লেবাননে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সামরিক হামলা নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। তেহরানের অভিযোগ, এসব হামলায় যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি ইসরায়েলকে সহায়তা করছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এসব হামলাকে ‘নৃশংস’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে বলেন, শুধু লেবানন নয়, ফিলিস্তিনসহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য অঞ্চলেও ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডে যুক্তরাষ্ট্র কার্যত সহযোগীর ভূমিকা পালন করছে।
আল-জাজিরার প্রতিবেদনে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য উল্লেখ করে বলা হয়েছে, চলমান সংঘাত শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩ হাজার ৩২৪ জন নিহত এবং ১০ হাজার ২৭ জন আহত হয়েছেন।
এদিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা চললেও পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত। নিরাপত্তা বিশ্লেষক আলি রিজক বলেন, ইরান হিজবুল্লাহকে একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক মিত্র হিসেবে বিবেচনা করে। তাই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো আলোচনায় তেহরান সংগঠনটির স্বার্থ রক্ষায় সচেষ্ট থাকবে।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি পারমাণবিক ইস্যুসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ইরানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছাতে চায়, তবে হিজবুল্লাহকে কিছুটা গ্রহণযোগ্যতা দিতে হতে পারে। তবে এমন সম্ভাবনাই ইসরায়েলের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
রিজকের মতে, ভবিষ্যতে লেবাননের পরিস্থিতি সরাসরি লেবানন-ইসরায়েল আলোচনার চেয়ে বরং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের গতিপথের ওপর বেশি নির্ভর করতে পারে।
এদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী আনসারিয়া, আল-খারাইব, শাবরিহা, সারাফান্দ, আদলুন ও বাইসারিয়া সহ কয়েকটি এলাকার বাসিন্দাদের সরে যেতে বলেছে। সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র জাহরানি নদীর উত্তরে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী আরও জানিয়েছে, হিজবুল্লাহর সদস্য, স্থাপনা বা সামরিক সরঞ্জামের কাছাকাছি অবস্থান করা সাধারণ মানুষের জন্য জীবনঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



