নওগাঁর আত্রাইয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছবি সম্বলিত সাইনবোর্ড ব্যবহার করে এক ব্যক্তির পত্তনি জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে নওগাঁ-৬ (রাণীনগর-আত্রাই) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শেখ মো. রেজাউল ইসলাম ওরফে রেজু শেখ-এর বিরুদ্ধে। অভিযোগ, মনোনয়ন পাওয়ার পর তিনি নিজস্ব নেতাকর্মী ও ক্যাডার বাহিনী দিয়ে ওই জমিতে দলীয় কার্যালয়ের সাইনবোর্ড টানিয়ে জমি দখলে নিয়েছেন।

ঘটনাটি ঘটে উপজেলার কালিকপুর ইউনিয়নের আন্দারকোটা গ্রামে। ভুক্তভোগী ভূমিহীন বাচ্চু মাঝি উপজেলা প্রশাসনের কাছে কয়েক দফা অভিযোগ জানান। প্রথমে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নূরে আলম সিদ্দিক কিছু নির্মাণ কাজ বন্ধ করান। তবে পরবর্তীতে রেজু শেখের ক্যাডার বাহিনীর কারণে পুরো কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়নি।
স্থানীয়দের মতে, বাচ্চু মাঝি আড়াই যুগ ধরে ওই অঞ্চলে ১২ শতাংশ জমিতে বসবাস করছেন। সেখানে তিনি একটি সেমিপাকা বাড়ি নির্মাণ করেছেন এবং অবশিষ্ট জমিতে দোকানঘর তৈরি করার পরিকল্পনা করছিলেন। কিন্তু সামান্য আয় ও খেয়া পারাপারের আয়ের কারণে এটি বাস্তবায়ন সম্ভব হচ্ছিল না।
সম্প্রতি দীর্ঘদিনের সঞ্চয় ব্যবহার করে জমিতে দোকানঘর নির্মাণের পরিকল্পনা করলে, ওই জমি দখলের চেষ্টা করেন কামাল খাঁ, ওয়ার্ড বিএনপির নেতা এবং রেজু শেখের অনুসারী। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে রেজু শেখ মনোনীত হওয়ার পর কামাল খাঁ দলের ক্যাডার পাঠিয়ে জমিতে তারেক রহমানের ছবি সম্বলিত সাইনবোর্ড টানিয়ে দেন।
ভুক্তভোগী বাচ্চু মাঝির ছেলে জীবন মাঝি অভিযোগ করেন, “রেজু শেখের নির্দেশে কামাল ও তার বাহিনী আমাদের জমি দখল করেছে। প্রতিবাদ করলে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হুমকি দেওয়া হয়। সারাদিন ১০-১৫ জন ক্যাডার জমিতে অবস্থান করে। ভূমি অফিসে অভিযোগ দিই, তবুও কোনো সমাধান পাইনি।”
এ বিষয়ে কামাল খাঁ বলেন, “দলীয় কার্যালয় নির্মাণের কাজ শুরু করেছিলাম। পরে এসিল্যান্ডের নির্দেশে আপাতত কাজ বন্ধ রেখেছি। তারেক রহমানের ছবি সম্বলিত ব্যানার সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।”
অন্যদিকে রেজু শেখ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “সব কিছু রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র। জমির প্রকৃত মালিক বাচ্চু মাঝি নন। তাদের সঙ্গে চুক্তিপত্র আছে। কেউ সন্ত্রাস বা দখলের প্রমাণ দিলে আমি রাজনীতি ছেড়ে দেবো।”
আত্রাই উপজেলা সহকারী কমিশনার নূরে আলম সিদ্দিক জানান, “জমিতে অবৈধভাবে সাইনবোর্ড টানিয়ে দলীয় কার্যালয় নির্মাণ করা হচ্ছিল। মালিকানা যাচাইয়ের পর কাজ বন্ধ করা হয়েছে। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ নোটিশের মাধ্যমে সরিয়ে দেওয়া হবে।”
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


