একটি হত্যা মামলায় কারাবন্দী রয়েছেন ফারুক হোসেন নামের এক যুবক। আর তার সঙ্গেই ঘটে গেল এক হৃদয়স্পর্শী ঘটনা। কারা ফটকেই সাক্ষাত হয়েছে তার নবজাতক সন্তানের সঙ্গে। তবে শিশুটির হাসি-কান্না কিছুই দেখতে পাননি তিনি। কারণ শিশুটি ছিল মৃত। আর এটিই ছিল মৃত সন্তানের সঙ্গে তার প্রথম এবং শেষ সাক্ষাৎ।

মৃত নবজাতক

Advertisement

ঘটনাটি ঘটেছে লক্ষ্মীপুর জেলা কারাগারে গত ১৪ মার্চ রাতে। কারাগারের ভারপ্রাপ্ত জেলার নুর মোহাম্মদ সোহেল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘বাবা (ফারুক) শুধু জিজ্ঞেস করলেন -স্যার, কথা বলে না যে? কষ্ট চাপা রেখে বললাম, কথা বলবে তুমি দোয়া কর, একদিন কথা বলবে। একটু আদর, এরপর বিদায়।’

জানা গেছে, ঘটনার ৫ দিন আগে ফারুকের সহধর্মিণী বৃষ্টি আক্তারের কোলজুড়ে শিশুটি পৃথিবীর আলো দেখে। তবে শিশুটি অসুস্থ ছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা যায়। মানবিক দিক বিবেচনা করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে মৃত সন্তানের সঙ্গে কারাবন্দী বাবার শেষ সাক্ষাতের ব্যবস্থা করে দেন লক্ষ্মীপুর জেলা কারা কর্তৃপক্ষ। পরে জেলার সোহেল ফেসবুক পোস্টে হৃদয়বিদারক ঘটনাটি উপস্থাপন করেন।

জেলারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গেল বছর একটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে ফারুক নামে এক আসামি কারাবন্দী রয়েছেন। ১৪ মার্চ রাতে তার স্ত্রী বৃষ্টি তাদের মৃত নবজাতক শিশুকে নিয়ে কারাগারের সামনে আসেন। শিশুটিকে একটিবার তার বাবার সঙ্গে দেখা করানোর জন্য আকুতি জানায় অসহায় মাসহ স্বজনরা। এর মধ্যেই মানবিকতা বিবেচনা করে ঘটনাটি চট্টগ্রাম বিভাগের ডিআইজি প্রিজন্সকে জানানো হয়। মানবিক দৃষ্টিকোণ বিবেচনায় ডিআইজি বিশেষ অনুমতি প্রদান করেন।

এর পরের ঘটনা ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে জেলার জানান, রাত তখন প্রায় ১২টা। নিস্তব্ধ চারপাশ। জেলা কারাগারের সামনে দাঁড়িয়ে একটি অ্যাম্বুলেন্স। এর ভেতরে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। মৃত নবজাতক সন্তানকে নিয়ে অপেক্ষা করছেন তার মা ও স্বজনরা।

শেষবারের মতো কারাবন্দী ফারুককে তার সন্তানের মুখ দেখানোর আকুতি নিয়ে কারাগারের ফটকে আসেন তারা। কিন্তু রাতে বন্দীদের সঙ্গে সাক্ষাতের কোনো নিয়ম নেই। এরপরও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে দেখা করার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়। দেখা হয় মৃত নবজাতকের সঙ্গে তার বাবার। শিশুটিকে কোলে নিয়েও আদর করেছেন তিনি। এটিই ছিল মৃত সন্তানের সঙ্গে জীবিত বাবার প্রথম এবং শেষ দেখা। আর ঘটনাটি ছিল বাবা-ছেলের হৃদয়বিদারক মিলন।

লক্ষ্মীপুর কারাগারের জেলার নুর মোহাম্মদ সোহেল বলেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ছিল। মানবিক দিক বিবেচনায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে কারাবন্দীকে তার সন্তানের মুখ দেখার সুযোগ করে দেওয়া হয়। নিয়মের পাশাপাশি মানবিকতাও আমাদের দায়িত্বের অংশ।’

আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে

প্রসঙ্গত, গত ১২ এপ্রিল জেলার সোহেল ঘটনাটি নিয়ে জেলা কারাগারের ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। ওই পোস্টে তিনি ঘটনাটি বর্ণনা করেন।

Zoom Bangla News
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com
Follow

Follow Zoom Bangla News On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from Zoom Bangla News in your Google news feed.

Follow Zoom Bangla News On Google

Shamim Reza is an experienced journalist and sub-editor at Zoom Bangla News, with over 13 years of professional experience in the field of journalism. Known for his strong writing skills and editorial insight, he contributes to producing accurate, engaging, and well-structured news content. Born and brought up in Jashore, his background and experience shape his deep understanding of social and regional perspectives in news reporting.