মানুষের পার্থিব জীবন চিরস্থায়ী নয়; তবে এই ক্ষণস্থায়ী জীবনে প্রশান্তি ও স্থিরতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ জীবনের অভাব-অনটন ও জীবিকার দুশ্চিন্তা অনেক সময় মানুষকে ইবাদত থেকে বিমুখ করে তোলে এবং আল্লাহর স্মরণে অমনোযোগী করে দেয়। তাই কোরআন ও হাদিসে আল্লাহ তাআলা বান্দাদের জন্য জীবিকা প্রশস্ত হওয়ার দোয়া ও বিভিন্ন আমলের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।

কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে জীবিকা বৃদ্ধি ও বরকত লাভের ১০টি গুরুত্বপূর্ণ আমল তুলে ধরা হলো—
১. তাকওয়া বা আল্লাহভীতি অবলম্বন করা
জীবিকা বৃদ্ধি ও আয়ে বরকতের অন্যতম চাবিকাঠি হলো আল্লাহভীতি। মহান আল্লাহ বলেন, যে ব্যক্তি তাঁকে ভয় করে চলবে, আল্লাহ তার জন্য উত্তরণের পথ খুলে দেবেন এবং এমন জায়গা থেকে তাকে রিজিক দেবেন, যা সে কল্পনাও করেনি। (সুরা তালাক: ২–৩)
আরেক আয়াতে বলা হয়েছে, যদি জনপদের মানুষ ঈমান ও তাকওয়া অবলম্বন করত, তবে আকাশ ও জমিনের বরকত তাদের জন্য খুলে দেওয়া হতো। (সুরা আরাফ: ৯৬)
২. নিয়মিত তাওবা ও ইস্তিগফার করা
মানুষ ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। পাপ মানুষের রিজিক সংকুচিত করে দেয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, বান্দা তার পাপের কারণে অনেক সময় জীবিকা থেকে বঞ্চিত হয়।
কিন্তু বান্দা যখন আন্তরিকভাবে তাওবা করে, তখন আল্লাহ তার সংকট দূর করে দেন। আল্লাহ বলেন, তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা চাও ও তাঁর দিকে ফিরে আসো—তিনি তোমাদের ওপর অনুগ্রহ বর্ষণ করবেন। (সুরা হুদ: ৫২)
৩. আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা
আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করা জীবিকা বৃদ্ধির একটি বড় মাধ্যম। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি তার রিজিক বাড়াতে চায় এবং মৃত্যুর পর সুনাম কামনা করে, সে যেন আত্মীয়তার সম্পর্ক অটুট রাখে।
আত্মীয়তার হক আদায়ের মধ্যে রয়েছে—খোঁজখবর নেওয়া, সাহায্য করা, সাক্ষাৎ করা, ভালোবাসা প্রকাশ করা ও তাদের জন্য দোয়া করা।
৪. আল্লাহর পথে ব্যয় করা
আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে দান-সদকা করলে জীবিকা কমে না; বরং তা আরও বৃদ্ধি পায়। আল্লাহ বলেন, তোমরা যা কিছু ব্যয় করো, তিনি তার উত্তম প্রতিদান দেন। (সুরা সাবা: ৩৯)
হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ বলেন, “তুমি ব্যয় করো, আমি তোমাকে দান করব।”
৫. দুর্বল ও অসহায়দের সহায়তা করা
দুর্বল ও অসহায়দের পাশে দাঁড়ানো জীবিকা লাভের একটি বড় কারণ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমরা দুর্বলদের কারণেই রিজিক ও সাহায্য পেয়ে থাকো।
৬. মনোযোগ ও একাগ্রতার সঙ্গে ইবাদত করা
যে ব্যক্তি একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর ইবাদতে নিজেকে নিয়োজিত রাখে, আল্লাহ তার অভাব দূর করে দেন। হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ বলেন, তুমি আমার ইবাদতের দিকে মন দাও—আমি তোমার অন্তরকে তৃপ্ত করব এবং তোমার প্রয়োজন পূরণ করব।
৭. আল্লাহর নিয়ামতের কৃতজ্ঞতা আদায় করা
কৃতজ্ঞতা আদায় করলে আল্লাহ তাঁর অনুগ্রহ বাড়িয়ে দেন। কোরআনে স্পষ্ট ঘোষণা এসেছে—তোমরা কৃতজ্ঞ হলে আমি তোমাদের আরও দেব। (সুরা ইবরাহিম: ৭)
৮. বিয়ে করা
বিয়ে মানুষের জীবনে স্থিতিশীলতা আনে এবং রিজিক প্রশস্ত হওয়ার কারণ হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন, তারা দরিদ্র হলে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদের সচ্ছল করে দেবেন। (সুরা নুর: ৩২)
৯. হজ ও ওমরাহ আদায় করা
হজ ও ওমরাহ অভাব দূর করে এবং পাপ মোচন করে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, হজ ও ওমরাহ দারিদ্র্য দূর করে দেয়, যেমন আগুন লোহার মরিচা দূর করে।
১০. হালাল জীবিকার জন্য চেষ্টা ও পরিশ্রম করা
শুধু দোয়া নয়, জীবিকার জন্য চেষ্টা করাও জরুরি। নামাজ শেষে পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে আল্লাহর অনুগ্রহ অন্বেষণের নির্দেশ দিয়েছেন আল্লাহ। (সুরা জুমা: ১০)
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, নিজ হাতে উপার্জিত খাদ্যের চেয়ে উত্তম খাদ্য আর নেই।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


