রমজানে দীর্ঘ সময় না খেয়ে এবং পানি না পান করে থাকার কারণে শরীর স্বাভাবিকভাবেই ক্লান্ত হয়ে পড়ে। অনেকেই ফিট থাকার জন্য জিমে ভারী ব্যায়াম করতে চান। তবে প্রশ্ন হলো – রোজা রাখার সময় একই মাত্রার ভারী ব্যায়াম করা কি নিরাপদ?

ফিটনেস বিশেষজ্ঞদের মতে, রোজায় ভারী ও উচ্চমাত্রার ব্যায়ামের পরিবর্তে ইয়োগা একটি কার্যকর এবং নিরাপদ বিকল্প হতে পারে। কারণ ইয়োগা শরীরকে সক্রিয় রাখে, কিন্তু অতিরিক্ত পানিশূন্যতা বা উচ্চ রক্তচাপে ফেলে না।
কেন ভারী জিম ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে?
দীর্ঘ সময় পানি না খেলে শরীরে পানিশূন্যতার (ডিহাইড্রেশন) ঝুঁকি বেড়ে যায়। ভারী জিম করলে ঘামের মাধ্যমে আরও পানি ও ইলেক্ট্রোলাইট বের হয়ে যায়। এতে মাথা ঘোরা, দুর্বলতা বা রক্তচাপের ওঠানামা দেখা দিতে পারে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানায়, ডিহাইড্রেশন শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ও রক্ত চলাচলে প্রভাব ফেলে। তাই রোজার সময় ব্যায়ামের ধরন বেছে নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ইয়োগা কীভাবে সহায়ক?
ইয়োগা কম-ইমপ্যাক্ট ব্যায়াম। এতে ধীরগতির স্ট্রেচিং, শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণ এবং হালকা পেশিচর্চা থাকে। ২০–৩০ মিনিটের একটি সেশন পেশিকে সচল রাখে, রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখে, শরীরের তাপমাত্রা হঠাৎ বাড়তে দেয় না এবং মানসিক চাপও কমায়।
হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের প্রকাশনায় উল্লেখ আছে, ইয়োগা স্ট্রেস হরমোন কমাতে এবং মানসিক স্থিতি বাড়াতে সাহায্য করে।
ইফতারের আগে না পরে?
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, ইফতারের আগে হালকা ইয়োগা করলে শরীর অতিরিক্ত ক্লান্ত হয় না এবং ইফতারের পর হজমেও সহায়ক হয়। এছাড়া ইফতারের ১–২ ঘণ্টা পরেও হালকা সেশন করা যেতে পারে।
আমেরিকান কলেজ অব স্পোর্টস মেডিসিন পরামর্শ দেয়, রোজার সময় বা গরম আবহাওয়ায় ব্যায়ামের তীব্রতা কমানো উচিত।
ইবাদতেও মনোযোগ বাড়ে
ইয়োগার শ্বাস-প্রশ্বাস অনুশীলন বা প্রণায়াম স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত রাখে। ফলে মনোযোগ ও একাগ্রতা বাড়ে, যা নামাজ বা অন্যান্য ইবাদতে সহায়তা করে।
রমজান হলো আত্মসংযমের মাস। এই সময়ে ফিটনেস রুটিনও হতে পারে সংযত ও সচেতন। ভারী জিমের বদলে হালকা ইয়োগা শরীরকে সক্রিয় রাখে, পানিশূন্যতার ঝুঁকি কমায় এবং মানসিক প্রশান্তি দেয়। মনে রাখবেন, ফিটনেস মানেই সব সময় বেশি ঘাম ঝরানো নয় – সঠিক সময়ে সঠিক ব্যায়াম করাই আসল কৌশল।
সূত্র: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুল, আমেরিকান কলেজ অব স্পোর্টস মেডিসিন
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


