মঙ্গলের উপগ্রহ ফোবোসকে ঘিরে নতুন আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। এতদিন মনে করা হতো, মঙ্গলের প্রবল মহাকর্ষীয় আকর্ষণের কারণে একসময় ফোবোস ভেঙে গিয়ে গ্রহটির চারপাশে বলয় সৃষ্টি করবে। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে ভিন্ন ধারণা। গবেষকদের মতে, সেই অবস্থায় পৌঁছানোর আগেই নিজের বিচ্ছিন্ন ধ্বংসাবশেষের আঘাতে ধীরে ধীরে ধ্বংস হয়ে যেতে পারে উপগ্রহটি।

মঙ্গলের দুই উপগ্রহ ফোবোস ও ডেইমোসের উৎপত্তি নিয়ে বহুদিন ধরেই বিজ্ঞানীদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। একদল বিজ্ঞানীর ধারণা, এগুলো মূলত গ্রহাণু ছিল, যা পরে মঙ্গলের আকর্ষণে আটকা পড়ে। অন্যদিকে অনেকের মতে, কোনো বিশাল মহাজাগতিক সংঘর্ষের ফলে মঙ্গলকে ঘিরে যে পদার্থ ছড়িয়ে পড়েছিল, সেখান থেকেই এই উপগ্রহ দুটির জন্ম।
ফোবোস মঙ্গলের খুব কাছ দিয়ে দ্রুত গতিতে আবর্তন করে। ফলে মঙ্গলের মহাকর্ষীয় প্রভাব ধীরে ধীরে এর কক্ষপথ ছোট করে আনছে। গবেষণায় আরও জানা গেছে, ফোবোস শক্ত ও একটানা শিলাখণ্ড নয়; বরং এটি আলগাভাবে যুক্ত অসংখ্য ধ্বংসস্তূপের সমষ্টি। তাই সহজেই এর গঠন ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিজ্ঞানীদের গণনা ও কম্পিউটারভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রথমে মঙ্গলের দিকে মুখ করা অংশ এবং বিপরীত পাশ থেকে খণ্ড খণ্ড অংশ আলাদা হয়ে পড়তে শুরু করবে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আরও বড় অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে উপগ্রহটিকে অস্থিতিশীল করে তুলবে।
সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, বিচ্ছিন্ন হওয়া সেই খণ্ডগুলো মঙ্গলের চারপাশে ঘুরতে ঘুরতে আবার তীব্র গতিতে ফোবোসের ওপর আঘাত হানতে পারে। বিজ্ঞানীরা এই ঘটনাকে ‘সেস্কুইনারি বিপর্যয়’ নামে অভিহিত করেছেন। অর্থাৎ শেষ পর্যন্ত নিজের ছিটকে যাওয়া ধ্বংসাবশেষের আঘাতেই ধ্বংস হতে পারে ফোবোস, যা পূর্বের ধারণার তুলনায় অনেক বেশি জটিল ও ব্যতিক্রমী পরিণতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


