মঙ্গল গ্রহে একসময় পানি ছিল—এই ধারণা নতুন নয়। তবে নাসার সাম্প্রতিক এক আবিষ্কারে সেই ধারণা আরও জোরালো প্রমাণ পেল। মঙ্গলে অনুসন্ধানে নিয়োজিত পারসিভিয়ারেন্স রোভার সেখানে একটি প্রাচীন সমুদ্রতট বা সৈকতের স্পষ্ট চিহ্ন শনাক্ত করেছে।

বিজ্ঞানীদের মতে, প্রায় ৩৫০ কোটি বছর আগে মঙ্গলে একটি বিশাল হ্রদ ছিল। বর্তমানে যে গঠনটি পাওয়া গেছে, সেটি সেই হ্রদের তীরবর্তী এলাকার অংশ। এই গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারটি হয়েছে মঙ্গলের জেজেরো ক্রেটারে, যেখানে পারসিভিয়ারেন্স রোভার ২০২১ সাল থেকে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে আসছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, ওই এলাকায় ছোট ছোট গোলাকার পাথর ছড়িয়ে আছে, যা দেখতে অনেকটা বালুকণার মতো। সাধারণত পানির ঢেউয়ের প্রভাবে দীর্ঘ সময় ধরে পাথর ঘষা খেলে এমন আকার তৈরি হয়। এ থেকেই ধারণা করা হচ্ছে, সেখানে একসময় শান্ত ও স্থায়ী জলাশয় ছিল এবং পানি দীর্ঘকাল ধরে সক্রিয় ছিল।
এই গবেষণার নেতৃত্ব দিয়েছে যুক্তরাজ্যের ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের একদল বিজ্ঞানী। তাঁদের গবেষণার ফলাফল একটি আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।
বিজ্ঞানীরা জানান, পৃথিবীতে নদী, হ্রদ বা সমুদ্রের তীরবর্তী এলাকায় জীবনের উদ্ভব তুলনামূলকভাবে সহজ হয়, কারণ সেখানে পানির প্রাচুর্য থাকে। মঙ্গলেও যদি এমন পরিবেশ বিদ্যমান থেকে থাকে, তাহলে অতীতে সেখানে অণুজীব বা ক্ষুদ্র জীবনের অস্তিত্ব থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
এ ছাড়া গবেষণায় আরও ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে, শুধু ভূপৃষ্ঠে নয়, মাটির গভীরেও একসময় পানি প্রবাহিত হতো। দীর্ঘ সময় ধরে এই পানির চলাচল পাথরের ভেতরের গঠন পরিবর্তন করেছে। পৃথিবীতে এমন পরিবেশে অনেক ক্ষেত্রেই জীবাণুর অস্তিত্ব পাওয়া যায়।
বর্তমানে পারসিভিয়ারেন্স রোভার মঙ্গল থেকে পাথর ও মাটির নমুনা সংগ্রহ করছে। ভবিষ্যতে এসব নমুনা পৃথিবীতে এনে বিশদভাবে বিশ্লেষণ করা হবে। তখন হয়তো নিশ্চিতভাবে জানা যাবে—মঙ্গল গ্রহে একসময় সত্যিই প্রাণের অস্তিত্ব ছিল কি না।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


