প্রস্রাবে সামান্য জ্বালাপোড়া, রাতে বারবার টয়লেটে যাওয়া বা হালকা কোমর ব্যথাকে অনেকেই সাধারণ সমস্যা ভেবে উপেক্ষা করেন। কেউ এগুলোকে পানিশূন্যতা, বয়সজনিত সমস্যা, মানসিক চাপ বা সামান্য সংক্রমণের ফল বলে ধরে নেন। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, শরীর অনেক সময় এমন সাধারণ উপসর্গের মাধ্যমেই বড় রোগের আগাম সতর্ক সংকেত দেয়।

মূত্রনালির বিভিন্ন ক্যানসার—যেমন ব্লাডার, কিডনি, প্রোস্টেট বা ইউরেটারের ক্যানসার—প্রাথমিক পর্যায়ে নীরবে শুরু হতে পারে। শুরুতে উপসর্গগুলো খুবই সূক্ষ্ম থাকে, ফলে সহজেই নজর এড়িয়ে যায়। দীর্ঘদিন এসব লক্ষণ উপেক্ষা করলে রোগ শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়তে পারে, তখন চিকিৎসা হয়ে ওঠে আরও জটিল, ব্যয়বহুল এবং কষ্টসাধ্য।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ক্যানসার ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, ব্লাডার ও কিডনি ক্যানসার প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা গেলে শরীরে ছড়িয়ে পড়ার আগেই চিকিৎসায় সফলতার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে।
চিকিৎসকদের মতে, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সতর্ক লক্ষণগুলোর একটি হলো প্রস্রাবে রক্ত যাওয়া। এটি একবার হলেও ঘটলে, এমনকি ব্যথা না থাকলেও বিষয়টিকে অবহেলা করা ঠিক নয়। এর পাশাপাশি আরও কিছু লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি হতে পারে—যেমন ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া, প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া, প্রস্রাব নিয়ন্ত্রণে সমস্যা, দুর্বল প্রবাহ, রাতে বারবার প্রস্রাবের চাপ এবং তলপেট বা পিঠে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা।
ভারতের শারদাকেয়ার হেলথসিটির রেডিয়েশন অনকোলজি বিভাগের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. অনিল থাকওয়ানি বলেন, অনেকেই এসব উপসর্গকে সাধারণ সংক্রমণ বা বয়সজনিত সমস্যা মনে করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে থাকা এসব লক্ষণ কখনো কখনো ব্লাডার, কিডনি, প্রোস্টেট বা ইউরেটার ক্যানসারের প্রাথমিক ইঙ্গিত হতে পারে। দেরিতে রোগ শনাক্ত হলে চিকিৎসা কঠিন হয়ে যায় এবং সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনাও কমে যায়।
তিনি আরও জানান, এসব উপসর্গ অনেক সময় সাধারণ ইউরিন ইনফেকশন বা প্রোস্টেট বড় হওয়ার লক্ষণের মতো মনে হওয়ায় বিভ্রান্তি তৈরি হয়। তাই সময়মতো পরীক্ষা করা জরুরি। প্রস্রাব পরীক্ষা, ইমেজিং স্ক্যান বা সিস্টোস্কোপির মাধ্যমে প্রকৃত কারণ জানা সম্ভব।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (সিডিসি) নির্দেশিকাতেও শরীরের অস্বাভাবিক পরিবর্তন গুরুত্ব দিয়ে দেখা এবং দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
দেরিতে রোগ ধরা পড়লে ঝুঁকি কেন বাড়ে, সে বিষয়ে চিকিৎসকেরা জানান, আধুনিক চিকিৎসা উন্নত হলেও রোগ শনাক্তের সময় এখনও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে অস্ত্রোপচার, রেডিয়েশন থেরাপি বা লক্ষ্যভিত্তিক চিকিৎসার মাধ্যমে রোগ নিয়ন্ত্রণ করা তুলনামূলক সহজ হয়। কিন্তু ক্যানসার ছড়িয়ে পড়লে চিকিৎসা জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি হয়ে যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ৫০ বছরের বেশি বয়সী ব্যক্তি, ধূমপায়ী, রাসায়নিক কারখানায় কাজ করা মানুষ এবং যাদের পরিবারে মূত্রনালির ক্যানসারের ইতিহাস রয়েছে, তারা বেশি ঝুঁকিতে থাকেন।
চিকিৎসকদের পরামর্শ, প্রস্রাবজনিত উপসর্গকে লজ্জা বা অবহেলার কারণে দীর্ঘদিন চাপা রাখা উচিত নয়। শরীরের ছোট পরিবর্তনকেও গুরুত্ব দিয়ে দেখা এবং সময়মতো পরীক্ষা করানোই বড় রোগ প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



