পানি পান করার কিছু সময় পরে প্রস্রাব হওয়া অনেক সময় স্বাভাবিক, বিশেষ করে যদি শরীর পানিশূন্য থাকে বা অল্প সময়ে বেশি পানি পান করা হয়। তবে অল্প পানি পান করার পরও যদি নিয়মিত ১০–১৫ মিনিট পরপর প্রস্রাবের বেগ আসে, তাহলে বিষয়টি পরীক্ষা করানো প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ভারতের থানে অবস্থিত কিমস হাসপাতালের কনসালট্যান্ট ইউরোলজিস্ট ডা. আকিল খান বলেন, ‘‘ঘন ঘন প্রস্রাবের প্রবণতা কখনো কখনো মূত্রথলি বা মূত্রতন্ত্রের অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়ার ইঙ্গিত হতে পারে।’’
সম্ভাব্য কারণ
ঘন ঘন প্রস্রাবের একটি সাধারণ কারণ হলো ওভারঅ্যাকটিভ ব্লাডার—যেখানে মূত্রথলির পেশি প্রয়োজনের তুলনায় বেশি সংকুচিত হয়, ফলে থলি পূর্ণ না হলেও প্রস্রাবের তাগিদ অনুভূত হয়। এ ছাড়া আরও কিছু কারণ হতে পারে—মূত্রনালির সংক্রমণ (ইউটিআই), চা, কফি বা অ্যালকোহলের কারণে মূত্রথলির উত্তেজনা, অনিয়ন্ত্রিত রক্তে শর্করার মাত্রা, উদ্বেগ বা মানসিক চাপের কারণে মূত্রথলির সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি এবং অল্প সময়ে অতিরিক্ত পানি পান করা।
বিশেষজ্ঞের মতে, ‘‘একসঙ্গে বেশি পানি পান করলে কিডনি দ্রুত অতিরিক্ত পানি ছেঁকে বের করে দেয়, ফলে অল্প সময়ের ব্যবধানে প্রস্রাবের বেগ বাড়ে। তাই সারাদিনে পানি ধীরে ধীরে ভাগ করে পান করলে এ সমস্যা কমতে পারে।’’
ঘন ঘন প্রস্রাবের সঙ্গে যদি নিচের উপসর্গগুলো দেখা যায়, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত—
প্রস্রাবে জ্বালা বা ব্যথা
প্রস্রাবে রক্ত দেখা যাওয়া
তলপেটে অস্বস্তি বা ব্যথা
জ্বর
হঠাৎ তীব্র প্রস্রাবের চাপ
রাতে বারবার প্রস্রাবের জন্য ঘুম ভেঙে যাওয়া
এসব উপসর্গ সংক্রমণ, ব্লাডারের প্রদাহ, পুরুষদের ক্ষেত্রে প্রোস্টেট সমস্যা বা ডায়াবেটিসের মতো বিপাকজনিত রোগের ইঙ্গিত হতে পারে।
বয়স ও মানসিক চাপের প্রভাব
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মূত্রথলির ধারণক্ষমতা ও নিয়ন্ত্রণে পরিবর্তন আসতে পারে। একইভাবে মানসিক চাপ বা উদ্বেগও মূত্রথলিকে বেশি সংবেদনশীল করে তোলে, এর ফলে প্রকৃতপক্ষে প্রস্রাবের পরিমাণ না বাড়লেও বারবার প্রস্রাবের বেগ অনুভূত হতে পারে।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
কী করলে উপকার মিলতে পারে
দিনে কতটুকু এবং কী গতিতে পানি পান করছেন, তা নজরে রাখুন। চা, কফি ও কার্বোনেটেড পানীয় গ্রহণ কমান। নির্দিষ্ট সময় অন্তর প্রস্রাবের অভ্যাস গড়ে তুলুন। অযথা “সেফটি হিসেবে” বারবার বাথরুমে যাওয়া এড়িয়ে চলুন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পানি খাওয়ার পর ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া সবসময় রোগের লক্ষণ নয়। তবে সমস্যা যদি দীর্ঘদিন ধরে থাকে বা দৈনন্দিন জীবনে ব্যাঘাত ঘটায়, তাহলে দ্রুত পরীক্ষা করানোই সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত।
সূত্র: ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


