
এই মাসে জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয়, জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং শয়তানদের শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়। একজন ঘোষক আহ্বান করতে থাকেন—“হে কল্যাণের অন্বেষণকারী! এগিয়ে আসো; হে অকল্যাণকামী! বিরত হও।” (বুখারি: ১৮৯৯, মুসলিম: ১০৭৯)
রামাদানের শেষ দশকের মাঝে রয়েছে মহিমান্বিত লাইলাতুল কদর, যার ইবাদত হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ (সূরা কদর: ১-৩)। এ মাসের সিয়াম মানুষকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করে (বুখারি: ১৮৯৪)। আরও বর্ণিত হয়েছে যে, রোজার প্রতিদান আল্লাহ নিজ হাতে প্রদান করবেন (বুখারি: ১৯০৪)।
এ মাসে ফরজ ইবাদতের সওয়াব বহুগুণ বৃদ্ধি পায় এবং নফল ইবাদত ফরজের সমান মর্যাদা লাভ করে। তাই রামাদানের আগমন আমাদের জন্য আনন্দের বার্তা। আমাদের উচিত একে গনিমত মনে করা এবং আল্লাহর আনুগত্যে নিজেকে সম্পূর্ণরূপে সমর্পণ করা।
আমরা যেন স্মরণ করি—গত বছর যারা আমাদের মাঝে ছিলেন, তারা অনেকেই আজ আর বেঁচে নেই। তারা এ রামাদানের অপেক্ষায় ছিলেন, কিন্তু তাদের সময় শেষ হয়ে গেছে। এখন তারা এমন জগতে অবস্থান করছেন, যেখানে সঙ্গে রয়েছে কেবল তাদের আমল। তাই যতদিন জীবন আছে, ততদিন এ সুযোগকে মূল্যবান মনে করে ইবাদতে মনোযোগী হওয়া প্রয়োজন।
রামাদান আমাদের কাছে আবার ফিরে এসেছে। আল্লাহ আমাদের নতুন সুযোগ দিয়েছেন। আসুন, আমরা দিন ও রাতগুলো ইবাদতের মাধ্যমে আলোকিত করি। আল্লাহ আমাদেরকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করুন, যারা ঈমান ও সওয়াবের আশায় সিয়াম ও কিয়াম আদায় করে।
আমাদের উচিত সব আমল ইখলাসের সঙ্গে এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ অনুযায়ী সম্পাদন করা। এ মূল্যবান সময় অপ্রয়োজনীয় কাজে—বিশেষত ছবি তোলা বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অযথা সময় ব্যয়ে—নষ্ট করা উচিত নয়। বরং এমন কাজে সময় দেওয়া উচিত, যা আমাদের আত্মিক উন্নতি ঘটায় এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে সহায়ক হয়।
আসুন, আমরা দোয়া করি—আল্লাহ যেন আমাদের সিয়াম, কিয়াম ও সব নেক আমল কবুল করেন; আমাদের জাহান্নাম থেকে মুক্তি দান করেন; আমাদের পিতা-মাতা ও পূর্ববর্তী মৃত মুসলিমদের ক্ষমা করেন; এবং ভবিষ্যতেও এ বরকতময় মাস লাভের তাওফিক দান করেন।
আমরা নিজেদের জন্য, মুসলিম উম্মাহর জন্য, দেশের কল্যাণের জন্য এবং মুসলিমদের ঐক্য, উন্নতি ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য বেশি বেশি দোয়া করি।
বিশ্বমানবতার নেতা, আল্লাহর বান্দা ও রাসুল, নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), তাঁর পরিবার ও সাহাবিদের ওপর অগণিত দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।
হে আল্লাহ! আমাদের সবাইকে এ মহান মাসের সব ফজিলত আপনার সন্তুষ্টির জন্য এবং প্রিয় নবী (সা.)-এর সুন্নাহ অনুসারে অর্জন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
লেখক : সৈয়দ নজরুল ইসলাম
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


