নাটোরে আগামী ১৫ মে শুক্রবার থেকে স্থানীয় জাতের আম সংগ্রহ শুরু হচ্ছে। অনুকূল আবহাওয়া ও ভালো ফলন হওয়ায় এ মৌসুমে জেলায় রেকর্ড পরিমাণ আম উৎপাদনের আশা করছে বাগান মালিক ও কৃষি বিভাগ।

এদিকে ভোক্তাদের জন্য নিরাপদ ও রাসায়নিকমুক্ত ফল নিশ্চিত করতে এরই মধ্যে আম সংগ্রহের সুনির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) সূত্রে জানা গেছে, এ বছর নাটোরে মোট ৫ হাজার ৬৯৩ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৮ হাজার ৩১৬ মেট্রিক টন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. হাবিবুল ইসলাম খান জানান, গত বছর আমে ৩৫০ কোটি টাকার ব্যবসা হলেও এবার তা ৪০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে নাটোর উত্তরাঞ্চলের চতুর্থ বৃহৎ আম উৎপাদনকারী জেলা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
নাটোর সদর, লালপুর, গুরুদাসপুর ও বাগাতিপাড়া উপজেলার বাগানগুলো ঘুরে দেখা গেছে, আমের ভারে নুয়ে পড়ছে গাছের ডাল।
লালপুরের মোমিনপুর গ্রামের চাষি জাহিদ হোসেন বলেন, আমার ১০ বিঘা জমির ৪৫০টি গাছের মধ্যে ৩৫০টি গাছেই এ বছর প্রচুর আম এসেছে।
স্থানীয় ‘আঁটি’ আম এখন পাকতে শুরু করেছে। তবে আম সংগ্রহের জন্য তারা প্রশাসনের নির্ধারিত সূচির জন্য অপেক্ষা করছে বলে জানান।
ভালো ফলন হওয়ায় গত বছরের তুলনায় এবার লাভের আশাও বেশি। কৃষকদের মতে, গত বছর ফলন কম হওয়ায় বিঘাপ্রতি মাত্র দেড় থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকায় বাগান বিক্রি হয়েছিল। এবার আড়াই থেকে ২ লাখ ৮০ হাজার টাকায় পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে নিরাপদ আম বাজারজাত করার লক্ষ্যে নাটোর জেলা প্রশাসন ইতোমধ্যে আম সংগ্রহের জন্য সময়সীমা নির্ধারণ করেছে।
নাটোর জেলা প্রশাসক আসমা শাহীনের সভাপতিত্বে গত ১১ মে অনুষ্ঠিত এক সভায় আম ও লিচু সংগ্রহের চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণ করা হয়।
সূচি অনুযায়ী, ১৫ মে স্থানীয় জাতের আঁটি আম সংগ্রহের মধ্য দিয়ে চলতি মৌসুমে আম সংগ্রহ শুরু হবে। পর্যায়ক্রমে ২৫ মে গোপালভোগ, ৩০ মে ক্ষীরশাপাত, ৫ জুন লক্ষণভোগ, ১৫ জুন ল্যাংড়া ও আম্রপালি, ২৫ জুন মোহনভোগ ও হাড়িভাঙ্গা, ৩০ জুন ফজলি, ৫ জুলাই মল্লিকা, ১৫ জুলাই বারি-৪ আম, ২০ জুলাই আশ্বিনা এবং ১০ আগস্ট গৌড়মতি আম সংগ্রহের সময়সিমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
একই সভায় লিচু সংগ্রহের তারিখও জানানো হয়েছে। আগামী ১৭ মে থেকে মোজাফফর জাতের এবং ২৫ মে থেকে বোম্বাই ও চায়না-৩ জাতের লিচু সংগ্রহ শুরু হবে।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন জানান, ফলের নিরাপত্তা ও গুণগত মান নিশ্চিত করতে এবং বিপণন ও পরিবহনের সব বাধা দূর করতে প্রশাসন কাজ করছে। চাষি ও ব্যবসায়ীদের নির্ধারিত সময়সূচি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


