আন্তর্জাতিক ডেস্ক : সৌদি আরবের মেগা প্রকল্প নিওমে জ্বলল আবারও আশার আলো। অর্থসংকটে বন্ধ হয়ে যেতে পারে ট্রিলিয়ন ডলারের এই প্রকল্প—এমন গুঞ্জনের মধ্যেই নিওম ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড ১০০০ কোটি সৌদি রিয়াল বা ২৬৭ কোটি ডলার বিনিয়োগ পেয়েছে যথেষ্ট সহজ শর্তে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

neom

Advertisement

নিওম প্রকল্প কর্তৃপক্ষ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। বিবৃতি থেকে দেখা গেছে, সৌদি ন্যাশনাল ব্যাংক, রিয়াদ ব্যাংক, সৌদি আওয়াল ব্যাংক এই বিনিয়োগ তহবিল সংগ্রহকারী হিসেবে কাজ করেছে। বিপরীতে আল-রাজি ব্যাংক, আলিনমা ব্যাংক, আরব ন্যাশনাল ব্যাংক, ব্যাংক আল-বিলাদ, সৌদি ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক এবং ব্যাংক আল জাজিরা এই তহবিলে বিনোয়োগ করেছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিওম প্রকল্প রিভলভিং ক্রেডিট ফ্যাসিলিটি বা আরসিএফ-এর আওতায় এই ঋণ সহায়তা পেয়েছে। এই আরসিএফ হলো এমন একধরনের ঋণ, যেখানে ঋণগ্রহীতা ঋণের অর্থ বিনিয়োগ করার পর তা পরিশোধ করে পুনরায় সেই অর্থ ঋণ হিসেবে গ্রহণ করতে পারবেন।

বিশ্লেষকেরা অনুমান করছেন, এই ঋণসহায়তা নিওমের স্বল্পমেয়াদি প্রকল্পগুলোতে ব্যবহার করা হবে। তবে দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পগুলোর জন্য আরও বিপুল পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর খবর, সৌদি আরবের এই বহুল আলোচিত প্রকল্প অর্থাভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় আছে।

গত ২২ এপ্রিল বিজনেস ইনসাইডারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, নিওম প্রকল্পের কর্মকর্তারা সেখানে চীনা বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে বেইজিং, সাংহাই ও হংকং সফর করেছেন। তাঁরা রহস্যময় মেগা সিটিটির নানা সুবিধা ও সম্ভাবনার ওপর আলোকপাত করেছেন। এ ধরনের তৎপরতার পরও এখন পর্যন্ত কোনো চুক্তি ঘোষণা করা হয়নি।

এপ্রিলের শুরুতে ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, দ্য লাইনে যে পরিমাণ মানুষের বসবাসের কথা ছিল, সেই সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করেছে সৌদি আরব। ২০৩০ সালের মধ্যে ওই শহরে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা ১৫ লাখ থেকে কমিয়ে ৩ লাখ লক্ষ্যমাত্রা দেখিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।

ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ভিশন-২০৩০ প্রকল্পে ট্রিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের বিষয়ে ব্যাপক উদ্বেগ উত্থাপিত হয়েছে। বিশেষ করে নিওম প্রকল্পে ৫০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সৌদি সরকারের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। এ অবস্থায় দেশটি নিওম এবং অন্যান্য ভিশন-২০৩০ মেগা প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য ঋণ নিতে শুরু করেছে বলে গত ফেব্রুয়ারিতে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।

লোহিতসাগরের প্রবেশদ্বারে আকাবা উপসাগরের মুখ থেকে তাবুক প্রদেশে ১৭০ কিলোমিটার লম্বা শহর নির্মাণের পরিকল্পনা। ‘দ্য লাইন’ নামে এই রৈখিক শহর নিওম প্রকল্পের একটি অংশ। মাত্র ১৩ বর্গমাইল এলাকায় ৯০ লাখ মানুষের বসবাস হবে বলে ভাবনা ছিল।

যতটা দ্রুত শহরটি তৈরি হবে বলে ভাবা হয়েছিল, তা হচ্ছে না। আয়নাঘেরা মরু শহর নির্মাণের স্বপ্ন কিছুটা মলিন হয়ে আসছে। এর জন্য যত খরচ হবে, তা জোগাড়ে হিমশিম খাচ্ছে রাজতন্ত্র। অর্থসংকটে প্রকল্পটির বিস্তার কমে আসছে বলে ব্লুমবার্গ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে।

এই প্রকল্পে প্রাথমিকভাবে ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয়ের পরিকল্পনা ছিল। প্রকল্প ঘোষণার শুরু থেকেই এটি ঘিরে নানা সংশয় ও সমালোচনার ঝড় ছিল। বিশেষ করে যেখানে এই শহরের অবস্থান, সেখানে হোয়াইয়াত উপজাতির আদি নিবাস ছিল। আদি পুরুষের জমিতে শহর নির্মাণের পরিকল্পনার প্রতিবাদ করায় ওই জাতিগোষ্ঠীর বেশ কয়েকজনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পর প্রকল্প ঘিরে সংশয় তৈরি হয়।

সাম্প্রতিক বিস্ময়কর খবর হলো, সৌদি যুবরাজের ১৭০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রৈখিক শহর প্রকল্প ছোট হয়ে ১ শতাংশের কাছে নেমেছে। ৯৮ দশমিক ৬ শতাংশই বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। অর্থাৎ, মাত্র ২ দশমিক ৪ কিলোমিটার নির্মাণ করা হবে, তাও ২০৩০ সাল নাগাদ সম্ভব হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে এক ঠিকাদার শ্রমিকদের ছাঁটাই শুরু করেছেন।

যুবরাজ মোহাম্মদের প্রকল্পটির রূপকল্পে বারবার পরিবর্তন, বাজেটের অতিরিক্ত ব্যয় এবং মূল কর্মীদের ক্রমাগত পরিবর্তনের খবর পাওয়া গেছে। যাঁরা এই প্রকল্পে কাজ করেছেন, তাঁদের কেউ কেউ এটিকে ‘বাস্তবতাবিবর্জিত’ বলে বর্ণনা করেছেন।

ব্লুমবার্গের অনুসারে, ২০২৪ সালের সামগ্রিক নিওম বাজেটের অনুমোদন এখনো দেয়নি সৌদি আরবের সার্বভৌম সম্পদ তহবিল। রাজতন্ত্রের নগদ রিজার্ভের পরিমাণ দিনে দিনে কমে আসছে। এ কারণে দ্য লাইনের পরিধি কমে আসতে পারে।

Zoom Bangla News
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com
Follow

Follow Zoom Bangla News On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from Zoom Bangla News in your Google news feed.

Follow Zoom Bangla News On Google

Saiful Islam is a journalist at Zoom Bangla News with seven years of experience in news writing and editorial work. He contributes to producing accurate, well-structured, and reader-focused content across digital platforms. His work reflects a strong commitment to editorial standards and responsible journalism.