জ্বালানি তেলের চলমান সংকটের প্রভাবে গাজীপুরে মোটরসাইকেল শোরুমগুলোতে মন্দাভাব দেখা দিয়েছে। শুধু নতুনেই নয়, কয়েকশ পুরোনো মোটরসাইকেল শোরুমগুলোতেও বিক্রি নেই মোটরসাইকেল। ফলে অলস সময় পার করছেন ব্যবসায়ীরা।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুরে জেলার বৃহত্তম মোটরসাইকেলের হটস্পট মাওনা বাজার, কালিয়াকৈর বাজার ঘুরে দেখা গেছে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেল শোরুমগুলোতে নেই কোনো ক্রেতা। সারিবদ্ধ সাজিয়ে রাখা মোটরসাইকেল থাকলেও সারা দিনে কোনো ক্রেতার দেখা পাচ্ছেন না শোরুম মালিকরা।
সরেজমিনে কালিয়াকৈর বাস স্টেশন ও বাইপাস এলাকায় টপ ব্র্যান্ড ইয়ামাহা, সুজুকি ও বাজাজ শোরুমে ঘুরে দেখা যায়, তেল সংকটে মোটরসাইকেল বিক্রি না থাকায় ক্রেতাদের টানে নানা ধরনের অফার দেওয়া হয়েছে। তবে এসব অফারেও মিলছে না ক্রেতা। শোরুমগুলোতে কর্মরত ম্যানেজার, সেলস ম্যান ও টেকনেশিয়ানরা অলস সময় পার করছেন।
এদিকে গাজীপুরের মাওনা চৌরাস্তা এলাকায় স্বল্প দামে মোটরসাইকেল বিক্রির শতাধিক পুরোনো শোরুম রয়েছে। এসব শোরুমে সারা বছর রমরমা ব্যবসা থাকলেও ঈদের পর থেকে চরম মন্দাভাব দেখা দিয়েছে। কোনো কোনো শোরুমে গত ৫ দিনে একটি মোটরসাইকেল বিক্রি হয়েছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।
বাজাজ অটো লিমিটেড শোরুমে আসা লিটন ভূইয়া নামে একজন ক্রেতা জানান, তেলের যে সংকট, বাইক কিনতেই ভয় পাচ্ছি। ঘুরে ঘুরে দেখছি। যদি বাজেটের মধ্যে কোনো ইলেক্ট্রিক বাইক পাই তাহলে কিনে ফেলব।
কালিয়াকৈর বাইপাসে মোটরসাইকেল ডেকোরেশন ও মডিফাইড মিস্ত্রি মো. জেনিক বলেন, কয়েকদিন ধরে নতুন মোটরসাইকেল আসছে না। শোরুম থেকে মোটরসাইকেল নিয়েই ক্রেতারা আমার দোকানে আসতো। তাদের মন মতো মডিফাইড ও ডেকোরেশন করে নিতো। এখন তারা না আসায় আমাদের বেচাকেনা কমে গেছে।
মাওনা এলাকার এমআর মটরসের পরিচালক জুবায়ের মাহমুদ বলেন, তেলের সংকটের কারণে এখন মানুষ বাইক কিনতে চাচ্ছে না। ঈদের পর থেকে এখনো বাইক বিক্রি হয়নি। আমাদের পুরোনো শোরুমে বাইকের দাম কম, তবুও ক্রেতা আসে না। আর নতুনগুলোর অবস্থা আরও বেহাল। তাদের তো প্রতি মাসে অনেক খরচ, বাইক বিক্রি না থাকলে এসব শোরুম মালিকরা অনেই বিপাকে পড়ে যাবেন।
কালিয়াকৈর বাজাজ অটো লিমিটেডের কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, ঈদের পর মাত্র একটি বাইক বিক্রি হয়েছে। অন্যান্য বছরে ঈদের আগে পরে মিলিয়ে অসংখ্য মোটরসাইকেল বিক্রি হতো। সে অনুযায়ী এবারও অনেক কালেকশন করা হয়েছিল। কিন্তু তেলের সংকট দেখা দেওয়াতে আমাদের ব্যবসায় অনেক ধস নেমেছে। এ মাসে শোরুমের খরচ উঠানোই সম্ভব হবে না।
গাজীপুর রোড ট্রান্সপোর্ট অথোরিটির (বিআরটিএ) পরিচালক এস এম মাহাফুজুর রহমান বলেন, ঈদের ছুটি শেষে অফিস চালু হওয়ার পর থেকে মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশন অনেক কম। রাস্তাঘাটেও আগের মতো মোটরসাইকেল দেখা যাচ্ছে না। তেল সংকট কেটে গেলে মোটরসাইকেল বিক্রি বৃদ্ধি পাবে।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
তিনি আরও বলেন, শুধু মোটরসাইকেল নয়, তেলে চালিত অন্যান্য যানবাহনগুলোও বিক্রি কম হচ্ছে। আমাদের এখানে প্রতিদিন যে পরিমাণ যানবাহন রেজিস্ট্রেশন করতে আসতো তা এখন আসছে না।
সূত্র : ঢাকা পোস্ট
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


