‘বাই দ্য পাওয়ার অব গ্রেস্কাল!’—এক সময় এই একটি সংলাপই ছিল শিশুদের কল্পনার দুনিয়ায় প্রবেশের চাবিকাঠি। স্কুল শেষে টিভির সামনে বসে হি-ম্যানের অ্যাডভেঞ্চার দেখার সেই দিনগুলো আজও অনেকের স্মৃতিতে উজ্জ্বল। শক্তিশালী নায়ক, জাদুকরী তরবারি এবং ভয়ংকর স্কেলেটরের দ্বন্দ্বে গড়া সেই জগৎ এক প্রজন্মের শৈশবকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল।

সেই দীর্ঘদিনের স্মৃতিকে কেন্দ্র করেই নতুনভাবে নির্মিত হয়েছে ‘হি-ম্যান অ্যান্ড দ্য মাস্টার্স অব দ্য ইউনিভার্স’। পরিচালক ট্র্যাভিস নাইট এই ছবিতে মূলত নতুন গল্পের চেয়ে দর্শকের নস্ট্যালজিক অনুভূতিকে গুরুত্ব দিয়েছেন। ফলে শুরু থেকেই দর্শক ফিরে যায় পরিচিত ইটারনিয়ার ফ্যান্টাসি জগতে।
প্রিন্স অ্যাডাম থেকে হি-ম্যান হয়ে ওঠার যাত্রায় নিকোলাস গ্যালিটজিনের অভিনয় যথেষ্ট স্বাভাবিক ও বিশ্বাসযোগ্য। সাধারণ এক তরুণের অনিশ্চয়তা থেকে দায়িত্বশীল নায়কে পরিণত হওয়ার পরিবর্তন তিনি ভালোভাবেই তুলে ধরেছেন। অন্যদিকে স্কেলেটর চরিত্রে জ্যারেড লেটো চরিত্রটিতে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছেন, যেখানে ভয়, ব্যঙ্গ ও নাটকীয়তা একসঙ্গে প্রকাশ পেয়েছে।
ছবিটির ভিজ্যুয়াল নির্মাণ নিঃসন্দেহে শক্তিশালী। ইটারনিয়ার বিশাল রাজ্য, যুদ্ধের দৃশ্য এবং জাদু ও প্রযুক্তির মিশেলে তৈরি পরিবেশ দর্শককে বড় পরিসরের এক ফ্যান্টাসি জগতে নিয়ে যায়। তবে ভিজ্যুয়াল যতটা আকর্ষণীয়, গল্পের গতি ততটা সব জায়গায় সমানভাবে ধরে রাখা যায়নি। কিছু অংশ পূর্বানুমেয় এবং কিছু দৃশ্য তুলনামূলকভাবে দীর্ঘ মনে হতে পারে।
তবুও ছবিটির অন্যতম শক্তি হলো মূল চরিত্রগুলোর প্রতি সম্মান বজায় রাখা। আধুনিক উপস্থাপনার ছোঁয়া থাকলেও হি-ম্যানের মূল আদর্শ—সাহস, বন্ধুত্ব, দায়িত্ববোধ এবং ভালো-মন্দের চিরন্তন সংঘাত—গল্পের কেন্দ্রে অটুট রয়েছে।
নতুন দর্শকদের জন্য এটি একটি সাধারণ ফ্যান্টাসি অ্যাডভেঞ্চার হলেও নব্বইয়ের দশকের দর্শকদের জন্য ছবিটি এক ধরনের আবেগঘন পুনর্মিলন। পুরোনো দিনের খেলনা, বিকেলের টিভি দেখা আর শৈশবের নায়ককে আবার পর্দায় দেখা—সব মিলিয়ে এটি নস্ট্যালজিয়ার এক বিশেষ অভিজ্ঞতা তৈরি করে।
সূত্র: এই সময়
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



