সাইফুল ইসলাম : মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় এক ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধের ধর্ষণের শিকার হয়ে এক সংখ্যালঘু কিশোরী সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

অভিযুক্ত বৃদ্ধের নাম মো. সকিম উদ্দিন। তিনি সাটুরিয়া উপজেলার ধানকোড়া ইউনিয়নের গোলড়া বিশ্বাসপাড়া গ্রামের মৃত আনছার উদ্দিনের ছেলে। ভুক্তভোগী কিশোরীর বাড়ির পাশেই তার একটি স্যানিটারি মালামাল উৎপাদন ও বিক্রয়ের দোকান রয়েছে।
ভুক্তভোগী কিশোরী ও তার পরিবার সূত্রে জানা গেছে, নবম শ্রেণির ছাত্রী ওই কিশোরীর বাবা-মা দুজনেই চাকরিজীবী। বাবা-মা অফিসে চলে গেলে সে তার ছোট বোনকে নিয়ে বাড়িতে একা থাকত। দুই মাস আগে ধুমধাম করে পারিবারিকভাবে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর স্বামীর বাড়িতে গিয়ে সে প্রায়ই অসুস্থ হয়ে পড়ায় বাবার বাড়িতে ফিরে আসে এবং চিকিৎসকের কাছে যায়। চিকিৎসকের পরীক্ষায় জানা যায়, কিশোরীটি সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
দুই মাস আগে বিয়ে হওয়া মেয়ে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা—এই খবর শুনে কিশোরীর অসহায় বাবা-মায়ের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে। মেয়েকে জিজ্ঞাসা করলে সে জানায়, বাড়িতে কেউ না থাকলে পাশের স্যানিটারি দোকানের মালিক সকিম উদ্দিন নানা অজুহাতে তাদের বাড়িতে আসত। সে জোর করে শারীরিক সম্পর্ক করার চেষ্টা করত এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে ও মারধর করে কিশোরীকে ধর্ষণ করত। ধর্ষণের পর সকিম উদ্দিন তাকে বাবা-মা বা অন্য কাউকে কিছু না বলতে হুমকি দিত। ভয়ে কিশোরী ঘটনাটি কাউকে জানাতে সাহস পায়নি। ফলে সে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে।
ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এলাকাবাসী সকিম উদ্দিনের বিচার দাবি করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
ভুক্তভোগী কিশোরী বলেন, সকিম উদ্দিন ভয় দেখিয়ে ও মারধর করে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেছে। পরিবারের লোকজন বা অন্য কাউকে জানালে তাকে প্রাণে মেরে ফেলবে বলে হুমকি দিয়েছিল।
কিশোরীর মা জানান, “দুই মাস আগে ধুমধাম করে মেয়ের বিয়ে দিয়েছি। এখন জানতে পারলাম সে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা। মেয়ের সংসার টিকবে কি না, সেই দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে আমাদের। যে তার সর্বনাশ করেছে, তার বিচার চাই।”
কিশোরীর বাবা বলেন, “সকিম উদ্দিন ভয় দেখিয়ে আমার মেয়েকে ধর্ষণ করেছে। তার কঠোর শাস্তি চাই। শীঘ্রই আমরা আইনের আশ্রয় নেব।”
এ ঘটনায় সাটুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলামের মোবাইলে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য জানা যায়নি। থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আসাদুজ্জামান বলেন, “এ ধরনের কোনো খবর আমরা এখনো পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


