নির্বাচনের আগ মুহূর্তে পুঁজিবাজারে যে চাঙ্গাভাব দেখা দিয়েছিল তা আরও তেজি হয়ে উঠল ভোটের পর প্রথম কার্যদিবসে। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) একদিনেই ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক বেড়েছে ২০০ পয়েন্ট।

এদিন লেনদেনের শুরু থেকেই তেজিভাব ছিল সূচকে। বেলা সাড়ে ১২টায় সূচক ওঠে ৫,৫৯২ পয়েন্টে, অর্থাৎ আগের দিনের চেয়ে যোগ হয় ১৯২ পয়েন্ট। দিন শেষে ২০০ পয়েন্ট বেড়ে সূচক দাঁড়িয়েছে ৫,৬০০ দশমিক ৬৬ পয়েন্টে। এর আগে দুপুর ২টা ১৬ মিনিটে সূচক উঠেছিল ৫৬১১ দশমিক ৮৩ পয়েন্টে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরের দিন, ২০২৪ সালের ৬ অগাস্ট ১৯৭ পয়েন্ট বেড়ে সূচক দাঁড়িয়েছিল ৫৪২৬ দশমিক ৪২ পয়েন্টে। সেদিন লেনদেন হয় ৭৪৯ কোটি ৯৯ লাখ টাকার।
এর একদিন বাদে ৮ অগাস্ট ৩০৬ পয়েন্ট বেড়ে সূচক দাঁড়ায় ৫৯২৪ দশমিক ৮১ পয়েন্টে। তারপর মাঝে-মধ্যে সূচকের উত্থান দেখা দিলেও একদিনে ২০০ পয়েন্ট বাড়ার নজির নেই।
অন্তর্বর্তী সরকারের পুরো সময়ে পুঁজিবাজারে টালমাটাল অবস্থা দেখা গেলেও নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সেই দশা কাটার ইঙ্গিত মিলেছে।
গত বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় বিএনপি। আগামী মঙ্গলবার সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। তার আগেই বড় উত্থান দেখা গেল ঢাকার পুঁজিবাজারে।
ভোটের আগে গত মঙ্গলবার ডিএসইর প্রধান সূচক ৮২ পয়েন্ট বেড়ে সূচক দাঁড়িয়েছিল ৫ হাজার ৪০০ পয়েন্টে। তার আগের দিন এ সূচক ছিল ৫ হাজার ৩১২ পয়েন্ট। সেদিন সূচক বেড়েছিল ৮৩ পয়েন্ট।
কেনার চাপে রোববার লেনদেন শেষ হওয়ায় বাজারে অংশ নেওয়া ৩৯৪টি কোম্পানির মধ্যে শেয়ার দর বাড়ে ৩৬৪ টির, দর কমে ২৬টির ও আগের দরে হাতবদল হয় ৪টির
এদিন ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে এক হাজার ২৭২ কোটি টাকার শেয়ার। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এর চেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছিল গত ৯ সেপ্টেম্বর। সেদিন সর্বোচ্চ এক হাজার ২৭৮ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছিল।
ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, মোট লেনদেনের ২৬ দশমিক ৩৫ শতাংশ বা ৩৩৩ কোটি ৪৬ লাখ টাকার অবদান রাখে ব্যাংক খাত।
এরপরে অবস্থান করা ওষুধ ও রসায়ন খাতে লেনদেন হয় ১৭৬ কোটি ৮১ লাখ টাকার শেয়ার। পরের অবস্থানে থাকা বস্ত্রখাত ১৫৫ কোটি ১১ লাখ টাকার লেনদেন করে।
দিনের বিবেচনায় বস্ত্রখাতের বিনিয়োগকারীদের শেয়ার দর বেড়েছে সবচেয়ে বেশি।
দিন শেষে ডিএসইতে শেয়ার দর বৃদ্ধিতে শীর্ষে আসে ওয়ান ব্যাংক। আগের দিনের চেয়ে সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ স্থান ছুয়ে অর্থাৎ শেয়ার দর ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে সবশেষ লেনদেন করে ৮ টাকা ৮০ পয়সায়। আগের দিন শেয়ার প্রতি দর ছিল ৮ টাকা।
এরপরে থাকা মুন্নু ফেব্রিক্সের শেয়ার দর বাড়ে প্রায় ১০ শতাংশ। দিন শেষে শেয়ারটি হাতবদল হয় ২৪ টাকা ৫০ পয়সায়। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ২২ টাকা ৩০ পয়সায়। একদিনের ব্যবধানে শেয়ারটির দর বেড়েছে ৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ বা ২ টাকা ২০ পয়সা।
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সাবেক সদস্য, সাবেক মন্ত্রী প্রয়াত হারুনার রশীদ খান মুন্নু হচ্ছেন মুন্নু গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা।
এবার মানিকগঞ্জ-৩ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয় পেয়েছেন তার মেয়ে আফরোজা খান রিতা। তিনিই এখন মুন্নু গ্রুপের হাল ধরেছেন।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
তালিকায় ৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ শেয়ার দর বেড়ে তৃতীয় অবস্থানে উঠে আসে আর্থিক প্রতিষ্ঠান লঙ্কাবাংলা ফাইন্যান্স। অন্যদিকে শেয়ার দর হারানোর শীর্ষে চলে আসে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ। আগের দিনের চেয়ে শেয়ারটির দর কমে প্রায় ৫ শতাংশ।
দরপতনে এর পরের অবস্থানে আসে জিলবাংলা ও জুট স্পিনারস লিমিটেডের।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


