টালিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিককে ঘিরে কয়েকদিন ধরেই রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা জল্পনা চলছিল। অবশেষে সেই গুঞ্জনের সত্যতা মিলেছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) তিনি রাজ্যসভার সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করেছেন বলে জানা গেছে।

এর আগে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সদস্য সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব ও প্রকাশ চিক বরাইকও পদত্যাগপত্র জমা দেন। তাদের পরই কোয়েল মল্লিকের পদত্যাগের খবর সামনে আসে।
ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোয়েলের পদত্যাগের ফলে রাজ্যসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্য সংখ্যা ১৩ থেকে কমে ৯-এ নেমে এসেছে। একই সঙ্গে দলটির আরও কয়েকজন সদস্য পদত্যাগ করতে পারেন বলেও আলোচনা চলছে।
রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে দলের পরাজয়ের পর থেকেই তৃণমূলের অভ্যন্তরে অস্থিরতা ও বিভক্তির আভাস পাওয়া যাচ্ছে। জানা গেছে, ঋতব্রত ব্যানার্জির নেতৃত্বে দলের একটি অংশ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব থেকে দূরত্ব তৈরি করেছে। ওই গোষ্ঠীর দাবি, তাদের সঙ্গে বর্তমানে ৬৪ জন বিধায়ক রয়েছেন।
শুধু বিধানসভাই নয়, লোকসভাতেও তৃণমূলের একটি অংশ আলাদা অবস্থান নিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে প্রায় ২০ জন সাংসদ এনডিএ জোটে যোগদানের আগ্রহ প্রকাশ করে চিঠি দিয়েছেন বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
রাজ্যসভায় ভাঙনের ধরন কিছুটা ভিন্ন। সেখানে একসঙ্গে বড় সংখ্যায় দলত্যাগ করা কঠিন হওয়ায় ধাপে ধাপে পদত্যাগের পথ বেছে নিচ্ছেন অসন্তুষ্ট সদস্যরা বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারিতে তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যসভার নির্বাচনের জন্য যে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছিল, সেখানে কোয়েল মল্লিকের নামও ছিল। রাজীব কুমার, বাবুল সুপ্রিয় ও মেনকা গুরুস্বামীর পাশাপাশি তিনি মনোনয়ন পান। পরে এপ্রিল মাসে দিল্লিতে রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।
শপথ নেওয়ার পর কোয়েল মল্লিক বলেছিলেন, রাজনীতিতে আসার সিদ্ধান্তটি তিনি দায়িত্ববোধ থেকেই নিয়েছেন। দেশ ও মানুষের সেবা করার সুযোগকে তিনি একটি মহৎ দায়িত্ব হিসেবে দেখেছিলেন।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



