লাইফস্টাইল ডেস্ক : অনেক সময় ‘না’ বলা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়, বিশেষ করে যখন মনে হয়, কাউকে কষ্ট দেব বা কোনো গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যাবে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, কৌশলগতভাবে ‘না’ বলা আমাদের মানসিক সুস্থতা, ব্যক্তিগত বৃদ্ধি এবং নিজের মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ জীবনযাত্রার জন্য অত্যন্ত জরুরি। যদি আমরা প্রতিনিয়ত সবকিছুতে ‘হ্যাঁ‘ বলতে থাকি, তবে আমাদের সময়, শক্তি ও মনোযোগ ছড়িয়ে পড়ে, যা আমাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে বাধা সৃষ্টি করে।
মনোবিজ্ঞানীদের মতে, জীবনের কিছু ক্ষেত্রে অবশ্যই ‘না’ বলা উচিত। চলুন জেনে নেওয়া যাক এমন ৮টি বিষয় যেখানে ‘না’ বলার অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন—
১. অপরের জন্য অপরাধবোধ থেকে ‘হ্যাঁ’ বলা
অনেকেই অন্যদের অনুরোধে ‘না’ বলতে ভয় পান, কারণ তারা মনে করেন এতে অন্যরা কষ্ট পাবেন। কিন্তু যদি শুধুমাত্র অপরাধবোধ থেকে ‘হ্যাঁ’ বলা হয়, তাহলে নিজের প্রয়োজনকে উপেক্ষা করা হয়। এতে মানসিক চাপ বাড়ে এবং সম্পর্কেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তাই নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়াই শ্রেয়।
২. নেতিবাচক আত্মকথন
নিজেকে দোষারোপ করা বা নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করা আত্মবিশ্বাস কমিয়ে দেয় এবং দুশ্চিন্তা ও বিষণ্নতা বাড়ায়। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা ইতিবাচক মনোভাব বজায় রাখেন, তারা তুলনামূলকভাবে সুখী ও সফল হন। তাই ভুলগুলো স্বীকার করে সেগুলো থেকে শেখার মানসিকতা গড়ে তোলা প্রয়োজন।
৩. অতিরিক্ত প্রতিশ্রুতি দেওয়াসব কাজের জন্য ‘হ্যাঁ’ বললে আমরা দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ি এবং কোনো কাজই ঠিকভাবে শেষ করতে পারি না। বিশেষজ্ঞদের মতে, গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে মনোযোগ দেওয়া এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যস্ততা এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ।
৪. সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার ভয় (FOMO)
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম FOMO (Fear of Missing Out)-কে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। অনেকেই মনে করেন, কোনো আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করলে গুরুত্বপূর্ণ কিছু মিস হয়ে যাবে। তবে গবেষণায় দেখা গেছে, যারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কম ব্যবহার করেন, তারা তুলনামূলকভাবে কম মানসিক চাপ অনুভব করেন। তাই নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
৫. বিষাক্ত সম্পর্ক
যে সম্পর্কগুলো মানসিক শান্তি নষ্ট করে, সেগুলো থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নেওয়া প্রয়োজন। গবেষণায় দেখা গেছে, ইতিবাচক সামাজিক যোগাযোগ আমাদের মানসিক সুস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, আর নেতিবাচক সম্পর্ক আত্মবিশ্বাস কমিয়ে দেয়।
৬. জীবনের স্বয়ংক্রিয় ধারা (Autopilot Mode)
নিয়মিত কিছু অভ্যাস থাকা ভালো, তবে একই রুটিনে চলতে চলতে জীবন একঘেয়ে হয়ে যেতে পারে। নতুন কিছু চেষ্টা করাই জীবনে উদ্দীপনা আনে এবং ব্যক্তি হিসেবে বিকাশে সহায়ক হয়।
৭. অন্যের সাথে নিজের তুলনা করা
নিজেকে অন্যদের সঙ্গে তুলনা করা যদি অনুপ্রেরণা না হয়ে হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে তা এড়িয়ে চলাই ভালো। গবেষণায় দেখা গেছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কম ব্যবহারকারীরা তুলনামূলকভাবে কম ঈর্ষা ও হতাশা অনুভব করেন। তাই নিজের অগ্রগতির দিকে মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন।
৮. নিজের সীমা অতিক্রম করা
সুস্থ থাকতে হলে ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে কিছু সীমারেখা নির্ধারণ করা প্রয়োজন। অতিরিক্ত কাজের চাপ বা সবার প্রত্যাশা মেটানোর চেষ্টায় মানসিক ও শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া স্বাভাবিক। তাই নির্দিষ্ট সীমারেখা তৈরি করে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জীবনে ‘না’ বলা মানে শুধু কিছু প্রত্যাখ্যান করা নয়, বরং এটি আমাদের সময়, শক্তি ও মানসিক শান্তির সুরক্ষা। তাই এমন জিনিসগুলোর প্রতি ‘না’ বলা উচিত, যা আমাদের জীবনকে ক্লান্তিকর, বিষণ্ন বা বিভ্রান্ত করে। সঠিক জায়গায় ‘না’ বলার মাধ্যমে আমরা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর জন্য জায়গা তৈরি করতে পারি এবং ভবিষ্যতের সুখী ও সফল জীবন গঠনের পথে এগিয়ে যেতে পারি।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।