Advertisement

সাইফুল ইসলাম : আগামীকাল ১৬ মার্চ বিএনপির প্রয়াত মহাসচিব, বীর মুক্তিযোদ্ধা, একুশে পদকপ্রাপ্ত ভাষা সৈনিক ও স্বৈরাচার পতন সংগ্রামের অগ্রনায়ক খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন এর মৃত্যুবার্ষিকী। জাতীয় রাজনীতিতে দীর্ঘ সময় সক্রিয় থাকা এই প্রবীণ নেতা দল ও দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে গেছেন। বিশেষ করে রাজনৈতিক সংকটময় সময়ে দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড সচল রাখা এবং সংসদীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখার কারণে তিনি বিএনপির ইতিহাসে একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে বিবেচিত হন।

Kh. Delowar

রাজনৈতিক সূত্র ও দলীয় নেতাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকা এই নেতা জাতীয় সংসদে একাধিকবার প্রতিনিধিত্ব করেছেন এবং দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। তার রাজনৈতিক অবদান, দলীয় মূল্যায়ন এবং তার পরিবারের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়ে স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

পাঁচবারের সংসদ সদস্য:
মানিকগঞ্জ-১ আসন থেকে খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন মোট পাঁচবার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৭৯, ১৯৯১, ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬, জুন ১৯৯৬ এবং ২০০১ সালের নির্বাচনে সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

সংসদে তিনি একজন দক্ষ পার্লামেন্টারিয়ান হিসেবে পরিচিত ছিলেন। বিভিন্ন সময়ে তিনি জাতীয় সংসদে চিফ হুইপের দায়িত্বও পালন করেন এবং দলীয় ও সংসদীয় কার্যক্রম পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

বিএনপির দুঃসময়ে নেতৃত্ব:
২০০৭-০৮ সালের রাজনৈতিক সংকটের সময় দলের অনেক শীর্ষ নেতা কারাবন্দি বা রাজনৈতিকভাবে নিষ্ক্রিয় থাকলেও সে সময় বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন। ওই সময় তিনি দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড সচল রাখার চেষ্টা করেন এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে সমন্বয় করে দলকে সংগঠিত রাখতে ভূমিকা রাখেন। এজন্য অনেক নেতা তাকে সেই সময়ের “ক্রান্তিকালের কান্ডারী” হিসেবেও উল্লেখ করেন।

মন্ত্রীত্ব না পাওয়া নিয়ে আলোচনা:
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনকে কখনো মন্ত্রী করা হয়নি। তার সময়ে রাজনীতিতে তুলনামূলক কম অভিজ্ঞ অনেক নেতা মন্ত্রীত্ব পেলেও তাকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এ বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন সময়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে।
তবে দলের গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্ব এবং মহাসচিব পদে দায়িত্ব পালন করাকে অনেকেই তার প্রতি দলের আস্থার প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেন।

পরিবারের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা:
প্রয়াত এই নেতার পরিবারও রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত রয়েছে। তার ছেলে ড. খোন্দকার আকবর হোসেন বাবলু মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়। তিনি জেলা বিএনপির সাবেক কৃষিবিষয়ক সম্পাদক, সাবেক সহ-সভাপতি এবং বর্তমানে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

দলীয় সূত্র জানায়, তিনি একাধিকবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশা করলেও তা পাননি।

মানিকগঞ্জে রাজনৈতিক অবস্থান:
স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতে, পশ্চিম মানিকগঞ্জে ড. খোন্দকার আকবর হোসেন বাবলু এবং তার পরিবারের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ঐতিহ্য রয়েছে। এলাকায় তার ব্যাপক জনপ্রিয়তা এবং একটি বড় কর্মী-সমর্থক গোষ্ঠী রয়েছে বলেও দাবি করেন নেতাকর্মীরা।

দলীয় নেতাকর্মীদের অনেকে তাকে সৎ, শিক্ষিত ও ভদ্র রাজনীতিবিদ হিসেবে উল্লেখ করেন। তাদের মতে, দীর্ঘদিন দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কারণে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গেও তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে।

জেলা বিএনপির নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা:
বর্তমানে মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি পদ নিয়ে স্থানীয় রাজনীতিতে আলোচনা চলছে। অনেক নেতাকর্মীর অভিমত, ড. খোন্দকার আকবর হোসেন বাবলু জেলা বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হলে দলটি একজন সৎ, শিক্ষিত ও সাংগঠনিকভাবে গ্রহণযোগ্য নেতা পেতে পারে।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জেলা বিএনপির নেতৃত্ব নির্ধারণের ক্ষেত্রে দলীয় নীতিনির্ধারকরা সাধারণত সাংগঠনিক দক্ষতা, আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা এবং তৃণমূলের সমর্থনকে গুরুত্ব দিয়ে থাকেন।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিএনপির ইতিহাসে খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে স্মরণীয় থাকবেন। একই সঙ্গে তার পরিবারের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণেও দলের সাংগঠনিক বাস্তবতা এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

Zoom Bangla News
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com
Follow

Follow Zoom Bangla News On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from Zoom Bangla News in your Google news feed.

Follow Zoom Bangla News On Google