সাইফুল ইসলাম : মানিকগঞ্জ-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আতাউর রহমান আতা অভিযোগ করে বলেছেন, জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার আচরণ তার কাছে পক্ষপাতমূলক মনে হয়েছে। সামান্য একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হলেও তাকে বা তার সঙ্গে থাকা বিদ্যুৎ ও গ্যাস অফিসের সংশ্লিষ্টদের কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়নি। অথচ অপর এক প্রার্থীর বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা মন্তব্য করেছেন যে, তিনি ‘ঠিক আছেন’। তিনি বক্তব্য উপস্থাপন করতে চাইলে তাকে থামিয়ে দেওয়া হয়।

বুধবার দুপুরে নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন আতাউর রহমান আতা।
তিনি বলেন, “রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের ভেতরেই অন্য এক প্রার্থীর লোকজন আমার ওপর হামলা করেছে, যা অনভিপ্রেত ও নিন্দনীয়। রিটার্নিং কর্মকর্তা চাইলে তাৎক্ষণিকভাবে হামলাকারীদের আটক করতে পারতেন, কারণ ওই মুহূর্তে তিনিই সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন। কিন্তু তিনি তা করেননি।”
তিনি আরও বলেন, “আমি দাবি জানিয়েছিলাম—যে প্রার্থীর লোকজন আমার ওপর হামলা করেছে, তার মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করা হোক। কিন্তু রিটার্নিং কর্মকর্তা সে দাবি আমলে নেননি। এখনো পর্যন্ত ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে আমার নজরে আসেনি।”
আতাউর রহমান আতা বলেন, গত সতেরো বছর ধরে তারা ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন করে আসছেন। বিগত সরকারের সময়ে একের পর এক ‘পাতানো নির্বাচন’ হয়েছে, সাধারণ মানুষ ভোট দেওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে এবং জুলুম-নির্যাতনের শিকার হয়েছে।
তিনি বলেন, “তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফার মধ্যেও ভোটাধিকার নিশ্চিত করার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে—‘আপনার ভোট আপনি দেবেন, যাকে খুশি তাকে দেবেন’। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্যই আমি এটিকে যুদ্ধ হিসেবে নিয়ে মাঠে কাজ করছি।”
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “যে উদ্দেশ্যে আমরা এত বছর আন্দোলন করেছি, সেই সময়েই রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের সভাকক্ষে আমার ওপর হামলা হয়েছে—এটি অত্যন্ত লজ্জাজনক ও দুঃখজনক। রিটার্নিং কর্মকর্তার দৃঢ় ভূমিকার অভাবে আমি আরও বেশি শঙ্কিত হয়ে পড়েছি। আমরা সত্যিই আগের মতো দমন-পীড়নের নির্বাচন ব্যবস্থা থেকে বের হতে পারবো কি না, তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।”
তিনি জানান, হামলার ঘটনার পর তিনি রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এবং নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আবেদন করেছেন। একই সঙ্গে হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি। তার মতে, জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং ভোট নিশ্চিত করতে এটি অত্যন্ত জরুরি। অন্যথায় সাধারণ মানুষ ভোট দিতে ভয় পাবে।
আতাউর রহমান আতা বলেন, আপিলের মাধ্যমে তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং তিনি প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। তবে এরপরও তার ওপর হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন বন্ধ হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, সম্প্রতি তার প্রতিপক্ষ প্রার্থীর লোকজন গাড়ি নিয়ে এসে তার বাসা দেখিয়ে গেছে। বিষয়টি তিনি তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ প্রশাসনকে অবহিত করলে তারা তাকে আশ্বস্ত করে।
তিনি আরও বলেন, ক্যাম্পিং ও নির্বাচনী কার্যক্রম চালানোর সময় পুলিশি নিরাপত্তা বা টহল না থাকলে তার ও তার কর্মীদের ওপর হামলার আশঙ্কা রয়েছে—এ কথা উল্লেখ করে তিনি রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে নিরাপত্তা চেয়ে লিখিত আবেদন করেছেন।
আতাউর রহমান আতা দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, “আমি আপিলে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছি এবং নির্বাচনের মাঠে আছি। ইনশাআল্লাহ শেষ পর্যন্ত মাঠেই থাকবো। জনগণের ভোটই আমার বিজয় নিশ্চিত করবে।” তিনি জানান, দলের হাইকমান্ড তাকে নির্বাচনে অংশগ্রহণে নিষেধ করেননি। বরং প্রতিপক্ষের লোকজন তার গায়ে হাত তুলেছে, অপমান করেছে এবং তাকে টাকা দিয়ে ‘বসিয়ে দেওয়া হয়েছে’—এমন কুৎসা রটিয়েছে।
তিনি বলেন, “এখন আর পিছিয়ে আসার সুযোগ নেই। পিছিয়ে গেলে জনগণ আমাকে বেঈমান বলবে। আমি জনগণের প্রার্থী। জনগণই আমাকে বলেছে—আপনি না দাঁড়ালে আমরা অন্য মার্কায় বা জামায়াতে ভোট দেব। বিএনপির ধানের শীষকে রক্ষা করতেই আমি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করছি।”
সাংবাদিক সম্মেলনে আতাউর রহমান আতার শতাধিক নেতাকর্মী ও বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


