মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেছেন, শুধু ডিগ্রি অর্জনই যথেষ্ট নয়—নিজেদের আচরণ, পেশাদার মনোভাব ও নৈতিক চরিত্রের মাধ্যমে সেই ডিগ্রির সম্মান ধরে রাখাই আসল চ্যালেঞ্জ। তিনি শিক্ষার্থীদের দায়িত্বশীল ও মানবিক নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ–চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আশা ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ (ASAUB)-এর তৃতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠানে আচার্যের প্রতিনিধি হিসেবে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
উপদেষ্টা তার বক্তব্যে পরিবেশ দূষণের ভয়াবহ দিক তুলে ধরে বলেন, নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলের বর্জ্য শীতলক্ষ্যা নদী হয়ে মেঘনায় গিয়ে মিশছে। এর ফলে ইলিশসহ নানা জলজ প্রাণী মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে। গবেষণায় ইলিশ মাছের শরীরে মাইক্রোপ্লাস্টিক, সিসা ও ক্যাডমিয়ামের মতো ক্ষতিকর উপাদান পাওয়ার বিষয়টি গভীর উদ্বেগের কারণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, নদী ও পরিবেশ রক্ষা শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়, বরং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ ও সচেতনতা ছাড়া এটি সম্ভব নয়। নদীদূষণ বন্ধ করা একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় কর্তব্য।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সম্পর্কে তিনি বলেন, এই মন্ত্রণালয় কেবল গবাদিপশু বা হাঁস-মুরগির বিষয়েই কাজ করে না, বরং কুকুর-বিড়ালসহ সব প্রাণীর সুরক্ষা নিশ্চিত করাও এর দায়িত্বের অংশ। কুকুরের নিয়মিত টিকা না থাকলে জলাতঙ্কসহ ভয়াবহ রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে। সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পেট কার্নিভালে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ভ্যাকসিন ও চিকিৎসাসেবা প্রদান তারই উদাহরণ।
শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য বিষয়ে সতর্ক করে ফরিদা আখতার বলেন, ধূমপান ও তামাক সেবন শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। অনেক তরুণ-তরুণী মনে করে সিগারেট খেলে তারা আধুনিক বা স্মার্ট দেখাবে, কিন্তু বাস্তবে এটি হৃদরোগ, ক্যানসারসহ নানা জটিল রোগের প্রধান কারণ। এ প্রসঙ্গে তিনি জানান, ধূমপান ও তামাক নিয়ন্ত্রণে সম্প্রতি একটি আইন কার্যকর করা হয়েছে, যা সবাইকে মানতে হবে।
দেশের সম্পদ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ কোনো দরিদ্র দেশ নয়। আমাদের রয়েছে দক্ষ মানবসম্পদ, উর্বর জমি, সুপেয় পানি, উন্নত বীজ ও মূল্যবান জেনেটিক সম্পদ। ভবিষ্যতে বিশ্বে সংঘাত হতে পারে পানি, খাদ্য বা প্রাকৃতিক সম্পদকে কেন্দ্র করে। তাই এসব সম্পদ রক্ষা করা তরুণ প্রজন্মের বড় দায়িত্ব।
তিনি তরুণদের দুর্নীতি, পরিবেশ দূষণ এবং ক্ষতিকর সামাজিক অভ্যাসের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুস্থ, নিরাপদ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলাই সবার সম্মিলিত দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে আশা ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম রেজাউল করিম স্বাগত বক্তব্য দেন। সমাবর্তন বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন। এছাড়া বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য ও চেয়ারম্যানের প্রতিনিধি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফারুক এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বক্তব্য দেন।
সমাবর্তনে প্রায় চার হাজার শিক্ষার্থীকে ডিগ্রি প্রদান করা হয়। এর মধ্যে স্নাতক পর্যায়ে ২ হাজার ৯৬ জন এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ে ১ হাজার ৯০০ জন শিক্ষার্থী ছিলেন। কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফলের জন্য ছয়জন শিক্ষার্থীকে চ্যান্সেলরস অ্যাওয়ার্ড এবং নয়জনকে ভাইস-চ্যান্সেলরস অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


