সাইফুল ইসলাম : মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার নবগ্রাম ইউনিয়নের পাছবারইল গ্রামে নদী শাসন প্রকল্পের মাটি অবৈধভাবে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির সাবেক যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. আজম আলী এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতা শামছুর রহমান চানুর বিরুদ্ধে।

রোববার (৫ জুলাই) বিকেলে সরেজমিনে পাছবারইল জামে মসজিদের সামনে গিয়ে দেখা যায়, মসজিদের পাশের একটি স্থানে স্তূপ করে রাখা মাটি ভেকু দিয়ে কেটে ড্রাম ট্রাকে বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হচ্ছে। প্রতি গাড়ি মাটি ২ হাজার ২০০ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে বলে স্থানীয়রা জানান। মাটিবাহী ট্রাকের জন্য আজম মেম্বারের সিলযুক্ত স্লিপ বিতরণ করতে দেখা যায় আওয়ামী লীগ নেতা শামছুর রহমান চানুকে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কালীগঙ্গা নদীর পাছবারইল অংশে নদী শাসন প্রকল্পের কাজ চলাকালে উত্তোলিত মাটি মসজিদের পাশের একটি জমিতে স্তূপ করে রাখা হয়েছিল। অভিযোগ রয়েছে, কোনো ধরনের সরকারি অনুমতি বা টেন্ডার ছাড়াই সেই মাটি বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে। মসজিদ ও কবরস্থানে মাটি দেওয়ার কথা বলা হলেও বাস্তবে বিভিন্ন স্থানে অর্থের বিনিময়ে মাটি সরবরাহ করা হচ্ছে। মাটি বিক্রির অর্থের একটি অংশ মসজিদে দেওয়ার কথা বলা হলেও অধিকাংশ অর্থ নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে মসজিদ কমিটির সভাপতি ও আওয়ামী লীগ নেতা শামছুর রহমান চানু বলেন, “মাটি বিক্রির অর্থের একটি অংশ মসজিদের তহবিলে দেওয়া হবে। যেখানে মাটি রাখা হয়েছে, সেই জমির মালিককেও কিছু দেওয়া হবে। বাকি বিষয়টি আজম মেম্বার বলতে পারবেন।”
ইউপি সদস্য ও বিএনপি নেতা আজম আলী বলেন, “নদীতে ব্লক ফেলার সময় মসজিদের জমির মাটি কেটে এখানে রাখা হয়েছিল। এই মাটি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার বা বিক্রি করা হচ্ছে না। আশপাশের মসজিদ ও কবরস্থানে দেওয়া হচ্ছে। প্রতি গাড়ি মাটির জন্য ২ হাজার ২০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে এবং সেই অর্থ ধর্মীয় কাজে ব্যয় করা হবে।”
এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নবগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক রিক্তা খাতুন বলেন, “বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
মানিকগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আক্তারুজ্জামান বলেন, “নদী শাসন প্রকল্পের মাটি বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। আমি লোক পাঠিয়ে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি।”
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



