সন্তান জন্মগ্রহণের পর আল্লাহর শুকরিয়াস্বরূপ যে পশু জবাই করা হয়, তাকে আকিকা বলা হয়। এটি একটি মুস্তাহাব আমল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সন্তানের জন্য আকিকা করতে হয়। তাই তোমরা তার পক্ষ থেকে পশু জবাই করো এবং তার মাথার চুল ও অশুচি দূর করে দাও। (সহিহ বুখারি : ২/৮২২)

অন্য হাদিসে এসেছে, কারও সন্তান জন্ম নিলে সে যদি সন্তানের পক্ষ থেকে আকিকা করতে চায়, তাহলে যেন তা করে। (সুনানে নাসায়ি : ২/১৬৭)
আমাদের সমাজে অনেকেই কোরবানির পশুর সঙ্গে সন্তানের আকিকার অংশ যুক্ত করতে চান। কিন্তু এ বিষয়ে শরিয়তের বিধান সম্পর্কে অনেকে নিশ্চিত নন। তাদের জন্য বিষয়টি সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো—
কোরবানির সঙ্গে আকিকা দেওয়া যাবে কি?
ইসলামি ফিকহ ও আলেমদের অধিকাংশের মতে, গরু, মহিষ বা উটের সাত ভাগের মধ্যে আকিকার নিয়তে অংশ নেওয়া জায়েজ। এতে কোরবানি ও আকিকা—উভয়ই সহিহভাবে আদায় হয়। ছেলের জন্য দুই অংশ এবং মেয়ের জন্য এক অংশ দেওয়া উত্তম বলে উল্লেখ করা হয়।
যদি কেউ ছোটবেলায় আকিকা না করে থাকে, তাহলে বড় হয়েও তা করা যায়। এ ক্ষেত্রে যার আকিকা করা হচ্ছে, সে নিজে এবং তার অভিভাবকরাও সেই মাংস খেতে পারেন। (ইলাউস সুনান : ১৭/১২৬)
আলেমদের মতামত
কিছু আলেমের মতে কোরবানির পশুর সঙ্গে আকিকা করা সহিহ নয়, তবে নির্ভরযোগ্য অনেক ফিকহবিদ এ মত গ্রহণ করেননি। তাদের মতে, যেহেতু কোরবানির পশুতে একাধিক ইবাদতের নিয়ত করে অংশ নেওয়ার সুযোগ আছে—যেমন হজের দম বা কাফফারা—তাই আকিকার নিয়তেও অংশ নেওয়া বৈধ।
আতা ইবনে আবি রাবাহ (রহ.) বলেছেন, উট ও গরু সাতজনের পক্ষ থেকে কোরবানি করা যায়, এবং সেখানে বিভিন্ন ধরনের ইবাদতের নিয়তও একসাথে করা যেতে পারে। (আস-সুনান, সাঈদ ইবনে মানসুর)
এছাড়া ফিকহের নির্ভরযোগ্য গ্রন্থসমূহেও উল্লেখ আছে যে, কোরবানির পশুর সঙ্গে আকিকা করা বৈধ ও সহিহ। (রদ্দুল মুহতার ৬/৩২৬; হাশিয়াতুত তাহতাবী আলাদ-দুর ৪/১১৬)
সঠিক ও গ্রহণযোগ্য মত অনুযায়ী, কোরবানির পশুর মধ্যে আকিকার অংশ নেওয়া জায়েজ। তাই একই পশুতে কোরবানি ও আকিকা উভয় নিয়ত করে আদায় করা শরিয়তসম্মতভাবে সহিহ।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



