ইসলামের ইতিহাসে মদিনা এক অনন্য মর্যাদা ও বরকতময় নগরী। মহান আল্লাহ তাআলা এই শহরকে প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আশ্রয়স্থল হিসেবে মনোনীত করেছেন।

নবীজি (সা.) তাঁর জীবনের শেষ ১০ বছর এই পবিত্র নগরীতে অতিবাহিত করেন। এখানেই তিনি ইন্তেকাল করেন এবং মসজিদে নববী-র সন্নিকটে তাঁর রওজা মুবারক অবস্থিত। তাই জিয়ারতে মদিনা মুসলমানদের জন্য গভীর ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও আনুগত্যের এক উজ্জ্বল নিদর্শন।
মদিনা নগরীর মর্যাদা ও ফজিলত
মদিনার পূর্ব নাম ছিল ‘ইয়াসরিব’। নবীজি (সা.)-এর হিজরতের পর এ নগরীর নাম রাখা হয় ‘মদিনা’। পবিত্র কোরআনের সুরা তাওবা, আহজাব ও মুনাফিকুনে মদিনার নাম একাধিকবার উল্লেখ করা হয়েছে। ইসলামী ঐতিহাসিক ইমাম নূর উদ্দিন সামহুদি তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ওয়াফাউল ওয়াফা-এ মদিনার ৯৫টি নামের কথা উল্লেখ করেছেন।
নবী করিম (সা.) মদিনাকে অত্যন্ত ভালোবাসতেন এবং উম্মতের কাছেও এ শহরকে প্রিয় করে দেওয়ার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করতেন। তিনি বলেন,
“হে আল্লাহ! মক্কাকে যেমন আমাদের কাছে প্রিয় করেছেন, মদিনাকে তার চেয়েও বেশি প্রিয় করে দিন।”
— (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১৮৮৯)
মদিনাকে বরকতময় নগরী হিসেবেও আখ্যায়িত করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) দোয়া করেন,
“হে আল্লাহ! মক্কায় যত বরকত দিয়েছেন, মদিনায় তার দ্বিগুণ বরকত দান করুন।”
— (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৩৩৯২)
এই নগরীর নিরাপত্তার দায়িত্ব স্বয়ং আল্লাহ তাআলা গ্রহণ করেছেন। হাদিসে এসেছে,
“মদিনার প্রবেশপথগুলোতে ফেরেশতারা পাহারা দেন। তাই দাজ্জাল ও মহামারি সেখানে প্রবেশ করতে পারবে না।”
— (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১৮৮০)
মদিনায় মৃত্যুবরণ করাকেও অত্যন্ত সৌভাগ্যের বিষয় মনে করা হয়। হজরত ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) মদিনায় মৃত্যুবরণের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করতেন। রাসুল (সা.) বলেছেন,
“যে ব্যক্তি মদিনায় মৃত্যুবরণ করতে সক্ষম, সে যেন সেখানেই মৃত্যুবরণ করে। কারণ আমি মদিনায় মৃত্যুবরণকারীর জন্য সুপারিশ করব।”
— (জামে তিরমিজি, হাদিস : ৩৯১৭)
জিয়ারতে মদিনার গুরুত্ব
মসজিদে নববী ইসলামের অন্যতম শ্রেষ্ঠ পবিত্র স্থান। নবীজি (সা.) নিজ হাতে এই মসজিদ নির্মাণে অংশ নিয়েছিলেন। এখান থেকেই ইসলামের দাওয়াত, রাষ্ট্র পরিচালনা ও বহু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা তাকওয়ার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত মসজিদের প্রশংসা করে বলেন,
“প্রথম দিন থেকেই যে মসজিদের ভিত্তি তাকওয়ার ওপর স্থাপিত, সেটিই সালাত আদায়ের জন্য অধিক উপযুক্ত।”
— (সুরা তাওবা : ১০৮)
মসজিদে নববীতে নামাজ আদায়ের ফজিলত সম্পর্কে রাসুল (সা.) বলেন,
“আমার এ মসজিদে এক ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা মসজিদে হারাম ছাড়া অন্য যেকোনো মসজিদে এক হাজার ওয়াক্ত নামাজের চেয়েও উত্তম।”
— (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১১৯০)
রওজা শরিফ ও রিয়াজুল জান্নাত
মসজিদে নববীর সবচেয়ে আবেগঘন ও আকর্ষণীয় স্থান হলো নবীজি (সা.)-এর রওজা মুবারক। মুসলমানরা গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা নিয়ে এখানে সালাম পেশ করেন।
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর রওজা ও মিম্বরের মধ্যবর্তী স্থানকে বলা হয় রিয়াজুল জান্নাত। এটি জান্নাতের বাগানসমূহের একটি বলে হাদিসে উল্লেখ রয়েছে। নবীজি (সা.) বলেছেন,
“আমার ঘর ও মিম্বরের মধ্যবর্তী স্থান জান্নাতের বাগানগুলোর একটি।”
— (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১১৯৬)
বর্তমানে রিয়াজুল জান্নাত সবুজ ও সাদা রঙের কার্পেট দিয়ে আলাদাভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। হজ ও উমরার সময় সেখানে নামাজ আদায়ের জন্য মুসল্লিদের ব্যাপক ভিড় দেখা যায়।
মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে মদিনার মর্যাদা ও ফজিলত অনুধাবন করার এবং নবীজি (সা.)-এর রওজা জিয়ারতের তৌফিক দান করুন। আমিন।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



