নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বোর্নো অঙ্গরাজ্যের একটি শহরে তিনটি স্কুলে সশস্ত্র হামলা চালিয়ে ৫০ জনেরও বেশি শিশুকে অপহরণ করেছে বন্দুকধারীরা। নিখোঁজ শিশুদের অধিকাংশের বয়স দুই থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে বলে জানিয়েছেন শিক্ষক ও অভিভাবকরা। বিষয়টি জানিয়েছে বিবিসি।

শুক্রবার (১৫ মে) সকালে বোর্নোর মুসা শহরে এই হামলার ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা মোটরসাইকেলে পালিয়ে যাওয়ার সময় শিশুদের মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করে, ফলে নিরাপত্তা বাহিনী তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালাতে পারেনি।
এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেনি।
সরকারি কর্মকর্তারা বিবিসির মন্তব্যের অনুরোধের জবাব দেননি। তবে শনিবার (১৬ মে) বোর্নো সাউথের সিনেটর আলি এনডুমে এক বিবৃতিতে জানান, অন্তত ৪২ জন শিশুকে দুটি স্কুল থেকে অপহরণ করা হয়েছে।
অপহরণের ঘটনা ঘটে গভর্নমেন্ট ডে সেকেন্ডারি স্কুল, মুসা সেন্ট্রাল প্রাইমারি স্কুল এবং স্টেট ইউনিভার্সাল বেসিস এডুকেশন বোর্ড (এসইউবিইবি) সেকেন্ডারি স্কুলে।
কিছু প্রতিবেদনে ধারণা করা হচ্ছে, এই হামলার পেছনে জঙ্গিগোষ্ঠী বোকো হারাম থাকতে পারে। তবে এখনো তা নিশ্চিত নয়। দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলে বোকো হারাম ও ইসলামিক স্টেট পশ্চিম আফ্রিকা প্রদেশ (আইসওয়াপ) একে অপরের সঙ্গে সংঘাতে লিপ্ত।
বোর্নো অঙ্গরাজ্য বহু বছর ধরে নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছে। নতুন এই ঘটনার পর মুসা শহরের অনেক বাসিন্দা এলাকা ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে যেতে শুরু করেছেন।
অন্যদিকে, সন্তান হারিয়ে আতঙ্কিত অভিভাবকরা এখন তাদের খোঁজ পাওয়ার আশায় দুঃসহ অপেক্ষায় রয়েছেন।
একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, বন্দুকধারীরা তার ছয় বছর বয়সী মেয়েকে অপহরণ করার পর তার পরিবার গভীর শোকে ভেঙে পড়েছে।
মুসা সেন্ট্রাল প্রাইমারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক আবদু ডুনামা বলেন, প্রথমে গুলির শব্দ শোনা যায়, এরপর সশস্ত্র লোকজন স্কুলে ঢুকে শিশুদের জড়ো করে অপহরণ করে।
তিনি আরও জানান, শ্রেণিকক্ষ থেকে অন্তত ৩৪ জন শিশুকে তুলে নেওয়া হয়, যাদের অধিকাংশই নার্সারি শ্রেণির।
স্থানীয়দের মতে, টহলরত সেনারা এলাকা ত্যাগ করার কিছুক্ষণের মধ্যেই মোটরসাইকেলে করে হামলাকারীরা স্কুলে প্রবেশ করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলার সময় চারপাশে গুলিবর্ষণ চলতে থাকে এবং আতঙ্কে মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে ছুটে যায়। অনেক অভিভাবক দূরের পাহাড় থেকে অসহায়ের মতো তাদের সন্তানদের অপহরণ হতে দেখেছেন।
বিশৃঙ্খলার মধ্যে কিছু বড় শিক্ষার্থী ঝোপঝাড়ে পালিয়ে বাঁচতে সক্ষম হয়।
বর্তমানে দরিদ্র এই কৃষিনির্ভর অঞ্চলটি সরকারের কাছে দ্রুত উদ্ধার অভিযান ও শিশুদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছে।
প্রধান শিক্ষক আবদু ডুনামা জানিয়েছেন, তিনি নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং সেনারা এলাকায় অভিযান চালিয়ে অপহরণকারীদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে।
সূত্র: বিবিসি
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



