সাইফুল ইসলাম : প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব মোহাম্মদ শফিকুল আলমের বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ ব্যয় করে ব্যক্তিগত ভ্রমণের অভিযোগ উঠেছে।

শুক্রবার বিকেলে তিনি সস্ত্রীক মানিকগঞ্জের গড়পাড়া ইমামবাড়ি দরবার শরীফ পরিদর্শনে যান। তার প্রকাশিত সফরসূচি অনুযায়ী, ওইদিন তিনি ঢাকার ধামরাই উপজেলার বাটুলিয়া বুচাই পাগলার মাজার এবং মানিকগঞ্জের গড়পাড়া পীরবাড়ি পরিদর্শন করার কথা ছিল। সফরের অংশ হিসেবে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং মানিকগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সূচিও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
সফরসূচিতে প্রেস সচিবের এ সফরকে ‘সরকারি সফর’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এতে তিনি বরাদ্দকৃত সরকারি জিপ গাড়ি (ঢাকা মেট্রো য-১১-০৩৮৩) ব্যবহার করেন বলে জানানো হয়।

তবে গড়পাড়া ইমামবাড়িতে প্রেস সচিবের সফরকালে কোনো ধরনের সরকারি কার্যক্রম পরিচালনা করতে দেখা যায়নি। সেখানে তিনি শুধুমাত্র দরগাহ শরীফ পরিদর্শন ও মাজার জিয়ারত করেন।
এ বিষয়ে প্রেস সচিব মোহাম্মদ শফিকুল আলম বলেন, “এটি আমার ব্যক্তিগত সফর, আবার একই সঙ্গে সরকারি সফরও বলা যায়। কারণ এই সফরের মাধ্যমে আমি মাজার-দরগাহ শরীফ পরিদর্শন করেছি এবং আপনাদের সঙ্গে কথা বলেছি। এটিও সরকারি কাজেরই অংশ।”
নির্বাচনের পর ‘সেফ এক্সিট’ নিয়ে গুঞ্জন প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কারও সেফ এক্সিটের প্রশ্নই ওঠে না। আমরা এমন কোনো কাজ করিনি, যার জন্য হাসিনার মতো পালাতে হবে। যারা এসব প্রশ্ন তুলছে, তাদের মোটিভ নিয়ে আমার সন্দেহ আছে। আমি বাংলাদেশে জন্মেছি—এ নিয়ে আমি গর্বিত। আমি বাংলাদেশেই থাকবো, এই মাটিতেই থাকবো। আল্লাহ রিজিকের মালিক, যে চাকরি পাবো, সেটাই করবো।”

সরকারিভাবে ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারণা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “যারা এ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, তারা কি ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড বা তুরস্কে গণভোটের সময় কী হয়েছে তা দেখেছেন? সব দেশেই গণভোট হলে সরকার একটি অবস্থান নেয়। সরকার জনগণকে বলে—আমরা এটা বিশ্বাস করি, আপনারা এতে ভোট দিন। বর্তমান সরকার কেন ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সিল দিতে বলছে, সে বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার ফেসবুক পেজ থেকেই ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।”

গ্রামাঞ্চলে গণভোটের প্রচারণা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “উপদেষ্টারা জেলা ও উপজেলায় যাচ্ছেন। আগে ভোটের গাড়ি ছিল ১০টি, এখন তা বেড়ে ৩০টিতে দাঁড়িয়েছে। এসব গাড়ি জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে যাচ্ছে। দেশের ৪৯৫টি উপজেলায় এই ভোটের গাড়ি যাবে। এতে আমরা অভূতপূর্ব সাড়া পাচ্ছি।”
নির্বাচন নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই দাবি করে প্রেস সচিব বলেন, “বড় রাজনৈতিক দলগুলো এখন ক্যাম্পেইনে ব্যস্ত। যেখানে যাচ্ছেন, সেখানে হাজার হাজার, এমনকি লাখো মানুষ জড়ো হচ্ছে। গত ১৬ বছরে মানুষ ভালো নির্বাচন দেখেনি। সকালে এসে অনেকেই দেখেছে তাদের ব্যালট আগেই চুরি হয়ে গেছে, চোখের সামনে ব্যালট বাক্স নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পুলিশ বলেছে—তোমার আসার দরকার নেই। এবার মানুষ আসন্ন নির্বাচনের জন্য মুখিয়ে আছে। ক্যাম্পেইনের পর বিশাল বিশাল র্যালি হচ্ছে, বিপুল মানুষের অংশগ্রহণ দেখা যাচ্ছে। এসবই ইঙ্গিত দিচ্ছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে একটি সুন্দর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।”

সাংবাদিকদের অধিকার ও মিডিয়া সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সম্প্রতি তথ্য অধিকার আইনের কিছু বিষয় আরও সহজ করা হয়েছে। সূচিপত্র কীভাবে হবে, রিপোর্ট কীভাবে করবেন এবং তথ্যের ওপর অধিকার কীভাবে প্রতিষ্ঠা করবেন—এসব বিষয়ে একটি অধ্যাদেশ পাস হয়েছে। এই সরকার ১৮ মাস ধরে দায়িত্বে রয়েছে। এ স্বল্প সময়ে সবকিছু করা সম্ভব নয়। ভালো একটি রাস্তা নির্মাণ করতেও পাঁচ বছর সময় লাগে। তবে এই সময়ে যেগুলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল, সরকার সেগুলো যথাসাধ্য গুরুত্বের সঙ্গে বাস্তবায়ন করেছে।”
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


